📄 হিবা বা দানের সামগ্রীর শর্তাবলী
দান বা হিবার সামগ্রীটির শর্ত হলো:
১. সেটি কার্যত উপস্থিত থাকা চাই।
২. এমন জিনিস হওয়া চাই, যার মূল্য আছে। (যা ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য)। হাম্বলি ফকিহদের মতে পালিত কুকুর ও যেসব অপবিত্র জিনিস দ্বারা মানুষ উপকৃত হওয়া বৈধ, তা হিবা করা জায়েয।
৩. সামগ্রীটি যেন দাতার মালিকানাধীন হয়। অর্থাৎ যার লেনদেন ও হস্তান্তর বৈধ। তাই নদীর পানি, সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখি এবং মসজিদ ও ইবাদতখানা হিবার অযোগ্য। কেননা এসব জিনিস কারো মালিকানাধীন নয় এবং লেনদেন ও হস্তান্তরের অযোগ্য।
📄 যে রোগে রোগীর মৃত্যু হয় সে রোগে রোগীর হিবা
যে রোগে রোগী মারা যায় সে রোগে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় যদি কেউ কিছু দান করে, তবে তার বিধি হবে অসিয়তের মতো। অর্থাৎ যতোক্ষণ উত্তরাধিকারীরা অনুমতি না দেবে ততোক্ষণ তা দেয়া হবে না। কেউ যদি উত্তরাধিকারীদের কাউকে কোনো জিনিস হিবা করে, অত:পর মারা যায় এবং অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা দাবি করে যে, সে তার মৃত্যুর পূর্বকালীন রোগে আক্রান্ত অবস্থায় হিবা করেছে, কিন্তু যাকে হিবা করা হয়েছে সে দাবি করে যে, সুস্থ অবস্থায় হিবা করেছে, এমতাবস্থায় যাকে দান করা হয়েছে তার দায়িত্ব তার দাবির সত্যতা প্রমাণ করা। সে যদি তা না করে তবে ধরে নেয়া হবে যে, মৃত্যুপূর্ব রোগাবস্থায় হিবা করেছে এবং সে অনুযায়ী অসিয়তের বিধি কার্যকর হবে। উত্তরাধিকারীরা অনুমতি না দিলে হিবা অকার্যকর ও বাতিল গণ্য হবে। আর মৃত্যুপূর্ব রোগাবস্থায় হিবা করার পর দাতা সুস্থ হয়ে গেলে হিবা বৈধ হবে।
📄 হিবাকৃত সামগ্রীর দখল
কোনো কোনো ফকিহ্ মনে করেন, যাকে হিবা করা হয়েছে নিছক হিবার চুক্তি বলেই হিবাকৃত সামগ্রীটি তার পাওনা হয়, দখল করা মোটেই শর্ত নয়। কেননা সকল চুক্তির ক্ষেত্রে এটাই মূলনীতি যে, দখলের শর্ত ছাড়াই তা বৈধ হয়, যেমন বিক্রয়। এটা ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ, আবু সাওর ও যাহেরি মযহাবের মত। এ মূলনীতির ভিত্তিতে দাতা বা যাকে দান করা হয়েছে সে জিনিসটি দখলে নেয়ার আগে মারা গেলে হিবা বাতিল হবে না। কেননা শুধু চুক্তির বলেই সে জিনিসটির মালিক হয়ে গেছে। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি ও সাওরি বলেন: হিবাকৃত সামগ্রী দখলে নেয়া হিবার বৈধতার শর্ত। যতোক্ষণ হিবাগ্রহীতা তা দখল না করবে, ততোক্ষণ তা দাতার জন্যে বাধ্যতামূলক নয়। তাই দখলের পূর্বে দাতা বা যাকে দান করা হয়েছে সে মারা গেলে হিবা বাতিল হয়ে যাবে।
📄 সম্পত্তি দান করা
অধিকাংশ আলেমের মতে কোনো মানুষ তার সমগ্র সম্পত্তি অন্যকে দান করে দিলে তা বৈধ। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ ও কোনো কোনো হানাফি ফকিহ্ বলেন: সমগ্র সম্পত্তি দান করা বৈধ হবে না, চাই তা যত বড় সৎ কাজেই করা হোক। এ ধরনের কাজ যে করবে তাকে তারা নির্বোধ গণ্য করেছেন এবং তার সমস্ত লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ওয়াজিব বলে মত প্রকাশ করেছেন। 'আর রওযাতুন নাদিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক এ সম্পর্কে বলেন:
'অভাব অনটন ও অসচ্ছলতায় যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করতে পারে তার জন্যে নিজের অধিকাংশ বা সমগ্র সম্পত্তি দান করা বৈধ। কিন্তু যে ব্যক্তি অভাবে পড়লে অন্যের কাছে ভিক্ষার হাত পাতে, তার জন্যে অধিকাংশ বা সমগ্র সম্পত্তি দান করা বৈধ নয়।' এ মতটি দ্বারা এক তৃতীয়াংশ সম্পত্তির বেশি দান করা বৈধ প্রমাণকারী ও অবৈধ প্রমাণকারী হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব বলে মনে করা যেতে পারে।