📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যভিচারি হিজড়াদের পোশাক

📄 ব্যভিচারি হিজড়াদের পোশাক


যে পোশাক মানুষকে অন্যান্য মানুষের চেয়ে বিখ্যাত করে তা হারাম।
১. ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়ায় খ্যাতির পোশাক পরবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে লাঞ্ছনাকর পোশাক পরাবেন।'
২. ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে পোশাক মাটিতে গড়িয়ে চলে, আল্লাহ্ তার দিকে তাকাবেননা।' (বুখারি, মুসলিম)
৩. আমর ইবনে শুয়াইব বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'খাও, পান কর, পোশাক পর ও দান করো, অপচয় ও অহংকার করোনা।' (আবুদাউদ, আহমদ, বুখারি)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 এক মহিলার চুলের সাথে অন্য মহিলার চুল যুক্ত করা বা পরচুলা লাগানো

📄 এক মহিলার চুলের সাথে অন্য মহিলার চুল যুক্ত করা বা পরচুলা লাগানো


১. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: জনৈকা মহিলা রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এল এবং বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমার একটা সদ্য বিবাহিতা মেয়ে আছে। হামরোগের কারণে তার চুল ঝরে গেছে। আমি কি তার চুলকে অন্য চুলের সাথে যুক্ত করতে পারি? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যে মহিলা কারো মাথায় পরচুলা লাগায় এবং যে মহিলা নিজের মাথায় পরচুল গ্রহণ করে, যে মহিলা অপরের শরীরে উলকি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উলকি উৎকীর্ণ করায়, তাদের উপর অভিসম্পাত।' ২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) অভিসম্পাত করেছেন সেই সব নারীর উপর, যারা শরীরে উলকি উৎকীর্ণ করে, যারা উলকি উৎকীর্ণ করায়, যারা কপালের উপরিভাগের চুল উপড়ে ফেলে, যারা সৌন্দর্যের জন্য ধাতব জিনিস দিয়ে দাঁত ঘষে দাঁত সরু করে বা দাঁতের মাঝে ধাতব পাত ঢুকিয়ে ফাঁক বড় করে এবং বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহ্র সৃষ্টিকে বিকৃত করে।'
আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রা) এ উক্তি বনু উসাইদের উম্মে ইয়াকুব নাম্নী জনৈকা কুরআন পাঠে অভ্যস্তা মহিলা শুনতে পেয়ে তার কাছে এসে তাকে এ সম্পর্কে কিছু বললো। আব্দুল্লাহ্ বললেন: আল্লাহর রসূল যাকে অভিসম্পাত করেছেন, তাকে আমি অভিসম্পাত করবোনা কেন? এটা তো কুরআনেও রয়েছে। মহিলা বললো: আমি তো কুরআন পড়েছি। তাতে কোথাও এটা পাইনি। তিনি বললেন: আপনি যদি পড়তেন (মনোযোগ দিয়ে) তাহলে অবশ্যই পেতেন।
আল্লাহ্ বলেছেন: وَمَا أَنكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ ، وَمَا نَهْكُمْ عَنْهُ فَالْتَهَواه
'রসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।' (সূরা হাশর, ৭) হাদিসটি তিরমিযি ব্যতীত অবশিষ্ট পাঁচটি সহিহ হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ্ (সা) রোগের কারণ ব্যতীত মুখমণ্ডল থেকে চুল তোলা, দাঁত ঘষে পাতলা ও ধারালো করা, পরচুলা লাগানো ও উল্কি দেয়া নিষিদ্ধ করেছেন।
