📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


পবিত্র কুরআনে সূরা আলে ইমরানের ৩৮নং আয়াতে বলা হয়েছে: قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةٌ : إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ 'সে (যাকারিয়া) বললো, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে তুমি তোমার নিকট থেকে সৎ বংশধর দান কর। তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী।' হিবার শব্দার্থ হচ্ছে, দান করা বা কারো প্রতি অনুগ্রহ করা, চাই অর্থবিত্ত দিয়ে হোক বা অন্য কিছু দিয়ে। আর শরিয়তের পরিভাষায় এটা এমন চুক্তির নাম, যার উদ্দেশ্য কোনো মানুষ কর্তৃক অপর কাউকে জীবিতাবস্থায় কোনো বিনিময় ছাড়া নিজের কোনো সম্পদ বা সামগ্রীর মালিক বানিয়ে দেয়া। আর মালিক না বানিয়ে কেউ যদি কাউকে নিজের সামগ্রী শুধু ব্যবহারের জন্যে দেয় তবে সেটা হিবা নয়, ধার। আর যখন কেউ এমন কোনো জিনিস কাউকে দেয়, যা সম্পদ পদবাচ্য নয়, যেমন মদ বা মৃত প্রাণী, তখন তা হিবা বা হাদিয়া হবে না। আর যখন মালিক বানানোর কাজটা জীবদ্দশায় নয়, বরং মৃত্যুর পরে হবে, তখন তার নাম হবে অসিয়ত। আর যখন এ কাজটা কোনো বিনিময় সহকারে হবে, তখন তার নাম হবে বিক্রয় এবং তার উপর বিক্রয়ের বিধি কার্যকর হবে। ইমাম আবু হানিফার মতে বিনিময় দেয়ার শর্তে যে হিবা করা হবে তা শুরুতে হিবা হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে তা বিক্রয়ে পরিণত হবে। সে ক্ষেত্রে বিনিময় পাওয়ার আগে কাউকে তার মালিক বানানো হবে না, যতোক্ষণ না সে উক্ত সামগ্রী নিজ দখলে নিয়ে নেয়। দখলে নেয়ার পূর্বে যাকে হিবা করা হয়েছে, সে তার লেনদেন করতে পারবে না। হিবাকারী লেনদেন করতে পারবে।
বিনিময়টি নির্দিষ্ট ও পরিচিত হওয়া শর্ত। নচেৎ হিবা বাতিল গণ্য হবে। শর্তহীন হিবায় কোনো বিনিময় যুক্ত থাকে না, চাই সে হিবা হিবাকারীর সমপর্যায়ের ব্যক্তিকে করা হোক, বা তার চেয়ে নিম্নতর অথবা উচ্চতর পর্যায়ের লোককে।
এ হচ্ছে বিশেষ অর্থের আলোকে হিবার মর্ম। ব্যাপকতর অর্থে 'হিবা' দ্বারা তিনটি জিনিস বুঝানো হয়: ১. কারো কাছে ঋণ থাকলে তা মওকুফ বা মাফ করে দেয়া। ২. সদকা অর্থাৎ পরকালে সওয়াব কামনা করা হয় এমন দান-দক্ষিণা। ৩. হাদিয়া বা উপহার: অর্থাৎ যাকে হাদিয়া বা উপহার দেয়া হয় তার হাদিয়ার বিনিময় দেয়া জরুরি। এর নাম হিবা বিল এওয়াজ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হিবা সম্পর্কে শরিয়তের বিধি

