📄 রোগাবস্থায় কোনো উত্তরাধিকারীর নামে ওয়াকফ করা
মৃত্যু প্রাক্কালে রোগাবস্থায় উত্তরাধিকারীর নামে ওয়াক্ফ ইমাম শাফেয়ির মতে এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদের মতে নাজায়েজ হবে। ইমাম শাফেয়ি ব্যতীত অন্যদের মতে ও অপর বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদের মতে এক তৃতীয়াংশের মধ্য থেকে উত্তরাধিকারীদের নামেও ওয়াক্ফ করা যাবে। ইমাম আহমদকে যখন বলা হলো : আপনি কি মনে করেন না যে, কোনো উত্তরাধিকারীকে অসিয়তও করা যাবে না, তখন তিনি বললেন : হ্যাঁ। কিন্তু ওয়াক্ফ অসিয়ত থেকে ভিন্ন জিনিস। কেননা ওয়াক্ফ বিক্রয়ও করা যায়না, দানও করা যায় না, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টনও করা যায় না এবং উত্তরাধিকারীদের মালিকানাস্বত্বও হয়না, যাতে তারা তার ফসল দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
📄 ধনীদের নামে ওয়াকফ করা
ওয়াক্ফ হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহায়ক একটি ইবাদত। এ কাজ করতে গিয়ে কেউ যদি এমন শর্ত আরোপ করে, যা কোনো সওয়াবের কাজ নয় বা আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহায়ক নয়, যেমন শর্ত করলো যে, ধনীদের ছাড়া আর কাউকে কিছু দেবে না। তাহলে সে ওয়াক্ফ নিয়ে ফক্বিহ্দের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। কারো কারো মতে এটা জায়েয। কেননা এটা গুনাহের কাজ নয়। কেউ কেউ বলেন : জায়েয নয়। কেননা এটা একটা অবৈধ শর্ত। তাছাড়া এ শর্ত দ্বারা ওয়াক্ফ সম্পত্তির ব্যয় এমনভাবে সীমিত করা হয় যাতে ওয়াক্ফকারীর কোনো লাভ হয়না, দুনিয়াতেও নয়, আখিরাতেও নয়।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া শেষোক্ত মতটি সমর্থন করে বলেন : ‘এটা একটা অপব্যয় ও অপচয়, যা নিষিদ্ধ। তাছাড়া যেহেতু আল্লাহ্ সম্পদের আবর্তন ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা অপছন্দ করেছেন, তাই এটা অবৈধ। আল্লাহ্ সূরা হাশরের ৫নং আয়াতে বলেন : যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান কেবল তাদের মধ্যেই ধন-সম্পদ আবর্তন না করে’। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ওয়াক্ফ বা ওছিয়তে শর্ত আরোপ করে যে, তার ওয়াক্ফ বা অসিয়তকৃত সম্পদ শুধু ধনীদের মধ্যে আবর্তিত হোক, সে একটা কুরআন বিরোধী শর্ত আরোপ করে। আর কুরআন বিরোধী শর্ত অবশ্যই বাতিল, চাই একশোটা শর্তই হোক না কেন। কেননা আল্লাহর কিতাব অগ্রগণ্য এবং আল্লাহর শর্ত অধিকতর নির্ভরযোগ্য।’
ইমাম ইবনে তাইমিয়া আরো বলেন : ‘ওয়াক্ফকারী বা অসিয়তকারী যদি এমন শর্ত আরোপ করে, যা শরীয়তে ওয়াজিবও নয়, মুস্তাহাবও নয়, তবে সে ধরনের শর্ত বাতিল এবং কুরআনের পরিপন্থী। কেননা যা ওয়াজিবও নয়, মুস্তাহাবও নয়, তা অনর্থক নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করা অপব্যয় বিধায় নিষিদ্ধ।’
📄 ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধানকারী জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে পারিশ্রমিক নেয়া জায়েয
ওয়াক্ফ সম্পত্তি দেখাশুনা ও তদারকীর দায়িত্বশীলদের জন্য তা থেকে পারিশ্রমিক নেয়া বৈধ। কারণ ইতোপূর্বে ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: ‘ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক ন্যায়সংগতভাবে তা থেকে পারিশ্রমিক নিতে পারবে।’ এখানে ‘ন্যায় সংগত’ বলতে সেটাই বুঝায়, যা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। ইমাম কুরতুবী বলেন: ‘তদারককারী ওয়াক্ফ সম্পত্তির ফসল থেকে নিজের পারিশ্রমিক নেবে এটাই প্রচলিত রীতি। এমনকি ওয়াক্ফকারী যদি তদারককারী কিছু নেবেনা-এই শর্ত আরোপ করে, তাহলে তা হবে অন্যায় শর্ত।
📄 ওয়াকফ সম্পত্তির ফসল বা শস্যদানের উষত অংশ অনুরূপ কাজে ব্যয় করা হবে
ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: ‘ওয়াক্ফ সম্পত্তির ফসল থেকে যা উদ্বৃত্ত থাকবে এবং যা নিষ্প্রয়োজন বিবেচিত হবে তা অনুরূপ অন্যান্য কাজে ব্যয়িত হবে। যেমন মসজিদের জন্য ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির ফসল তার প্রয়োজনে ব্যয় করার পর যা উদ্বৃত্ত থাকবে তা অপর মসজিদে ব্যয় করা হবে। কারণ ওয়াক্ফকারীর উদ্দেশ্য হলো সমপর্যায়ের কাজ। যদি এরূপ বিবেচিত হয় যে, প্রথম মসজিদ বিরান হয়ে গেছে এবং তা দ্বারা এখন আর কেউ উপকৃত হতে পারছে না, তাহলে তার ফসল বা লব্ধ সম্পদ অন্য মসজিদ নির্মাণে বা মেরামতে ব্যয় করা হবে। অনুরূপ, যখন তার প্রয়োজন পূর্ণ করার পর কিছু উদ্বৃত্ত থাকবে তখন তা অনুরূপ অন্য কোনো মসজিদে ব্যয় করা হবে। অলস ফেলে রাখা হবেনা।’