📄 শিশুদের জন্য রেশম পরা বৈধ
পুরুষ শিশুদের জন্যও রেশম পরা অধিকাংশ ফকিহের মতে হারাম। কারণ এর নিষেধাজ্ঞায় সেও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইমাম শাফেয়ি শিশুদের জন্য বৈধ মনে করেন। নিষেধাজ্ঞাটি অভিভাবকদের জন্য, শিশুদের জন্য নয়। কারণ তারা শরিয়ত পালনে দায়বদ্ধ নয়। ইমাম নববী বলেন: ঈদের দিন তাদেরকে অলংকার ও রেশম পরানো জায়েয। বছরের অন্য সময়েও কারো মতে জায়েয, কারো মতে হারাম, কারো মতে ন্যায় অন্যায় বুঝতে শেখার পর হারাম। তবে বিশুদ্ধতর মত হলো, বছরের অন্যান্য সময়েও জায়েয।
📄 সোনা-রূপার আংটি পরা
অধিকাংশ আলেমের মতে সোনার আংটি পরা শুধু পুরুষদের জন্য হারাম, মহিলাদের জন্য নয়। (সোনা ব্যতীত যে কোনো ধাতুর তৈরি আংটি নারী-পুরুষ সবার জন্য বৈধ, চাই তা সোনার চেয়েও মূল্যবান হোক না কেন।) এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদিসসমূহ থেকে প্রমাণ দর্শনো হয়:
১. বারা ইবনে আযিব (রা) বলেন: রসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে সাতটি কাজের আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন: আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন মৃত ব্যক্তির সাথে (কবর পর্যন্ত) যাওয়ার, রোগীকে দেখতে যাওয়ার, দাওয়াত গ্রহণ করার, অত্যাচারিতকে সাহায্য করার, শপথ পূর্ণ করার এবং সালামের জবাব দেয়ার, অন্য বর্ণনা অনুসারে, সালাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার এবং হাঁচিদাতাকে ইয়ারহামুকাল্লাহু (يَرْمَكَ اللَّ) আল্লাহ্ তোমার উপর রহম করুন বলে দোয়া করার। আর নিষেধ করেছেন রূপার পাত্র, সোনার আংটি, রেশমি কাপড়, রেশমি ঝালরযুক্ত কাপড়, রেশম মিশ্রিত তুলার কাপড়, মোটা রেশম, এবং ঘোড়ার পিঠে রেশমের লাল ঢাকনা ব্যবহার করতে।
২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ্ (সা) সোনা দ্বারা একটা আংটি তৈরি করালেন এবং তার পাথরে খোদাই করলেন 'মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ'। তখন অন্যরাও সে রকম আংটি তৈরি করালো। এটা দেখে তিনি নিজের আংটিটা ফেলে দিয়ে বললেন: আমি আর কখনো এটা পরবোনা। তারপর তিনি একটা রূপার আংটি তৈরি করালেন। অত:পর লোকেরা রূপার আংটি ব্যবহার করতে লাগলো। ইবনে উমর (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) এরপর ঐ আংটি আবু বকর, উমর ও উসমান (রা) পরেছেন। শেষ পর্যন্ত সেটি মসজিদে কুবার পার্শ্ববর্তী আরিসের কুয়ায় উসমান (রা) এর হাত থেকে পড়ে যায়।
৩. রসূল (সা) এক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখে তা খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: তোমাদের কেউ কেউ আগুনের টুকরো আনতে এগিয়ে যাও, অত:পর তা নিজের হাতে স্থাপন করে। রসূল (সা) চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হলো: তোমার আংটিটা কুড়িয়ে নাও এবং তা দ্বারা উপকৃত হও। সে বললো: না, আল্লাহ্র কসম, রসূল (সা) যা ছুড়ে ফেলেছেন, তা আমি আর নেবনা।' (মুসলিম)।
৪. আবু মুসা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: আমার উম্মাতের নারীদের জন্য সোনা ও রেশম হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে। (আহমদ, নাসায়ি ও তিরমিযি। মুহাদ্দিসগণ বলেন: হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ)।
৫. ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, আলি (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে সোনার আংটি পরতে, রেশম মিশ্রিত কাপড় পরতে, রুকু ও সাজদায় কুরআন পাঠ করতে এবং লাল কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। অধিকাংশ সাহাবি, তাবেইন, ও ফকিহ লাল কাপড় পরা বৈধ মনে করেন। কিন্তু ইমাম আহমদ মাকরূহ্ তানযিহি মনে করেন।
এগুলি হচ্ছে সোনার আংটি পরা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত অধিকাংশ আলিমের অভিমতের প্রমাণ। ইমাম নববি বলেন: কিছু অংশ সোনার ও কিছু অংশ রূপার তৈরি হলেও একই বিধি প্রযোজ্য। কোনো কোনো আলেম পুরুষদের জন্য সোনার আংটি পরা মাকরূহ তানযিহি মনে করেন। কিছু সংখ্যক সাহাবি সোনার আংটি পরেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ্, সুহাইব, হুযায়ফা, জাবির ইবনে সামুরা, ও বারা ইবনে আযিব। সম্ভবত তারা রসূল (সা) এর নিষেধাজ্ঞাকে মাকরূহ্ তানন্যিহি মনে করেছেন।