📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওয়াকফ কিভাবে সম্পন্ন হবে

📄 ওয়াকফ কিভাবে সম্পন্ন হবে


ওয়াক্ফ্ফ দু'টি উপায়ে কার্যকর হবে:
১. এমন কাজ দ্বারা, যা দ্বারা ওয়াক্ফ্ফ বুঝা যায়। যেমন মসজিদ নির্মাণ ও তাতে নামাযের জন্য আযান দেয়া। এ জন্য কোনো শাসকের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই। অথবা, ২. কথা দ্বারা, কথা দু প্রকার: স্পষ্ট কথা বা ইংগিতপূর্ণ কথা। স্পষ্ট কথার উদাহরণ: ওয়াক্ফ্ফ করে দিলাম, আল্লাহ্র ওয়াস্তে দিলাম, চিরতরে দিলাম ইত্যাদি।
ইংগিতপূর্ণ কথার উদাহরণ: সক্কা করে দিলাম। তবে এ দ্বারা তার নিয়ত থাকা চাই ওয়াক্ফ করার। তবে কেউ যদি নিজের মৃত্যুর শর্তে ওয়াক্ফ করে, যেমন বলে: 'আমার বাড়িটা আমার মৃত্যুর পরে ওয়াক্ত রইল।' এরূপ ওয়াক্ত ইমাম আহমদের মতে জায়েয। কেননা এটা এক ধরনের অসিয়ত, যা মৃত্যুর পরেই কার্যকর হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওয়াকফ কখন বাধ্যতামূলক হয়

📄 ওয়াকফ কখন বাধ্যতামূলক হয়


যে কাজ বা কথা দ্বারা ওয়াক্ফ বুঝা যায়, সে কাজ যখন কেউ করে বা সে কথা যখন কেউ বলে, তখন সে যদি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন ও জোরজবরদস্তির আওতামুক্ত হয়, তবে ওয়াক্ত বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে এবং যার বা যে প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়াক্ফ করেছে তার কবুল করা শর্ত নয়। আর ওয়াক্ফ যখন বাধ্যতামূলক হবে তখন ওয়াকফকারীর জন্য ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বিক্রয়, দান বা এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে তা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে বহাল থাকতে পারে না, বৈধ হবে না। ওয়াকফকারী মারা গেলে ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি তার উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টিত হবে না। কেননা এটাই ওয়াফ্ফের দাবি। ইতোপূর্বে ইবনে উমর (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসেও রয়েছে যে, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বিক্রয় দান ও উত্তরাধিকার হিসেবে হস্তান্তর করা যায়না।
ইমাম আবু হানিফার মতে, ওয়াক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করা বৈধ। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: ইবনে উমার (রা) এর উক্ত হাদিস যদি আবু হানিফার নিকট পৌঁছতো তাহলে তিনি তদনুযায়ীই রায় দিতেন। ইমাম শাফেয়ির মযহাবের অগ্রগণ্য মত হলো, ওয়াকফকৃত সম্পত্তির মালিকানা আল্লাহ্র নিকট হস্তান্তরিত হয়ে যায়। তাই তা আর ওয়াক্ফ্ফ্ফারীরও সম্পত্তি থাকে না, যার নামে ওয়াকফ্ করা হয় তারও সম্পত্তি থাকে না। ইমাম মালিক ও আহমদ বলেন: যার নামে ওয়াকফ্ করা হয় মালিকানা তার কাছে হস্তান্তরিত হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে যে সম্পত্তি ওয়াকফ করা বৈধ এবং এর বৈধ নয়

📄 যে যে সম্পত্তি ওয়াকফ করা বৈধ এবং এর বৈধ নয়


অধিকাংশ আলেমের মতে, জমি ও যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি যথা আসবাবপত্র, কুরআন, বই কিতাব, অস্ত্র ও গৃহপালিত জীবজন্তু ইত্যাদি ওয়াকফ্ করা বৈধ। (কিন্তু ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মালেকের মতে জীবজন্তু ওয়াকফ করা অবৈধ।) অনুরূপ, এমন প্রত্যেক বস্তু ওয়াক্ত করা বৈধ, যা বিক্রয় করা বৈধ এবং যার মূল বস্তু বহাল রেখে তার উপকারিতা গ্রহণ করা যায়। এ বিষয়ে ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। যে জিনিসের উপকারিতা গ্রহণ করলে মূল বস্তুটাই নষ্ট বা নিঃশেষ হয়ে যায় তা ওয়াকফ্ করা জায়েয নয়, যেমন মুদ্রা, মোমবাতি, খাদ্য ও পানীয়। অনুরূপ, যা দ্রুত নষ্ট হয় তাও ওয়াক্ত করা জায়েয নয়, যেমন সুগন্ধী দ্রব্য। অনুরূপ যে সব জিনিস বিক্রয় করা জায়েয নেই যেমন বন্ধক দেয়া সামগ্রী, কুকুর, শূকর, হিংস্র জন্তু এবং যে সব হিংস্র পশুপাখি শিকারের যোগ্য নয়, তাও ওয়াকফ্ করা জায়েয নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সন্তানের নামে ওয়াকফ করা হলে পৌত্র প্রপৌত্ররাও তার আওতাভুক্ত হবে

📄 সন্তানের নামে ওয়াকফ করা হলে পৌত্র প্রপৌত্ররাও তার আওতাভুক্ত হবে


নিজের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন বা সুপরিচিত কোনো ব্যক্তির নাম ব্যতীত এবং পুণ্য কর্ম ব্যতীত যথা মসজিদ, ব্রীজ, ইসলামী পুস্তক বা কুরআন ব্যতীত ওয়াক্ফ করা জায়েয নেই। অপরিচিত কোনো পুরুষ বা নারীর নামে ওয়াকফ করা জায়েয নেই। অনুরূপ কোনো গুনাহ্ কাজে ওয়াক্ত করা জায়েয নেই, যেমন গির্জার নামে ওয়াকফ করা।
সন্তানের নামে ওয়াকফ করা হলে পৌত্র প্রপৌত্ররাও তার আওতাভুক্ত হবে: যে ব্যক্তি তার সন্তানের নামে ওয়াক্ত করবে, তার ওয়াফ্ফের আওতায় তার পৌত্র ও প্রপৌত্ররাও পড়বে। অনুরূপ মেয়ের সন্তানরাও তার আওতায় আসবে। আবু মুসা আশয়ারি (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'কোনো গোত্রের ভাগ্নেরাও ঐ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।' (বুখারি, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ি, তিরমিযি)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00