📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জীবজন্তুর শরীর চিরে খোদাই করা ও খাসি করা

📄 জীবজন্তুর শরীর চিরে খোদাই করা ও খাসি করা


জীবজন্তুর মুখমণ্ডল ব্যতীত শরীরের অন্য যে কোনো স্থানে চিহ্ন খোদাই করা জায়েয। রসূলুল্লাহ (সা) দেখতে পেলেন, একটা গাধার মুখে চিহ্ন খোদাই করা হয়েছে। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি জাননা, যে ব্যক্তি জীবজন্তুর মুখে চিহ্ন খোদাই করে বা প্রহার করে, তাকে আমি অভিশাপ দিয়েছি?' (আবুদাউদ)
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) মুখমণ্ডলে প্রহার করা ও চিহ্ন আকা নিষিদ্ধ করেছেন।' - (মুসলিম, তিরমিযি)।
এ হাদিসে মানুষ বা জীবজন্তুর উল্লেখ না থাকায় ফকিহগণ প্রমাণ করেছেন যে, মানুষ বা জীবজন্তু, কারোই মুখমণ্ডলে প্রহার করা ও চিহ্ন অংকিত করা জায়েয নেই। কেননা মুখমণ্ডল সৌন্দর্যের কেন্দ্রস্থল এবং আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন। জীবজন্তু যাতে চেনা সহজ হয়, সে জন্য তার মুখমণ্ডল ব্যতীত অন্য কোথাও চিহ্ন আঁকা শুধু জায়েয নয়, বরং মুস্তাহাব। মুসলিমে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) যাকাতের উটকে চিহ্নিত করে রাখতেন।
আবু হানিফার মতে এটা মাকরূহ। কেননা এতে তাকে কষ্ট দেয়া হয় ও দেহ বিকৃত করা হয়, যা রসূল (সা) নিষিদ্ধ করেছেন। আবু হানিফার বক্তব্যের জবাব হলো, এটা ব্যতিক্রমী বিষয় এবং স্বয়ং রসূল (সা) থেকে এই ব্যতিক্রম প্রমাণিত। অর্থাৎ জীবকে কষ্ট দেয়া ও বিকৃত করা তাকে চিহ্নিত করার প্রয়োজন ব্যতীত নিষিদ্ধ। জীবজন্তুকে খাসি করাও একদল ফকিত্বের মতে জায়েয, যাতে জীব মোটা হয় এবং মালিক লাভবান হয়। উরওয়া ইবনুষ যুবাইর তার একটা খচ্চরকে খাসি করেছিলেন। উমর ইবনে আব্দুল আযীয ঘোড়া খাসি করণ ও ইমাম মালিক ছাগলভেড়া খাসি করণে অনুমতি দিয়েছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মানুষকে খাসি করা

📄 মানুষকে খাসি করা


মানুষকে খাসি করা জায়েয নয়। কেননা এটা দেহ বিকৃত করার পর্যায়ভুক্ত। তাছাড়া এতে প্রজনন ক্ষমতা লোপ পায়। এমনকি যাকে খাসি করা হয়, সে মারাও যেতে পারে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জীবজন্তুর মধ্যে লড়াই উস্কে দেয়া

📄 জীবজন্তুর মধ্যে লড়াই উস্কে দেয়া


রসূলুল্লাহ (সা) জীবজন্তুর মধ্যে লড়াই বাধানো নিষিদ্ধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: রসূল (সা) জীবজন্তুর মধ্যে যুদ্ধের উসকানি দিতে নিষেধ করেছেন। (আবুদাউদ, তিরমিযি)
১. আনাস ইবনে মালেক হাকাম ইবনে আইয়ুবের বাড়িতে ঢুকে দেখলেন, কয়েক ব্যক্তি একটি মুরগীকে তীর নিক্ষেপ করার জন্য আটক করেছে। তখন তিনি বললেন: রসূল (সা) কোনো জীবকে আটক করে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।' (মুসলিম)
২. জাবির (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) কোনো প্রাণীকে আটক করে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম) এটা নিষেধ করার কারণ হলো, এতে জীবকে কষ্ট দেওয়া হয়, তার প্রাণ হনন করা হয় ও তার মূল্য নষ্ট করা হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তাস বা পাশা খেলা

📄 তাস বা পাশা খেলা


অধিকাংশ আলেমের মতে তাস বা পাশা খেলা হারাম। তারা নিম্নোক্ত হাদিসসমূহ দ্বারা এর প্রমাণ দর্শান:
১. বারিদা বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি তাস ও পাশা খেললো, সে যেন নিজের হাতকে শূকরের রক্ত ও মাংস দ্বারা রঞ্জিত করলো।’ (মুসলিম, আহমদ, আবুদাউদ)
২. আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি তাস বা পাশা খেললো, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানি করলো।’ (আহমদ, আবুদাউদ, ইবনে মাজাহ, মালেক)
সাঈদ ইবনে জুবাইর (রা) পাশা খেলরত লোকদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাম করতেন না। ইমাম শাওকানি বলেন: পাশা বা তাস যদি জুয়ার ভিত্তিতে না খেলা হয়, তাহলে ইবনুল মুসাইয়াব ও ইবনে মুগাফফালের মতে জায়েয। মনে হয়, তারা হাদিসটিকে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করার অর্থে গ্রহণ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00