📄 হাদিয়া বা উপহারের প্রতিদান
হাদিয়ার প্রতিদান দান করা মুস্তাহাব, চাই তা যত উঁচু স্তরের ব্যক্তির পক্ষ থেকে যত নিম্ন স্তরের ব্যক্তিকেই দেয়া হোক। কেননা ইমাম আহমদ, বুখারি, আবুদাউদ ও তিরমিযি আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন।' ইবনে আবি শায়বার বর্ণনা মতে প্রাপ্ত হাদিয়ার চাইতে উৎকৃষ্ট মানের প্রতিদান দিতেন, যাতে কারো পক্ষ থেকে প্রদর্শিত সৌজন্য ও মহানুভবতায় তিনিও সমান অংশীদার হতে পারেন এবং কেউ এ জন্যে তাকে খোঁটা দেয়ার সুযোগ না পায়।
ইমাম খাত্তাবি বলেন: কিছু সংখ্যক ফকিহ্ হাদিয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন: ১. ভৃত্য প্রভৃতি নিম্নতর শ্রেণির লোকের মনিব বা অনুরূপ কোনো উচ্চতর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাদিয়া প্রাপ্ত। এটা স্নেহের নিদর্শন। এর প্রতিদান দেয়া জরুরি নয়।
📄 সন্তানদের কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ে হিবা করা
২. নিম্নতর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক উচ্চতর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে হিবা বা হাদিয়া প্রদান। এটা সাধারণত সহানুভূতি ও কৃপা দৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদান দেয়া জরুরি।
৩. সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে হিবা বা হাদিয়া প্রদান। এ ক্ষেত্রে প্রধানত প্রীতি ও নৈকট্য লাভই কাম্য হয়ে থাকে। কেউ কেউ বলেন: এতে প্রতিদান দেয়া যেতে পারে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে হিবার প্রতিদান দেয়া শর্ত, সে ক্ষেত্রে প্রতিদান দেয়া জরুরি।
সন্তানদের কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ে হিবা করা: সন্তানদের কাউকে অন্য সন্তানের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু হিবা বা হাদিয়া করা অবৈধ। কেননা এতে পরিবারে বিভেদ, বিদ্বেষ ও শত্রুতার বীজ বপন করা হয় এবং যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আল্লাহ্ মজবুত করার আদেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করা হয়। এটা ইমাম আহমদ, ইস্হাক, সাওরি, তাউস ও কোনো কোনো মালেকি ফকিহের মত। তারা বলেন: 'সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করা ও একজনকে অপরজনের উপর অগ্রাধিকার দান বাতিল ও যুলুম এবং যে ব্যক্তি এ কাজ করে স্বয়ং তারই এটা রহিত করা ওয়াজিব। ইমাম বুখারি এ মতটি দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেছেন এবং প্রমাণ স্বরূপ ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণিত এ হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন; 'সন্তানদের মধ্যে দানের বেলায় সমতা অবলম্বন কর। আমি যদি কাউকে অগ্রাধিকার দিতাম তবে মেয়েদেরকে দিতাম।' (তাবরানি, বায়হাকি)
ইমাম আহমদের মত হলো, বিশেষ কোনো কারণ না থাকলে সন্তানদের মধ্যে কাউকে কারো উপর অগ্রাধিকার দেয়া হারাম। কিন্তু অগ্রাধিকার দেয়ার কোনো কারণ বা প্রয়োজন থাকলে এটা দূষণীয় নয়। 'আলমুনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: পিতা যদি কোনো সন্তানকে এমন কোনো কারণে অগ্রাধিকার দেয়, যা অগ্রাধিকার দাবি করে, যেমন কোনো সন্তানের পরমুখাপেক্ষিতা, বিকলাঙ্গতা বা প্রতিবন্ধিতা, অন্ধত্ব, অধিক সন্তান, জ্ঞানার্জনে নিয়োজিত থাকা, অথবা অনুরূপ কোনো উত্তম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া, কিংবা কোনো সন্তান ফাসিক বা অবেদাতী হওয়া, বা পিতার দেয়া হিবা বা হাদিয়াকে গুনাহ্ কাজে ব্যবহার বা ব্যয় করার কারণে উক্ত সন্তানকে কোনো হিবা থেকে বঞ্চিত করাকে ইমাম আহমদ অনুমোদন করেন বলে কোনো কোনো বর্ণনা সূত্রে জানা গেছে।
