📄 উত্তরাধিকারীদের স্বার্থের ক্ষতি হয় এমন ওয়াকফ হারাম
কোন ব্যক্তির এমন ওয়াকফ্ করা হারাম, যা দ্বারা উত্তরাধিকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: ইসলামে কারো ক্ষতি করারও অবকাশ নেই, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও সুযোগ নেই।' সুতরাং এ ধরনের ওয়াকফ্ করা হলে তা বাতিল হবে। আর 'রওযাতুন নাদিয়া' গ্রন্থে রয়েছে:
'মোট কথা, আল্লাহ্ যে সম্পর্কগুলো জুড়ে রাখার আদেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করা এবং আল্লাহর নির্ধারিত ফরযসমূহের বিরোধিতা করা যে ওয়াফ্ফের উদ্দেশ্য, তা বাতিল এবং কোনোক্রমেই তা গ্রহণযোগ্য হবেনা। যেমন কেউ তার কন্যা সন্তানদের বাদ দিয়ে শুধু পুরুষ সন্তানদের নামে ওয়াকফ্ করলে তা বাতিল হবে। কারণ এ ধরনের ওয়াফ্ফের উদ্দেশ্য আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করা নয়, বরং আল্লাহর হুকুম লংঘন করা এবং আল্লাহ্ তার বান্দাদের জন্যে যেসব অধিকার নির্ধারণ করেছেন তা হরণ করা। বস্তুত এটা একটা তাগুতি ওয়াকফ্, যা শয়তানের উদ্দেশ্য সফল করার সহায়ক। কাজেই পাঠক! আপনার এটা স্মরণ রাখা উচিত, এ যুগে এগুলো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুরূপ যে ব্যক্তি শুধু নিজের সম্পত্তিকে নিজের বংশধরের মধ্যে গুটিয়ে নেয় এবং তাদের বাইরে যেতে না দেয়ার উদ্দেশ্যে শুধু নিজের বংশধরের নামে ওয়াক্ফ্ করে, আল্লাহর বিধানের বিরোধিতাই তার উদ্দেশ্য। আল্লাহ্র বিধান হলো, উত্তরাধিকারের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর এবং উত্তরাধিকারীকে তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে যেমন খুশি হস্তান্তর বা লেনদেন করার স্বাধীনতা প্রদান। উত্তরাধিকারীরা ধনী না গরীব সেটা দেখা ওয়াক্ফকারীর ইখতিয়ার নয়, বরং আল্লাহ্র ইখতিয়ার। নিজের সন্তান ও বংশধরদের জন্য ওয়াকফ্ করায় আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য থাকা খুবই বিরল। সুতরাং প্রত্যেক ওয়াক্ফকারীর সূক্ষ্মভাবে এ বিষয়টি বিবেচনা করা কর্তব্য। এই সাথে এ কথাটাও মনে রাখতে হবে যে, নিজের বংশধরদের মধ্যে যারা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ বা ইসলামী জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত, তাদের নামে সম্পত্তির একটা অংশ ওয়াক্ফ্ করলে তা ন্যায়সঙ্গত এবং তা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ নিশ্চিত হতে পারে। কিন্তু এ উদ্দেশ্যে খুব কম লোকই ওয়াকফ্ করে থাকে। তাই আল্লাহ্ সম্পদ বণ্টনের যে বিধান তার বান্দাদের জন্যে চালু করেছেন এবং যে বিধান তাঁর মনোনীত, সে বিধানকে কার্যকর করাই সর্বোত্তম পন্থা।