📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খাতককে যতোটুকু দেয়া দেয়াল জরুরি

📄 খাতককে যতোটুকু দেয়া দেয়াল জরুরি


শাসক যখন দেউলিয়ার সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করে, তখন তার জীবন ধারণের জন্যে ন্যূনতম যা প্রয়োজন, তা তার জন্যে ছেড়ে দেয়া ওয়াজিব। যেমন তার বাড়িটি বিক্রয় করা যাবেনা। কেননা বাড়ি ছাড়া তো তার মাথা গোঁজার ঠাই নেই। অনুরূপ, তার সম্পত্তি থেকে ততোটুকু পরিমাণ ছেড়ে দেয়া জরুরি, যতোটুকু দিয়ে সে তার মত ব্যক্তির উপযোগী একজন চাকর রাখতে পারে। খাতক যদি ব্যবসায়ী হয়, তবে ব্যবসায়ের ন্যূনতম সম্বল তার জন্য ছেড়ে দিতে হবে। আর যদি সে পেশাদার হয়, তবে তার পেশার প্রয়োজনীয় সাজ-সর াম ও যন্ত্রপাতি তাকে ছেড়ে দিতে হবে। আর তার জন্য ও তার উপর নির্ভরশীলদের জন্যে তার মতো ব্যক্তির উপযোগী ন্যূনতম খাদ্য ও বস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
ইমাম শওকানি বলেন: খাতকের ও তার উপর নির্ভরশীলদের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য বাসস্থান, পরিধানের ও শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার বস্ত্র ও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয় ব্যতীত তার কাছে যা কিছু পাওয়া যায়, তার সব কিছু নেয়া পাওনাদারদের জন্য বৈধ। তার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি মুয়ায (রা) এর হাদিস উল্লেখপূর্বক বলেন: এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, পাওনাদাররা মুয়াযের পরিধানের পোশাক নিয়ে গেছে, তাকে তার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে বা তিনি ও তার উপর নির্ভরশীলরা তাদের জীবন ধারণের ন্যূনতম অবলম্বন ছেড়ে চলে গেছে। এ জন্যেই আমি বলেছি যে, এই জিনিসগুলো কোনো অবস্থায়ই খাতকের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া যাবেনা। এটা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদের মত। ইমাম শাফেয়ির মতে, তার বাড়ি এ অবস্থায় বিক্রয় করা যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নির্বোধের উপর হিজর

📄 নির্বোধের উপর হিজর


নির্বোধ ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তার নির্বুদ্ধিতা ও কান্ডজ্ঞানহীন তৎপরতার কারণে তার উপর হিত্র আরোপিত হবে। মহান আল্লাহ্ বলেন: وَلا تُؤْتُوا السُّفَمَاءَ أَمْوَ لَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللهُ لَكُمْ قِيماً .
'তোমাদের সম্পদ, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে উপজীবিকা করেছেন, তা নির্বোধদের হাতে অর্পণ করোনা।' (সূরা নিসা: আয়াত ৫)।
এ আয়াত দ্বারা নির্বোধ ব্যক্তির উপর হিজ়ের বৈধতা প্রমাণিত।
আল্লামা ইবনুল মুনন্যির বলেন: 'অধিকাংশ আলেমের মতে যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ নষ্ট করে, সে প্রাপ্তবয়স্ক হোক বা না হোক, তার উপর হি আরোপ করা হবে।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: বয়োপ্রাপ্তির সময় যে ব্যক্তি স্বাভাবিক বিবেকবুদ্ধির অধিকারী ছিলো, সে পরে নির্বোধ হয়ে গেলেও তার উপর হিজর আরোপ করা হবে না। তবে নিজের সম্পদ নষ্ট করতে দেখা গেলে. হিন্দ্র আরোপ করা হবে। সে ক্ষেত্রে তার বয়স পঁচিশ বছর না হওয়া পর্যন্ত তার কাছে তার সম্পত্তি অর্পণ করা হবেনা। পঁচিশ বছর হলে চাই সে নষ্ট করুক বা না করুক, তার সম্পত্তি তার কাছে অর্পণ করা হবে। ইমাম মালেক বলেন: বয়োপ্রাপ্ত হয়েও যদি স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা অর্জিত না হয়, বুড়ো হয়ে যাওয়ার পরও তার উপর হিজ থাকবে।
'নাইলুল আওতর' গ্রন্থে 'আল-বাহর' থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে: 'হিজরের যোগ্য নির্বুদ্ধিতা হলো পাপকার্যে কিংবা যে কাজে দুনিয়া বা আখেরাতের কোনো কল্যাণ নেই, এমন কাজে অর্থ ব্যয় করা, যেমন এক দিরহামের সামগ্রী একশো দিরহাম দিয়ে খরিদ করা। ভালো খাদ্য, ভালো পোশাক ও ভালো সুগন্ধী ইত্যাদি খরিদ করা কোনো নির্বুদ্ধিতার কাজ নয়। আল্লাহ্ সূরা আ'রাফের ৩২ নং আয়াতে বলেন: قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَتِ مِنَ الرِّزْقِ ۚ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَمَةِ.
'বলো, আল্লাহ্ স্বীয় বান্দাদের জন্য যে সব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে নিষিদ্ধ করেছে? বলো, পার্থিব জীবনে বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে এসমস্ত তাদের জন্য যারা ঈমান আনে। এরূপে আমি জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করি।' তদ্রূপ, ধনীর কার্যকলাপে খরচ করাও নির্বুদ্ধিতার লক্ষণ নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নির্বোধের কৃতকর্মসমূহ

📄 নির্বোধের কৃতকর্মসমূহ


হিজর আরোপের আগে নির্বোধ ব্যক্তি যে সব কাজ করে তা বৈধ ও কার্যকর। হিজর আরোপ করার পর তার নিজের সম্পত্তিতে আর কোনো হস্তক্ষেপ বৈধ হবে না। তার ক্রয়, বিক্রয়, ওয়াক্ফ বা স্বীকারোক্তি বৈধ ও কার্যকর হবে না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিজের বিরুদ্ধে নির্বোধের স্বীকারোক্তি

📄 নিজের বিরুদ্ধে নির্বোধের স্বীকারোক্তি


ইবনুল মুনযির বলেন: আমি যতো জন আলেমের মতামত স্মরণ রেখেছি, তারা সবাই একমত যে, নির্বোধ ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে ব্যভিচার, চুরি, মদপান, অপবাদ বা হত্যার স্বীকারোক্তি করলে তা বৈধ এবং তার উপর হদ্দ কার্যকর হবে। আর যদি তার কাছে কারো কোনো পাওনা আছে মর্মে স্বীকারোক্তি করে তবে তার উপর থেকে হিজর অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত তার কাছ থেকে তা দাবি করা যাবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00