'নাইলুল আওতা'র গ্রন্থে বলা হয়েছে: অভিসম্পাত দেয়া থেকে প্রমাণিত হয়, পরচুলা লাগানো হারাম। কেননা হারাম নয় এমন কোনো কাজে অভিসম্পাত উচ্চারিত হয়না। ইমাম নববী বলেন: এই মতটিই ব্যাপকভাবে গৃহীত। তবে এ ব্যাপারে কিছু বিবরণ রয়েছে। আলেমদের একটি গোষ্ঠী বলেন: পরচুলা যদি মানুষের চুল দিয়ে করা হয় তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে তা হারাম, চাই তা পুরুষের চুল হোক বা স্ত্রীর চুল হোক, স্বামী, মুহাররম ও অন্য কারো চুল হোক, তাতে কিছু আসে যায়না। কেননা মানুষের চুল ও তার দেহের প্রতিটি জিনিসই সমমান বিধায় তা ব্যবহার করা হারাম। বরঞ্চ মানুষের চুল, নখ ও অন্য সব অংশ মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়। আর যদি পরচুলা মানুষ ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীর হয়, তাহলে দেখতে হবে তা কোনো নাপাক চুল অর্থাৎ জীবন্ত অবস্থায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এমন, নাকি মৃত প্রাণীর বা যে প্রাণীর গোস্ত হারাম সে প্রাণীর চুল কিনা। যদি তাই হয় তবে হাদিস অনুযায়ী তাও হারাম। কেননা সে ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাযে ও নামায ছাড়া অন্যান্য সময়ে নাপাকী নিজের সাথে রাখবে। উভয় ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ বিবাহিত বা অবিবাহিত যা-ই হোক, উভয়ই সমান। পক্ষান্তরে মানুষ ব্যতীত অন্য প্রাণীর পবিত্র চুল বহনকারীণীর যদি স্বামী বা মনিব না থেকে থাকে, তাহলে সেটাও হারাম। আর যদি স্বামী বা মনিব থেকে থাকে তাহলে তিনটি মত রয়েছে: প্রথমত হাদিসের শাব্দিক অর্থের আলোকে নাজায়েজ। দ্বিতীয়ত জায়েজ। তৃতীয়ত বিশুদ্ধতম মত হলো, স্বামী বা মনিবের অনুমতিক্রমে পরচুলা গ্রহণ করলে জায়েজ, নচেত হারাম।' মানুষের চুল ব্যতীত অন্য কিছু যেমন রেশম, পশম ইত্যাদি দিয়ে পরচুলা বানালে সাইদ ইবনে জুবাইর, আহমদ ও লাইসের মতে জায়েজ।
কাযী ইয়ায বলেন: রঙ্গিন রেশমের সুতো ইত্যাদি, যার চুলের সাথে সাদৃশ্য নেই, নিষিদ্ধ নয়। কেননা এটা পরচুলার পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং এটা মামুলি সৌন্দর্য চর্চার পর্যায়ে পড়ে।
পরচুলা লাগানো যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি নারীর মুখমণ্ডল থেকে চুল উপড়ে ফেলাও নিষিদ্ধ। অবশ্য কারো যদি চুল-দাড়ি গজায়, তবে তা উপড়ানো না জায়েজ তো নয়ই, বরং মুস্তাহাব। এটা ইমাম নববীর অভিমত। দাঁত ঘষে চিকন করা বা দাঁতের মাঝে কৃত্রিমভাবে ফাঁক সৃষ্টি করা বা বড় করা যে করে ও যে করায় উভয়ের জন্য হারাম।
'নাইলুল আওতরা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এ কাজটি যদি শুধু সৌন্দর্য ও শোভা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হয় তাহলেই হারাম, রোগ নিরাময়ের জন্য করা হলে হারাম নয়। হাদিসে 'আল্লাহ্র সৃষ্টিকে বিকৃত করার কথা' বলা হয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টি করা শরীরের অংগ বা অংশ যেভাবে আছে, তা থেকে পরিবর্তন করাই বিকৃত করা এবং এটাই নাজায়েজ। আবু জাফর তাবারি বলেন:
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহ্ নারীকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন তাতে কোনো প্রকারের পরিবর্তন করা, চাই তা কমিয়ে বা বাড়িয়ে যেভাবেই করা হোক এবং চাই তা স্বামীর জন্য বা অন্য কারো জন্য সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হোক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হোক, অবৈধ। যেমন তার যদি একটা দাঁত বা অন্য কোনো অংগ বেশি থাকে তবে তা কেটে ফেলা বা উপড়ে ফেলা জায়েয নয়। কেননা সেটা হবে আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করার শামিল। অনুরূপ কারো দাঁত যদি বেশি লম্বা হয় এবং তার প্রান্ত কেটে সমান করা হয় তবে তাও জায়েয হবেনা। কাযী ইয়ায বলেন: এই বাড়তি অংশ যদি কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর হয় তাহলে তা কাটকাটি করাতে দোষ নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00