📄 সন্তানের নামে ওয়াকফ করা হলে পৌত্র প্রপৌত্ররাও তার আওতাভুক্ত হবে
নিজের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন বা সুপরিচিত কোনো ব্যক্তির নাম ব্যতীত এবং পুণ্য কর্ম ব্যতীত যথা মসজিদ, ব্রীজ, ইসলামী পুস্তক বা কুরআন ব্যতীত ওয়াক্ফ করা জায়েয নেই। অপরিচিত কোনো পুরুষ বা নারীর নামে ওয়াকফ করা জায়েয নেই। অনুরূপ কোনো গুনাহ্ কাজে ওয়াক্ত করা জায়েয নেই, যেমন গির্জার নামে ওয়াকফ করা।
সন্তানের নামে ওয়াকফ করা হলে পৌত্র প্রপৌত্ররাও তার আওতাভুক্ত হবে: যে ব্যক্তি তার সন্তানের নামে ওয়াক্ত করবে, তার ওয়াফ্ফের আওতায় তার পৌত্র ও প্রপৌত্ররাও পড়বে। অনুরূপ মেয়ের সন্তানরাও তার আওতায় আসবে। আবু মুসা আশয়ারি (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'কোনো গোত্রের ভাগ্নেরাও ঐ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।' (বুখারি, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ি, তিরমিযি)
📄 বিস্বীদের নামে ওয়াকফ করা
যিম্মীদের নামে ওয়াকফ্ করলে তাও বৈধ। যেমন খ্রিস্টান যিম্মীদের নামে ওয়াক্ত করা। তাদের সদকাও দেয়া যাবে। রসূলুল্লাহ্ (সা) এর স্ত্রী সফিয়া বিনতে হুয়াই তার ইহুদি ভাই এর নামে সম্পত্তি ওয়াক্ফ করেছিলেন।
📄 সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ
সম্মিলিতভাবে একাধিক লোকের সম্পত্তি ওয়াক্ফ্ করাও বৈধ। কেননা ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক ও ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: উমর (রা) খয়বরে তাঁর সম্পত্তির একশো অংশ ওয়াকফ করেছেন। ঐ সম্পত্তি বিভক্ত ছিলনা। কোনো কোনো আলিমের মতে যৌথ বা সম্মিলিত ওয়াক্ফ্ফ করা অবৈধ। কেননা সুনির্দিষ্টভাবে পরিচিতি সম্পত্তি হওয়া ওয়াফ্ফের শর্ত। এই মত ইমাম মুহাম্মদের।
📄 নিজের নামে ওয়াকফ করা
কোনো কোনো আলেম মনে করেন, নিজের নামেও ওয়াক্ফ করা জায়েয। কেননা এক ব্যক্তি বলেন: আমার নিকট একটি দিনার আছে। রসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন: ওটা তুমি নিজের উপর সক্কা কর। তাছাড়া, যেহেতু ওয়াফ্ফের উদ্দেশ্য আল্লাহ্র নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা, আর নিজের উপর ব্যয় করাতেও আল্লাহ্র সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটা ইমাম আবু হানিফা, ইবনে আবি লায়লা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম আহমদের অভিমত। মালিকি মযহাবের ইবনে শাবান, শাফেয়ি মযাহবের ইবনে সুরাইজ, ইবনে শাবরুমা ও ইবনুস সাববাগও অনুরূপ মত পোষণ করেন। তাদের কেউ কেউ নির্বন্ধিতার কারণে লেনদেনে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি নিজের নামে ও নিজের সন্তানদের নামে ওয়াক্ফ করলে তাও জায়েয মনে করেন। কেননা তাকে লেনদেনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে তার সহায়সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যেই। আর তার এ ধরনের ওয়াক্ফ উক্ত উদ্দেশ্য সিদ্ধির সহায়ক। কেউ কেউ আবার এটা অবৈধ মনে করেন। কেননা নিজের নামে ওয়াক্ফ করা নিজেকে মালিক বানানোর শামিল। অথচ ওয়াক্ফ করা সম্পত্তির মালিক ওয়াক্ফকারী হতে পারে না। রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : ‘ওয়াক্ফ করা সম্পত্তির ফসল দান করে দাও।’ এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, তার মালিক অন্য কেউ হবে, ওয়াক্ফকারী নয়। এটাই শাফেয়ি মযহাব ও অধিকাংশ মালেকি ফিক্হবিদের মত।