📄 যে সকল ছবির ছায়া নেই
এতোক্ষণ যা কিছু আলোচিত হলো, তা সে সব ছবি-মূর্তি সংক্রান্ত, যার দেহ ও ছায়া আছে। কিন্তু যে সকল ছবির কোনো ছায়া নেই, যেমন দেয়ালে ও কাগজে অংকিত নকশা এবং কাপড়ে, পর্দায় ও ফটোতে যে ছবি থাকে তার সবই জায়েয। প্রথম দিকে এগুলিও নিষিদ্ধ ছিল, পরে তার অনুমতি দেয়া হয়। এগুলো যে প্রথম নিষিদ্ধ ছিলো, তা আয়েশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস থেকে জানা যায়:
'রসূলুল্লাহ্ (সা) (একদিন) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন আমার একটা তাক একটা পাতলা পর্দা দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম, যাতে কিছু ছবি ছিলো। তিনি এগুলো দেখে তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এবং তার মুখের রং পাল্টে গেল। তিনি বললেন: হে আয়েশা, যারা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের চেষ্টা করে, কিয়ামতের দিন তাদের উপর সবচেয়ে বেশি আযাব হবে।' আয়েশা (রা) বলেন: এ কথা শুনে আমি পর্দাটা কেটে ফেললাম এবং তা দিয়ে কয়েকটা বালিশ বানালাম। আর নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা এটা বৈধ প্রমাণিত হয়:
১. আবু তালহা বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যে ঘরবাড়িতে ছবি থাকে তাতে ফেরেশতারা প্রবেশ করেনা। পরে যায়েদ ইবনে খালেদের অসুখ হলে আমরা দেখতে গেলাম। দেখলাম, তার দরজার উপর ছবি আঁকা পর্দা ঝুলছে। তখন রসূলুল্লাহ্ (সা) এর স্ত্রী মাইমুনার পালিত পুত্র উবায়দুল্লাহকে বললাম: যায়েদ না আমাদেরকে আগের দিন ছবি সম্পর্কে বলছিল? উবায়দুল্লাহ বললো: আপনি কি শোনেননি, যায়েদ বলেছিল: কাপড়ের নকশা এর ব্যতিক্রম? (পাঁচটি সহিহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত)।
২. আয়েশা (রা) বলেন: 'আমাদের একটা পর্দা ছিলো, তাতে একটা পাখির ছবি ছিলো। কেউ ঘরে ঢুকতে গেলেই সেটি তার সামনে পড়তো। তাই রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: ওটা উল্টে দাও। কারণ আমি যখনই ঘরে প্রবেশ করতে গিয়ে ওটা দেখি, অমনি দুনিয়ার কথা আমার মনে পড়ে যায়।' (মুসলিম)।
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, এটা হারাম নয়। যদি হারাম হতো, তা হলে তা নষ্ট করে ফেলার আদেশ দিতেন এবং শুধু উল্টিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হতেন না। তাছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পর্দাটা উল্টিয়ে দেয়ার কারণ হলো, ওটা দুনিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হানাফি ইমামদের মধ্য থেকে তাহাবী এই মত সমর্থন করে বলেন: 'শরিয়ত প্রথমে সব রকমের প্রতিকৃতি নিষিদ্ধ করেছে, এমনকি তা যদি নক্শামাত্র হয় তবুও। কেননা মুসলমানরা স্বল্পকাল আগেই মূর্তিপূজা থেকে উদ্ধার পেয়েছে। তারপর এই নিষেধাজ্ঞা যখন পালিত হলো, তখন একান্ত প্রয়োজনে কাপড়ের নকশা হিসাবে স্বল্প মাত্রায় অনুমোদন করা হয়েছে। কেননা স্বল্পমাত্রার ছবি অজ্ঞ লোকের জন্যও নিরাপদ। তবে অধিক মাত্রায় ছবির উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।'
ইবনে হাযম বলেন: অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের জন্য পুতুল ও ছবি নিয়ে খেলা জায়েয আছে, অন্য কারো জন্য নয়। এ ছাড়াও কাপড়ের নকশা ছাড়া আর সমস্ত ছবি ও প্রতিকৃতি হারাম। এরপর ইবনে হাম্ আবু তাল্হার হাদিস উল্লেখ করেছেন।