📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিজের নামে ওয়াকফ করা

📄 নিজের নামে ওয়াকফ করা


কোনো কোনো আলেম মনে করেন, নিজের নামেও ওয়াক্ফ করা জায়েয। কেননা এক ব্যক্তি বলেন: আমার নিকট একটি দিনার আছে। রসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন: ওটা তুমি নিজের উপর সক্কা কর। তাছাড়া, যেহেতু ওয়াফ্ফের উদ্দেশ্য আল্লাহ্র নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা, আর নিজের উপর ব্যয় করাতেও আল্লাহ্র সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটা ইমাম আবু হানিফা, ইবনে আবি লায়লা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম আহমদের অভিমত। মালিকি মযহাবের ইবনে শাবান, শাফেয়ি মযাহবের ইবনে সুরাইজ, ইবনে শাবরুমা ও ইবনুস সাববাগও অনুরূপ মত পোষণ করেন। তাদের কেউ কেউ নির্বন্ধিতার কারণে লেনদেনে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি নিজের নামে ও নিজের সন্তানদের নামে ওয়াক্ফ করলে তাও জায়েয মনে করেন। কেননা তাকে লেনদেনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে তার সহায়সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যেই। আর তার এ ধরনের ওয়াক্ফ উক্ত উদ্দেশ্য সিদ্ধির সহায়ক। কেউ কেউ আবার এটা অবৈধ মনে করেন। কেননা নিজের নামে ওয়াক্ফ করা নিজেকে মালিক বানানোর শামিল। অথচ ওয়াক্ফ করা সম্পত্তির মালিক ওয়াক্ফকারী হতে পারে না। রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : ‘ওয়াক্ফ করা সম্পত্তির ফসল দান করে দাও।’ এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, তার মালিক অন্য কেউ হবে, ওয়াক্ফকারী নয়। এটাই শাফেয়ি মযহাব ও অধিকাংশ মালেকি ফিক্হবিদের মত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উদ্দেশ্যহীন ওয়াকফ

📄 উদ্দেশ্যহীন ওয়াকফ


যখন কোন ব্যক্তি ওয়াক্ফের উদ্দেশ্য উল্লেখ ছাড়াই তার সম্পত্তি ওয়াক্ফ করে, যেমন শুধু বললো : এই বাড়িটা ওয়াক্ফ করলাম, কী উদ্দেশ্য কার নামে বা কোন্ কাজের জন্য ওয়াক্ফ করা হলো, তা কিছু উল্লেখ করলো না, সে ক্ষেত্রে ওয়াক্ফ শুদ্ধ হবে কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালেকের মতে শুদ্ধ ও শাফেয়ি মযহাবে অশুদ্ধ হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মৃত্যু সম্মুখীন রোগাবস্থায় ওয়াকফ করা

📄 মৃত্যু সম্মুখীন রোগাবস্থায় ওয়াকফ করা


মৃত্যু প্রাক্কালে রোগাবস্থায় রোগী উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির নামে ওয়াক্ফ করলে সে ওয়াক্ফ তার সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ থেকে কার্যকর করা হবে, যেমন অসিয়তের ক্ষেত্রে করা হয়। এটা উত্তরাধিকারীদের সম্মতির উপর নির্ভর করেনা। তবে এক তৃতীয়াংশের বেশি হলে তাদের অনুমত্তি ব্যতীত বৈধ হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 রোগাবস্থায় কোনো উত্তরাধিকারীর নামে ওয়াকফ করা

📄 রোগাবস্থায় কোনো উত্তরাধিকারীর নামে ওয়াকফ করা


মৃত্যু প্রাক্কালে রোগাবস্থায় উত্তরাধিকারীর নামে ওয়াক্ফ ইমাম শাফেয়ির মতে এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদের মতে নাজায়েজ হবে। ইমাম শাফেয়ি ব্যতীত অন্যদের মতে ও অপর বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদের মতে এক তৃতীয়াংশের মধ্য থেকে উত্তরাধিকারীদের নামেও ওয়াক্ফ করা যাবে। ইমাম আহমদকে যখন বলা হলো : আপনি কি মনে করেন না যে, কোনো উত্তরাধিকারীকে অসিয়তও করা যাবে না, তখন তিনি বললেন : হ্যাঁ। কিন্তু ওয়াক্ফ অসিয়ত থেকে ভিন্ন জিনিস। কেননা ওয়াক্ফ বিক্রয়ও করা যায়না, দানও করা যায় না, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টনও করা যায় না এবং উত্তরাধিকারীদের মালিকানাস্বত্বও হয়না, যাতে তারা তার ফসল দ্বারা উপকৃত হতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00