ইমাম শাবি সূত্রে বর্ণিত, নুমান ইবনে বশির বলেন: 'আমার পিতা আমাকে একটা উপহার দিলেন। এই হাদিসের জনৈক বর্ণনাকারী ইসমাইল ইবনে সালিম বলেন: নুমান ইবনে বশিরকে তার পিতা একটা ভৃত্য দিয়েছিল। তখন তার পিতাকে আমার মাতা উমরা বিনতে রওয়াহা বললেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে যাও এবং তাকে সাক্ষী রাখ। সে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট গিয়ে তাঁকে ব্যাপারটা জানালো। সে বললো: আমি আমার ছেলে নুমানকে একটা উপহার দিয়েছি। এ ব্যাপারে আপনাকে সাক্ষী রাখতে উমরা আমাকে পরামর্শ দিয়েছে। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: নুমান ছাড়া তোমার আর কোনো সন্তান আছে? সে বললো: আছে। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: নুমানকে যা দিয়েছ, তাদের প্রত্যেককে কি তদ্রূপ উপহার দিয়েছ? সে বললো: না। অত:পর এই সব বর্ণনাকারীর কেউ কেউ নুমানের পিতাকে বললো: এটা অন্যায়। আবার কেউ কেউ বললো: এটা অন্যায় আসকারা। কাজেই আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখ। মুগীরা বললেন: তোমার সন্তানরা সবাই তোমার নিকট সমান স্নেহধন্য ও তোমার প্রতি সমান যত্নশীল হোক, তা কি তুমি চাওনা? সে বললো: হাঁ। তখন মুগীরা বললেন: তাহলে এ কাজে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী রাখ। মুজাহিদ তাকে বললেন: তোমার সন্তানদের তোমার কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অনুরূপ তোমারও তাদের কাছ থেকে সদাচার ও যত্ন লাভের অধিকার রয়েছে।'
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম বলেন: 'যে ন্যায়বিচারের আদেশ আল্লাহ্ তাঁর কিতাবে দিয়েছেন, যে ন্যায়বিচারের উপর আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, এবং যে ন্যায় বিচারের উপর ইসলামী শরিয়ত দণ্ডায়মান, সে ন্যায় বিচারের একটা বিশদ বিবরণ এই হাদিসটিতে পাওয়া যায়। পৃথিবীতে যত রকমের যুক্তিতর্ক আছে, তার সব কিছুর চাইতে এ হাদিস কুরআনের সাথে অধিকতর সংগতিশীল এবং এটি একটি অকাট্য প্রমাণ।' হানাফি, শাফেয়ি, মালিকি ও অধিকাংশ ফকিহের মত হলো, সন্তানদের মধ্যে সমতা অবলম্বন করা মুস্তাহাব এবং কাউকে কারো উপর অগ্রাধিকার দেয়া মাকরুহ, হারাম নয়। কেউ যদি অগ্রাধিকার দেয় তবে তা কার্যকর হবে। নু'মান ইবনে বশিরের হাদিসের তারা দশটি জবাব দিয়েছেন।
📄 সন্তানদের প্রতি সম আচরণের ধরন
কিন্তু এই দশটি জবাবই ভুল। এই জবাবগুলো হাফেজ ইবনে হাজর 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে উদ্বৃত করেছেন। শওকানি 'নাইলুল আওতারে'ও উদ্ধৃত করেছেন:
এক: ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেন যে, নুমান ইবনে বশিরকে তার পিতা যে উপহার দিয়েছিল, তা ছিলো তার সমগ্র সম্পত্তি। অথচ হাদিসটি একাধিক সূত্রে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে: তাতে স্পষ্ট যে, ওটা সমগ্র সম্পত্তি ছিলনা, বরং তার একটা অংশ মাত্র। ইমাম মুসলিমের বর্ণনায়ও বলা হয়েছে: 'আমার পিতা আমাকে তার সম্পত্তির একটা অংশ দিলেন।' অন্য হাদিসে বলা হয়েছে যে, একটি ভৃত্য দিয়েছিলেন।
দুই: উল্লিখিত উপহারটি বাস্তবে দেয়া হয়নি, শুধু প্রস্তাব করা হয়েছিল। বশির ঐ বিষয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর পরামর্শ নিতে এসেছিলেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) এটা না করার পরামর্শ দিলে তিনি এটি পরিহার করেন। এটা তাবারীর বর্ণনা।
