📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পরস্পর বাজি ধরার বৈধতা

📄 পরস্পর বাজি ধরার বৈধতা


প্রতিযোগিতা বৈধ এবং প্রশংসনীয় ব্যায়াম। নিয়ত ও উদ্দেশ্য অনুসারে এটা কখনো মুবাহ, কখনো মুস্তাহাব। প্রতিযোগিতা একাধিক ব্যক্তির দৌড়াদৌড়ি দ্বারাও হয়ে থাকে। আবার তীর, অস্ত্রশস্ত্র, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর দ্বারাও হয়। দৌড়াদৌড়ির প্রতিযোগিতার প্রমাণ আয়েশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস: আয়েশা (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে আমি দৌড়ের প্রতিযোগিতা করে জিতেছি। পরে যখন মোটা হয়ে গেছি, তখন প্রতিযোগিতায় রসূলুল্লাহ (সা) জিতেছেন। তখন আমি বলেছি: এটা আগের বিজয়ের বদলা।' -বুখারি। তীর, বল্লম, এবং ছুড়ে মারা যায় এমন যে কোনো অস্ত্র দ্বারা প্রতিযোগিতা করা যায়। আল্লাহ্ সূরা আনফালের ৬০ নং আয়াতে বলেন:
وَاعِدُوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُم مِن قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الخَيْلِ ........ الخ
'তোমরা কাফেরদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে।'
১. উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) মিম্বরের উপর থেকে ভাষণ দেয়ার সময় 'তোমরা কাফেরদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তিপ্রস্তুত রাখবে' এই আয়াত পড়ে বললেন: 'জেনে রাখো, তীর-বল্লম নিক্ষেপই শক্তি, তীর-বল্লম নিক্ষেপই শক্তি' (সহীহ মুসলিম)
২. রসূল (সা) বলেন: তোমরা তীর-বল্লম নিক্ষেপ রপ্ত কর। এটা তোমাদের শ্রেষ্ঠ খেলাধুলার অন্তর্ভুক্ত।'
৩. রসূলুল্লাহ্ (সা) আরো বলেন: 'তিনটে খেলা ব্যতীত আর সমস্ত খেলা হারাম। স্ত্রীর সাথে স্বামীর চিত্তবিনোদন, ধনুক দিয়ে তীর নিক্ষেপ, ঘোড়াকে দৌড় শেখানো।' তীর-বল্লম ছোড়ার সময় কোনো প্রাণীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হারাম। আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) একবার দেখলেন, একদল লোক একটা মুরগীকে লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ছে। তখন তিনি বললেন: 'কোনো প্রাণীকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপকারীকে রসূলুল্লাহ্ (সা) অভিশাপ দিয়েছেন।' (বুখারি, মুসলিম)। প্রাণীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের বৈধতা হাদিস থেকে প্রমাণিত:
১. আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: উট, ঘোড়া বা তীর-বল্লম ব্যতীত আর কোনো কিছুর প্রতিযোগিতা বৈধ নয়।' (আহমদ)।
২. ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: চল্লিশ দিন ধরে বিশেষ নিয়মে ঘাস খাইয়ে মোটাতাজা করা ঘোড়া দিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) হাইয়া থেকে 'সানইয়া' পর্যন্ত এবং মোটাতাজা করা হয়নি এমন ঘোড়া দিয়ে 'সান্‌হয়া' থেকে বনু যিররিকের মসজিদ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা করেছেন। প্রতিযোগীদের মধ্যে ইবনে উমরও ছিলেন।' (বুখারি, মুসলিম)। ইমাম বুখারি বলেন, সুফিয়ান বলেছেন: হাইয়া থেকে সানুয়ার দূরত্ব পাঁচ বা ছয় মাইল, আর সানিয়া থেকে বনু যিররিকের মসজিদ পর্যন্ত দূরত্ব এক মাইল। (হাইয়া মদিনার বাইরের একটি জায়গা।)
বাজি ধরা ব্যতীত প্রতিযোগিতা সর্বসম্মতভাবে জায়েয। বাজি ধরার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা নিম্নোক্ত অবস্থায় জায়েয:
১. শাসক বা অন্য কোনো ব্যক্তি পুরস্কার দিতে চাইলে তা গ্রহণ করা জায়েয। যেমন বলা হলো: তোমাদের মধ্যে যে জয়ী হবে সে এই পরিমাণ অর্থ পুরস্কার পাবে।
২. অথবা, প্রতিযোগীদের একজন কোনো সামগ্রী দেখিয়ে তার প্রতিপক্ষকে বলবে, তুমি জয়ী হলে এটা তোমার, আর আমি জিতলে আমরা কেউ কিছু পাবনা।
৩. পুরস্কারের সামগ্রীটি প্রতিযোগীদের একজন দেবে, তবে তাদের সাথে একজন তৃতীয় ব্যক্তি থাকবে, যে বিজয়ীকে সেটি গ্রহণ করতে দেবে এবং পরাজিতের উপর কোনো জরিমানা আরোপ করবেনা। আনাস (রা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো: রসূল (সা) এর আমলে আপনারা কি বাজি ধরতেন? রসূল (সা) কি বাজি ধরতেন? আনাস (রা) বললেন: হাঁ, তিনি 'সুবহা' নামক একটি ঘোড়ার উপর বাজি ধরেছিলেন। সেটি সবাইকে পরাজিত করেছিল। তাতে রসূলুল্লাহ্ (সা) খুবই আনন্দিত হন। (আহমদ)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সব পরিস্থিতিতে বাজি ধরা হারাম