📄 হিবা সম্পর্কে শরিয়তের বিধি


আল্লাহ্ হিবাকে শরিয়তসিদ্ধ করেছেন। কারণ এতে মানুষের পরস্পরের প্রতি মমত্ব ও প্রীতি জন্মে এবং ভালোবাসার সম্পর্ক মজবুত হয়। আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'তোমরা পরস্পর হাদিয়া লেনদেন কর, পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।' (বুখারি, আল আদাবুল মুফরাদ, বায়হাকি)। রসূলুল্লাহ্ (সা) হাদিয়া গ্রহণ করতেন ও তার প্রতিদান দিতেন। তিনি হাদিয়া গ্রহণ করতে অনুরোধ ও উৎসাহিত করতেন। ইমাম আহমদ খালিদ ইবনে আদি (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যার কাছে তার ভাই এর কাছ থেকে কোনো প্রকারের অনুরোধ বা দাবি ছাড়াই কোনো উপহার আসে, তার সেটি গ্রহণ করা উচিত এবং ফেরত দেয়া উচিত নয়। কেননা সেটি আল্লাহ্র দেয়া একটি নিয়ামত, যা তিনি (অযাচিতভাবেই) তার কাছে পাঠিয়েছেন।' আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ্ (সা) বলেন: আমাকে যদি একটা জন্তুর পায়ের নিচের অংশটা হাদিয়া পাঠানো হয়, তবে আমি তাও গ্রহণ করবো, আর যদি তা খাওয়ার জন্যে আমাকে দাওয়াত করা হয় তবে আমি তাও কবুল করবো।' (আহমদ, তিরমিযি)
আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্, আমার দু'জন প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে কোন্ জনকে হাদিয়া (উপহার) পাঠাবো? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যার দরজা তোমার কাছ থেকে অধিক নিকটে।' আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: পরস্পরে উপহার বিনিময় কর। এটা মনের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে। কোনো প্রতিবেশিনী তার অপর প্রতিবেশিনীকে তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়, যদিও সে একটা ছাগলের পায়ের একাংশ পাঠায়।' রসূলুল্লাহ্ (সা) কাফেরদের হাদিয়াও গ্রহণ করতেন। রোম সম্রাট, পারস্য সম্রাট ও মুকাওকিসের উপহার গ্রহণ করেছেন। অনুরূপ তিনি কাফেরদেরকে হাদিয়া ও দানসামগ্রী পাঠাতেন।
তবে ইমাম আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি বর্ণনা করেন: ইয়ায রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট একটা উপহার পাঠালেন। রসূলুল্লাহ (সা) তাকে বললেন: তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করেছ? সে বললো: না। তিনি বললেন: আমাকে মুশরিকদের উপহার গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।' এ হাদিস সম্পর্কে খাত্তাবি বলেন: হাদিসটি সম্ভবত রহিত হয়েছে। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) একাধিক মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন।
ইমাম শওকানি বলেন: ইমাম বুখারি তার সহিহ হাদিস গ্রন্থে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয। হাফেয ইবনে হাজর আসকালানি 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেন: 'উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত উপহারদাতা মুশরিক। কাজেই হাদিয়া ফেরত দেয়ার ঘটনা কোনো কিতাবির ক্ষেত্রে ঘটেছে বলার অবকাশ নেই।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হিবার মূল উপাদান

📄 হিবার মূল উপাদান


কোনো বিনিময় ছাড়াই প্রদত্ত সামগ্রীটির মালিক বানানো হচ্ছে- এ কথা বুঝা যায় এমন যে কোনো বাক্য প্রয়োগে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হলেই হিবা শুদ্ধ হবে। যেমন: দাতা বলবে: তোমাকে দিলাম, উপহার দিলাম বা দান করলাম ইত্যাদি। আর অপরজন বলবে, গ্রহণ করলাম। ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ি মনে করেন, হিবার ক্ষেত্রে কবুল বলাটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো কোনো হানাফি ফকিহের মতে শুধু দাতার ইজাবই (প্রস্তাব) যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে শেষোক্ত মতটাই সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ। হাম্বলি ফকিহগণ বলেন: পারস্পরিক লেনদেন দ্বারাই হিবা শুদ্ধ হবে। রসূলুল্লাহ্ (সা) হাদিয়া পাঠাতেন ও গ্রহণ করতেন। সাহাবিরাও তদ্রূপ করতেন। তারা ইজাব ও কবুলের কোনো শর্ত আরোপ করতেন বলে শোনা যায়নি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হিবার শর্তাবলী

📄 হিবার শর্তাবলী


হিবার জন্যে একজন হিবাকারী, একজন হিবা গ্রহণকারী এবং হিবা সামগ্রী প্রয়োজন। এই তিনটির প্রত্যেকটির জন্যে কিছু শর্ত রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00