এর জবাব এই যে, রসূলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক উপহার প্রত্যাহারের আদেশ থেকে বুঝা যায়, উপহার দেয়া হয়েছিল। উমরা কর্তৃক রসূল (সা) কে সাক্ষী করার অনুরোধ থেকেও অনুরূপ ধারণা পাওয়া যায়।
তিন: নুমান প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং তিনি তখনো উপহারটি হস্তগত করেননি। তাই তার পিতা সেটি প্রত্যাহার করতে পেরেছিলেন। এটা ইমাম তাহাবির বর্ণনা। হাফেজ ইবনে হাজর বলেন: এটা অধিকাংশ বর্ণনার বিপরীত। বিশেষত রসূলুল্লাহ্ (সা) এর উক্তি: 'ফেরত নাও' প্রমাণ করে যে, আগেই উপহারটি হস্তগত করা হয়েছিল। তা ছাড়া অধিকাংশ বর্ণনা থেকে জানা যায়, নুমান তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং সে কারণে তা তার পিতার কাছেই সংরক্ষিত ছিলো। তাই রসূল (সা) তাকে উক্ত উপহার ফেরত নেয়ার আদেশ দেন। কেননা পিতার কাছে থাকলেও তা সন্তানের দখলে থাকার সমার্থক ছিলো।
চার: রসূলুল্লাহ্ (সা) এর উক্তি 'উপহারটি ফেরত নাও' উপহার দেয়ার বৈধতা প্রমাণ করে। যদি বৈধ না হতো তাহলে ফেরত নেয়া বৈধ হতোনা। তিনি ফেরত নেয়ার আদেশ এ জন্যেই দিয়েছিলেন যে, পিতা সন্তানকে যা দেয় তা ফেরত নেয়ার অধিকার তার থাকে। অবশ্য তা না করাই উত্তম। তবে সন্তানদের প্রতি সমান আচরণ করা মুস্তাহাব হওয়ায় তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজর বলেন: এই যুক্তি ভ্রান্ত। রসূলুল্লাহ্র উক্তি 'ফেরত নাও' এর অর্থ হিবাটি কার্যকর করোনা। আর এ দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে, হিবাটি ইতোপূর্বে বৈধ ছিলো।
পাঁচ: 'আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এ ব্যাপারে সাক্ষী কর' কথাটা দ্বারা এ কাজে সাক্ষী রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনি নিজে সাক্ষী হতে চাননি তার কারণ এই যে, তিনিই সর্বোচ্চ শাসক। সর্বোচ্চ শাসকের পক্ষে সাক্ষী হওয়া মানায়না। তিনি তো ফায়সালাকারী। এটা তাহাবির বর্ণনা।
এর জবাব এই যে, শাসকের সাক্ষী হওয়া মানায়না বলে তিনি যখন সাক্ষী হয়েই গিয়েছেন তখন সাক্ষী হওয়া থেকে বিরত থাকা তার জন্য জরুরি নয়। হাদিসের অবশিষ্ট অংশ থেকে প্রমাণিত হয় যে, অন্যকে সাক্ষী করার অনুমতি দান আসলে তার ক্ষোভ প্রকাশের সমার্থক। ইবনে হাজর বলেন: অধিকাংশ ফকিহের মত এটাই।
ছয়: রসূলুল্লাহ্ (সা) এর উক্তি: 'তুমি কি সকল সন্তানের সাথে সমান আচরণ করনি? থেকে প্রমাণিত হয় যে, সমান আচরণের আদেশ যে হাদিসে আছে, তার অর্থ মুস্তাহাব এবং নিষেধাজ্ঞার অর্থ মাকরূহ তানন্যিহি। কিন্তু বর্ণনায় ইবনে হাজর বলেন: এ জবাবটি সঠিক হতো যদি অপর বর্ণনায় সরাসরি এরূপ নির্দেশ না থাকতো: 'সন্তানদের মধ্যে সমান আচরণ কর।'
সাত: নুমান বর্ণিত হাদিসে 'সন্তানদের মধ্যে নৈকট্য বজায় রাখ' বলা হয়েছে, 'সমতা বজায় রাখ' নয়। তবে জবাবে বলা হয়েছে যে, আপনারা তো সমতা ও নৈকট্য কোনোটাই জরুরি মনে করেন না।
আট: সন্তানদের প্রতি ইনসাফ ও সমআচরণের সাথে পিতার প্রতি সন্তানদের যত্ন সমাদরের তুলনা প্রমাণ করে যে, সমআচরণের আদেশ মুস্তাহাব অর্থবোধক। এই জবাব ভুল এ জন্যে যে, সমান আচরণ না করাকে যুলুম আখ্যায়িত করা ও অগ্রাধিকার দিতে নিষেধ করা প্রমাণ করে যে, সমআচরণ করা ওয়াজিব।
