📄 উমরা
সংজ্ঞা: উম্মা এক ধরনের হিবা, যা কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন ভোগ করার জন্যে দেয় এবং তার মৃত্যুর পর তা দাতার নিকট ফেরত আসে। এর জন্যে বিভিন্ন রকমের বাক্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন 'তোমাকে এ জিনিসটা জীবন সত্ত্ব দিলাম।' বা 'এই বাড়িটা আজীবন ভোগ দখলের জন্যে দিলাম'। রসূল (সা) দাতার মালিকানায় ফেরত আসার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যাকে দান করা হয় তার মৃত্যুর পর উক্ত দানকৃত সামগ্রী তার উত্তরাধিকারীদের মালিকানাভুক্ত হবে। উত্তরাধিকারী না থাকলে তা বাইতুল মালে যাবে। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই তা দানকারী বা হিবাকারীর নিকট ফেরত যাবেনা।
১. উরওয়া (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'উমরা যাকে দেয়া হয় তারই থাকবে।' (বুখারি, মুসলিম, আবুদাউদ ও নাসায়ি)।
৩. আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূল (সা) বলেন: 'উমরা বৈধ।' (বুখারি, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ি)।
৪. আবু সালমা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'উমরা যাকেই দেয়া হোক, তা তারই থাকবে এবং তার পরে তার উত্তরাধিকারীদের থাকবে। তা কখনো দাতার কাছে ফেরত যাবেনা। সে এমন জিনিস দিয়েছে, যার উপর উত্তরাধিকার বলবৎ হয়েছে।' (মুসলিম, আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজা)।
৫. আবুদাউদ তারেক মক্কী সূত্রে বর্ণনা করেন, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ বলেন: জনৈক আনসারী মহিলাকে তার ছেলে একটা খেজুরের বাগান দান করেছিল। অত:পর মহিলা মারা গেল। তখন ছেলেটি বললো: বাগানটি তো আমি মাকে আজীবন ভোগ করার জন্যে দিয়েছিলাম। তার কয়েকজন ভাই ছিলো। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ঐ বাগান মহিলার জীবনভর ভোগের জন্য এবং মৃত্যুর পরেও। সে বললো; আমি ওটা তাকে সক্কা করেছি। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: 'সেটি তোমার জন্যে আরো সুদূর পরাহত।' (সদকা করলে তো ফেরত পাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।) এটাই হানাফি, শাফেয়ি ও ইমাম আহমদের মত। ইমাম মালেক বলেন: উম্মা কোনো জিনিসের শুধু উপকারিতা ভোগ-দখলের জন্যে দেয়া হয়, মূল জিনিসের মালিকানা দেয়া হয় না। কেউ কাউকে উমরা দিলে সেটা শুধু তার আজীবন ভোগ দখলের জন্য, উত্তরাধিকার হিসাবে হস্তান্তরিত হবে না। তবে দাতা যদি উল্লেখ করে যে, ওটা তার ও তার উত্তরসূরীদের জন্যে, তাহলে তা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হবে। কিন্তু ইমাম মালেকের এই মত উল্লিখিত হাদিসের পরিপন্থী।