📄 যে সব পরিস্থিতিতে বাজি ধরা হারাম


প্রতিযোগীদের মধ্যে যে জিতবে সে পুরস্কার পাবে এবং যে হারবে সে জরিমানা দেবে এরূপ বাজি ধরা হারাম। কেননা এটা জুয়া ও হারাম। রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: ঘোড়া তিন রকম: আল্লাহ্ ঘোড়া, মানুষের ঘোড়া, শয়তানের ঘোড়া। আল্লাহর ঘোড়া হলো, যে ঘোড়া আল্লাহ্র পথে জিহাদে ব্যবহৃত হয়। তার পেশাব, পায়খানা, ঘাস সব কিছুতেই সওয়াব পাওয়া যায়। শয়তানের ঘোড়া হলো, যার উপর জুয়া খেলা হয় বা বাজি ধরা হয়। আর মানুষের ঘোড়া হলো, যা মানুষের সাথে যুক্ত থাকে, মানুষ তার পেটের বাচ্চা কামনা করে এবং তাকে দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রতিযোগিতায় কাঠচুপি জায়েয নেই

📄 প্রতিযোগিতায় কাঠচুপি জায়েয নেই


রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: বাজি ধরায় 'জাল্ব' ও 'জানব' পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়। (আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজা)
'জাল্ব' হলো, এমন ব্যক্তিকে সহিস নিয়োগ করা, যে ঘোড়াকে দ্রুত দৌড়তে বাধ্য করে। আর 'জানব' হলো, অন্য ঘোড়াকে ধাক্কা দেয়া, যাতে সে পিছনে পড়ে যায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রতিযোগীকে কষ্ট দেয়া হারাম

📄 প্রতিযোগীকে কষ্ট দেয়া হারাম


জীবজন্তুকে কষ্ট দেয়া ও তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হারাম। যদি কেউ সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা বহনে বাধ্য করে, তবে শাসক তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করতে পারবে। জন্তু যদি দুধেল হয় তবে তা থেকে এত দুধ দোহন করা জায়েয নেই, যাতে তার শাবক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা ইসলামে, মানুষই হোক বা জীবজন্তুই হোক, কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জায়েয নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00