📄 হিবার মূল উপাদান
কোনো বিনিময় ছাড়াই প্রদত্ত সামগ্রীটির মালিক বানানো হচ্ছে- এ কথা বুঝা যায় এমন যে কোনো বাক্য প্রয়োগে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হলেই হিবা শুদ্ধ হবে। যেমন: দাতা বলবে: তোমাকে দিলাম, উপহার দিলাম বা দান করলাম ইত্যাদি। আর অপরজন বলবে, গ্রহণ করলাম। ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ি মনে করেন, হিবার ক্ষেত্রে কবুল বলাটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো কোনো হানাফি ফকিহের মতে শুধু দাতার ইজাবই (প্রস্তাব) যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে শেষোক্ত মতটাই সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ। হাম্বলি ফকিহগণ বলেন: পারস্পরিক লেনদেন দ্বারাই হিবা শুদ্ধ হবে। রসূলুল্লাহ্ (সা) হাদিয়া পাঠাতেন ও গ্রহণ করতেন। সাহাবিরাও তদ্রূপ করতেন। তারা ইজাব ও কবুলের কোনো শর্ত আরোপ করতেন বলে শোনা যায়নি।
📄 হিবার শর্তাবলী
হিবার জন্যে একজন হিবাকারী, একজন হিবা গ্রহণকারী এবং হিবা সামগ্রী প্রয়োজন। এই তিনটির প্রত্যেকটির জন্যে কিছু শর্ত রয়েছে।
📄 হিবাকারীর শর্ত
হিবাকারীর মধ্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলী থাকা জরুরি:
১. প্রদত্ত সামগ্রীটির মালিকানা।
২. এমন কোনো ব্যক্তি না হওয়া, যাকে কোনো কারণে আইনত লেনদেন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৩. তার প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। কেননা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি লেনদেনের যোগ্য নয়।
৪. তার স্বেচ্ছায় ও স্বত:স্ফূর্তভাবে ও বলপ্রয়োগ ব্যতিরেকে হিবা করা। কেননা হিবার চুক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে সম্পাদিত হওয়া জরুরি।
📄 যাকে হিবা করা হয় তার শর্তাবলী
যাকে হিবা করা হয় তার মধ্যে যেসব শর্ত থাকা প্রয়োজন: দান করার সময় তার বাস্তবে উপস্থিত থাকা জরুরি। সে যদি অনুপস্থিত থাকে কিংবা মায়ের গর্ভে থাকে, তবে হিবা বৈধ হবে না। দান করার সময় যাকে দান করা হয় সে যদি উপস্থিত থাকে কিন্তু সে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা পাগল হয়, তবে তার অভিভাবক বা লালন পালনকারী বা অছিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, চাই সে অনাত্মীয় হোক না কেন।