নয়: অন্য হাদিস থেকে জানা যায়, আবু বকর (রা) আয়েশা (রা) কে উপহার দিয়েছেন এবং তাহাবির বর্ণনা থেকে জানা যায়, উমর (রা) আসেমকে উপহার দিয়েছেন, অন্যান্য সন্তানকে দেননি। অগ্রাধিকার দেয়া নাজায়েয হলে এই দুই খলিফা তা করতেন না। এর জবাব এই যে, উভয় ক্ষেত্রে অন্যান্য সন্তানের সম্পত্তি ছিলো। তা ছাড়া রসূলুল্লাহ (সা) এর উক্তির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হলে আবু বকর (রা) ও উমা (রা) যাই করুন না কেন, তা গ্রহণযোগ্য হবেনা।
দশ: এটা সর্বসম্মত মত যে, সন্তান ছাড়া অন্য কাউকে নিজের সম্পত্তি দান করা জায়েয। সকল সন্তানকে বঞ্চিত করে অন্যকে দেয়া যখন জায়েয, তখন কতক সন্তানকে বঞ্চিত করা তো জায়েয হবেই। ইবনে হাজর বলেন: এ বক্তব্য ভুল। কেননা কুরআন বা হাদিসের সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা অবস্থায় কিয়াস গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং সন্তানদের প্রতি সমান আচরণ ওয়াজিব এবং বৈষম্য হারাম।
📄 হিবা ফেরত দেয়া
যারা সম আচরণ ওয়াজিব মনে করেন, তারা এর ধরন নির্ণয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। মুহাম্মদ, আহমদ, ইসহাক এবং শাফেয়ি ও মালেকি ফকিহদের কেউ কেউ বলেন: উত্তরাধিকারের ন্যায় পুরুষ সন্তানকে কন্যা সন্তানের দ্বিগুণ দেয়াই ন্যায়বিচার। তাদের যুক্তি এই যে, বাবা মারা গেলে তো সন্তানরা এ রকমই পেতো। অন্যদের মত হলো, ছেলে ও মেয়েতে কোনো পার্থক্য নেই। যেহেতু হাদিসে স্পষ্টভাবে সমতার উল্লেখ রয়েছে, তাই সমতাই শিরোধার্য।
হিবা ফেরত নেয়া: অধিকাংশ আলিমের মতে হিবা ফেরত নেয়া হারাম, চাই তা ভাইবোনদের বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই হোক না কেন। তবে পিতা সন্তানকে যা হিবা করে তা ফেরত নিতে পারে।
ইমাম মালেক বলেন: পিতা সন্তানকে দেয়া সামগ্রী ততক্ষণই ফেরত নিতে পারে, যতক্ষণ তা পরিবর্তিত না হয়। পরিবর্তিত হয়ে গেলে ফেরত নিতে পারবে না। ইমাম আবু হানিফা বলেন: শুধু রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় নয় এমন ব্যক্তিকে দেয়া সামগ্রী ফেরত নেয়া যায় না। ইমাম আবু হানিফার এ মত হাদিসের পরিপন্থী হওয়ায় শক্তিশালী নয়।
আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজা ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'কোনো ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ নয় যে, কাউকে কোনো সামগ্রী দান করার পর তা ফেরত নেবে। কেবল পিতা সন্তানকে দেয়া সামগ্রী ফেরত নিতে পারে। যে ব্যক্তি কাউকে কিছু দেয়ার পর তা ফেরত নেয় সে সেই কুকুরের মত, যে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ার পর বমি করে এবং পরক্ষণে তার বমি খেয়ে নেয়।' (তিরমিযি এ হাদিসকে সহিহ বলেন।) এ হাদিস থেকে আরো জোরদারভাবে প্রমাণিত হলো যে, সন্তান ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে প্রদত্ত সামগ্রী ফেরত নেয়া হালাল নয়।
অনুরূপ প্রতিদান পাওয়ার জন্যে যে হিবা করা হয়, তা প্রতিদান না পেলে ফেরত নেয়া যায়। সালেম বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যে ব্যক্তি কাউকে কোনো সামগ্রী হিবা করলো, সে যতোক্ষণ তার প্রতিদান না পায় ততোক্ষণ তা ফেরত পাওয়ার জন্যে সে অধিকতর হকদার।' ইবনুল কাইয়িম 'আলামুল মুকিইন' গ্রন্থে এই মতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন: 'শুধু সেই হিবাকারীর জন্যে হিবাকৃত জিনিস ফেরত নেয়া হারাম, যে কোনো রকম প্রতিদানের আশা ব্যতীতই হিবা করে। যে হিবাকারী প্রতিদান লাভের জন্যে হিবা করে এবং প্রতিদান পায়না, সে তার হিবাকৃত জিনিস ফেরত নিতে পারে। রসূলুল্লাহ (সা) এর সুন্নাত পুরোপুরিভাবে পালন করা উচিত, আংশিকভাবে নয়।'