📄 হিবা ফেরত দেয়া
যারা সম আচরণ ওয়াজিব মনে করেন, তারা এর ধরন নির্ণয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। মুহাম্মদ, আহমদ, ইসহাক এবং শাফেয়ি ও মালেকি ফকিহদের কেউ কেউ বলেন: উত্তরাধিকারের ন্যায় পুরুষ সন্তানকে কন্যা সন্তানের দ্বিগুণ দেয়াই ন্যায়বিচার। তাদের যুক্তি এই যে, বাবা মারা গেলে তো সন্তানরা এ রকমই পেতো। অন্যদের মত হলো, ছেলে ও মেয়েতে কোনো পার্থক্য নেই। যেহেতু হাদিসে স্পষ্টভাবে সমতার উল্লেখ রয়েছে, তাই সমতাই শিরোধার্য।
হিবা ফেরত নেয়া: অধিকাংশ আলিমের মতে হিবা ফেরত নেয়া হারাম, চাই তা ভাইবোনদের বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই হোক না কেন। তবে পিতা সন্তানকে যা হিবা করে তা ফেরত নিতে পারে।
ইমাম মালেক বলেন: পিতা সন্তানকে দেয়া সামগ্রী ততক্ষণই ফেরত নিতে পারে, যতক্ষণ তা পরিবর্তিত না হয়। পরিবর্তিত হয়ে গেলে ফেরত নিতে পারবে না। ইমাম আবু হানিফা বলেন: শুধু রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় নয় এমন ব্যক্তিকে দেয়া সামগ্রী ফেরত নেয়া যায় না। ইমাম আবু হানিফার এ মত হাদিসের পরিপন্থী হওয়ায় শক্তিশালী নয়।
আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজা ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'কোনো ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ নয় যে, কাউকে কোনো সামগ্রী দান করার পর তা ফেরত নেবে। কেবল পিতা সন্তানকে দেয়া সামগ্রী ফেরত নিতে পারে। যে ব্যক্তি কাউকে কিছু দেয়ার পর তা ফেরত নেয় সে সেই কুকুরের মত, যে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ার পর বমি করে এবং পরক্ষণে তার বমি খেয়ে নেয়।' (তিরমিযি এ হাদিসকে সহিহ বলেন।) এ হাদিস থেকে আরো জোরদারভাবে প্রমাণিত হলো যে, সন্তান ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে প্রদত্ত সামগ্রী ফেরত নেয়া হালাল নয়।
অনুরূপ প্রতিদান পাওয়ার জন্যে যে হিবা করা হয়, তা প্রতিদান না পেলে ফেরত নেয়া যায়। সালেম বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যে ব্যক্তি কাউকে কোনো সামগ্রী হিবা করলো, সে যতোক্ষণ তার প্রতিদান না পায় ততোক্ষণ তা ফেরত পাওয়ার জন্যে সে অধিকতর হকদার।' ইবনুল কাইয়িম 'আলামুল মুকিইন' গ্রন্থে এই মতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন: 'শুধু সেই হিবাকারীর জন্যে হিবাকৃত জিনিস ফেরত নেয়া হারাম, যে কোনো রকম প্রতিদানের আশা ব্যতীতই হিবা করে। যে হিবাকারী প্রতিদান লাভের জন্যে হিবা করে এবং প্রতিদান পায়না, সে তার হিবাকৃত জিনিস ফেরত নিতে পারে। রসূলুল্লাহ (সা) এর সুন্নাত পুরোপুরিভাবে পালন করা উচিত, আংশিকভাবে নয়।'
📄 যে সকল হিবা ও হাদিয়া ফেরত নেয়া যায় না
১. ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: তিনটি হিবা ফেরত নেয়া যায়না: বালিশ, সুগন্ধি দ্রব্য ও দুধ। (তিরমিযি)।
২. আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (SAW) বলেন: যাকে কোনো ফুল দেয়া হয় সে যেন তা ফেরত না দেয়। কারণ তা সহজে বহনযোগ্য এবং সুগন্ধিযুক্ত। -মুসলিম।
৩. আনাস (রা) বলেন: রসুলুল্লাহ (সা) কোনো সুগন্ধি প্রত্যাখ্যান করতেন না।
📄 হাদিয়াদাতার প্রশংসা করা ও তার জন্য দোয়া করা
১. আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণিত, রসূল (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা। (আহমদ, তিরমিযি)।
২. জাবির (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তিকে কোনো উপহার দেয়া হয়, সে যদি তার প্রতিদান দিতে সক্ষম হয় তবে তা দেয়া উচিত। আর সক্ষম না হলে তার প্রশংসা করা ও ধন্যবাদ দেয়া উচিত। যে প্রশংসা করে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যে প্রশংসা গোপন করে সে অকৃতজ্ঞ। আর যে ব্যক্তি এমন জিনিস দ্বারা সাজসজ্জা করে যা তাকে দেয়া হয়নি, সে যেন প্রতারণার পোশাক পরে। (আবুদাউদ, তিরমিযি)।
৩. উসামা ইবনে যায়দ (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যার প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করা হলো এবং সে সৌজন্য প্রকাশকারীকে বললেন: আল্লাহ্ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন সে প্রচুর প্রশংসা করলো। (তিরমিযি)।
৪. আনাস (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) মদিনায় এলেন, তাঁর কাছে মুহাজিরগণ এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমরা এখানে যাদের কাছে এসেছি, তাদের চাইতে অকাতরে ধন-সম্পদ দানকারী এবং সহানুভূতিশীল মানুষ আর দেখিনি। তারা আমাদের জন্যে প্রচুর পরিশ্রম করে এবং তাদের প্রাচুর্যে আমাদেরকে শরিক করে। ফলে আমাদের আশংকা জন্মেছে যে, আখিরাতের সমস্ত সওয়াব তারাই নিয়ে যাবে। তিনি বললেন: না, যতোক্ষণ তোমরা তাদের প্রশংসা করবে ও তাদের জন্যে দোয়া করবে ততোক্ষণ তোমরাও সওয়াবে শরীক থাকবে।' (তিরমিযি)।