📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তাস বা পাশা খেলা

📄 তাস বা পাশা খেলা


অধিকাংশ আলেমের মতে তাস বা পাশা খেলা হারাম। তারা নিম্নোক্ত হাদিসসমূহ দ্বারা এর প্রমাণ দর্শান:
১. বারিদা বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি তাস ও পাশা খেললো, সে যেন নিজের হাতকে শূকরের রক্ত ও মাংস দ্বারা রঞ্জিত করলো।’ (মুসলিম, আহমদ, আবুদাউদ)
২. আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি তাস বা পাশা খেললো, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানি করলো।’ (আহমদ, আবুদাউদ, ইবনে মাজাহ, মালেক)
সাঈদ ইবনে জুবাইর (রা) পাশা খেলরত লোকদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাম করতেন না। ইমাম শাওকানি বলেন: পাশা বা তাস যদি জুয়ার ভিত্তিতে না খেলা হয়, তাহলে ইবনুল মুসাইয়াব ও ইবনে মুগাফফালের মতে জায়েয। মনে হয়, তারা হাদিসটিকে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করার অর্থে গ্রহণ করেছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দাবা খেলা

📄 দাবা খেলা


হাদিসে দাবা খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এ সব হাদিসের একটিও সহিহ নয়। হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: দাবা খেলা হারাম এ মর্মে কোনো সহিহ বা হাসান হাদিস নেই। তাই এর বৈধতা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, হারাম। কেউ বলেন, হালাল। ইমাম আবু হানিফা ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদের মতে হারাম। ইমাম শাফেয়ি ও কোনো কোনো তাবেয়ির মতে হারাম নয়, মাকরুহ। সাহাবা ও তাবেয়িদের কেউ কেউ এটা খেলতেন।
‘আলমুগনী’ গ্রন্থে ইবনে কুদামা বলেন: ‘দাবা পাশার মতই নিষিদ্ধ। তবে পাশা দাবার চাইতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, কারণ এটি সম্পর্কে হাদিস রয়েছে। তবে দাবা পাশার মতোই। তাই এটিতে পাশার বিধি প্রযোজ্য হবে কিয়াসের ভিত্তিতে।’
আবু হুরায়রা, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব ও সাঈদ ইবনে জুবাইরের মতে মুবাহ। তাদের প্রমাণ এই যে, সব জিনিস মূলত হালাল, যতক্ষণ হারাম হওয়ার প্রমাণ না পাওয়া যায়। যেহেতু দাবা সম্পর্কে কোনো হাদিস বা আয়াতও নেই, তাই এটা হালাল হিসাবেই বহাল থাকবে। যারা এটি হালাল বলেন, তারা তিনটি শর্তে হালাল বলেন:
১. খেলোয়াড়কে যেন ইসলামের কোনো কাজ থেকে বিরত না রাখে।
২. এতে যেন জুয়ার মিশ্রণ না ঘটে।
৩. খেলা চালাকালে শরীয়ত বিরোধী কাজ না হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00