📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওয়াজিব পোশাক

📄 ওয়াজিব পোশাক


যে পোশাক ছতর ঢাকে, গরম ও শীত থেকে শরীরকে রক্ষা করে এবং ক্ষতি নিবারণ করে, সে পোশাক ওয়াজিব। হাকিম ইবনে হিযামের পিতা বলেন, আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্! আমাদের ছতরের কতটুকু ঢাকবো এবং কতটুকু ঢাকবোনা? তিনি বললেন: তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত আর সবার সামনে পুরো ছতর ঢাকবে। আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্, যখন সবাই এক জায়গায় অবস্থান করে তখন? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যদি পার, কাউকেই ছতর দেখতে দেবেনা। আমি বললাম: আমাদের কেউ যদি একাকী থাকি? তিনি বললেন: তাহলে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি লজ্জা পাওয়া উচিত।' (আহমদ, আবুদাউদ, ইবনে মাজা, তিরমিযি, হাকেম। তিরমিযি ও হাকেম একে হাসান বলেছেন)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুস্তাহাব পোশাক

📄 মুস্তাহাব পোশাক


যে পোশাকে সৌন্দর্য আছে, তা মুস্তাহাব পোশাক। আবুদ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন; 'তোমরা তোমাদের ভাইদের সামনে উপস্থিত হয়ে থাক। সুতরাং তোমাদের আবাসস্থল ও তোমাদের পোশাককে সুন্দর পরিচ্ছন্ন কর, যাতে তোমরা জনগণের মধ্যে অভিজাত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পার। (মনে রেখ) আল্লাহ্ অশালীন ও অশালঅনতাকে পছন্দ করেন না।' (আবু দাউদ)।
আবুল আহওয়াসের পিতা বলেন: আমি নিম্নমানের পোশাক পরে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে উপস্থিত হলাম। তা দেখে তিনি বললেন: তোমার কি কিছু ধন-সম্পদ আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন: কী ধরনের সম্পদ। আমি বললাম: আল্লাহ্ আমাকে উট, ভেড়া, ঘোড়া ও দাসদাসী দিয়েছেন। তিনি বললেন: তাহলে আল্লাহ যখন তোমাকে ধনসম্পদ দিয়েছেন, তখন তোমার বেশ-ভূষায় আল্লাহ্র নিয়ামতের নিদর্শন ও মর্যাদা প্রকাশ পাওয়া উচিত।' (আবুদাউদ)। বিভিন্ন ইবাদাতের সময়, জুমুআ, দু ঈদ ও জনসমাবেশের স্থানগুলোতে এর গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন; 'তোমাদের কেউ সমর্থ হলে সে যেন তার পেশাগত কাজে ব্যবহৃত পোশাক ব্যতীত জুমুয়ার দিনের জন্য এক জোড়া পোশাক তৈরি করে।' (আবু দাউদ)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হারাম পোশাক

📄 হারাম পোশাক


হারাম পোশাক হলো পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক, স্বর্ণ এবং মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পুরুষরা পরা, আর মহিলাদের পুরুষদের জন্য নির্ধাররিত পোশাক পরা এবং খ্যাতি, বড়াই ও অপব্যয়মূলক পোশাক পরা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 রেশম পরিধান করা ও তার উপর বসা

📄 রেশম পরিধান করা ও তার উপর বসা


হাদিসে স্পষ্টভাবে পুরুষদের জন্য রেশমের কাপড় পরা ও তার উপর বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের কয়েকটি হাদিস নিম্নে উল্লেখ করছি:
১. উমর (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'তোমরা রেশম পরিধান করোনা। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে তা পরিধান করতে পারবেনা।'
২. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত: উমর (রা) এক সেট পুরু রেশমের পোশাক বিক্রয় হতে দেখলেন, অত:পর তা নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে বললেন: হে রসূল, এটা কিনুন, এ দ্বারা ঈদের জন্য ও প্রতিনিধিদলগুলোর জন্য সুসজ্জিত হোন। রসূল (সা) বললেন: এ পোশাক শুধু তার জন্য, যার পরকালে এটা প্রাপ্য নেই। এরপর উমর (রা) এর বেশ কিছু দিন কেটে গেল। সহসা একদিন রসূল (সা) তার নিকট রেশমের আরেকটি জুব্বা পাঠালেন'। তখন উমর (রা) রসূল (সা) এর নিকট এসে বললেন: হে রসূল! আপনি বলেছেন: এটা সে ব্যক্তির পোশাক, যার পরকালে এটা প্রাপ্য নেই। তারপর আবার এটা পাঠিয়েছেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ওটা আমি তোমার কাছে তোমার পরিধানের জন্য পাঠাইনি, পাঠিয়েছি যাতে তুমি ওটা বিক্রয় করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পার।' (বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি আবুদাউদ, ইবনে মাজা)।
৩. হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে এবং রেশমের কাপড় পরিধান করতে ও তার উপর বসতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: ওটা দুনিয়ায় তাদের জন্য (অর্থাৎ আল্লাহ্র অবাধ্যদের জন্য) আর আখিরাতে আমাদের জন্য (বুখারি)। এ সব হাদিসের আলোকে অধিকাংশ আলেমের মত হলো, রেশম পরা ও বিছানো হারাম। মাহ্দী 'বাহরে' উল্লেখ করেছেন যে, এটা সর্বসম্মত মত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00