📄 পোশাক সম্পর্কে শরিয়তের বিধান
পোশাক তিন প্রকার: ওয়াজিব, মুস্তাহাব ও হারাম।
📄 ওয়াজিব পোশাক
যে পোশাক ছতর ঢাকে, গরম ও শীত থেকে শরীরকে রক্ষা করে এবং ক্ষতি নিবারণ করে, সে পোশাক ওয়াজিব। হাকিম ইবনে হিযামের পিতা বলেন, আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্! আমাদের ছতরের কতটুকু ঢাকবো এবং কতটুকু ঢাকবোনা? তিনি বললেন: তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত আর সবার সামনে পুরো ছতর ঢাকবে। আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্, যখন সবাই এক জায়গায় অবস্থান করে তখন? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যদি পার, কাউকেই ছতর দেখতে দেবেনা। আমি বললাম: আমাদের কেউ যদি একাকী থাকি? তিনি বললেন: তাহলে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি লজ্জা পাওয়া উচিত।' (আহমদ, আবুদাউদ, ইবনে মাজা, তিরমিযি, হাকেম। তিরমিযি ও হাকেম একে হাসান বলেছেন)।
📄 মুস্তাহাব পোশাক
যে পোশাকে সৌন্দর্য আছে, তা মুস্তাহাব পোশাক। আবুদ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন; 'তোমরা তোমাদের ভাইদের সামনে উপস্থিত হয়ে থাক। সুতরাং তোমাদের আবাসস্থল ও তোমাদের পোশাককে সুন্দর পরিচ্ছন্ন কর, যাতে তোমরা জনগণের মধ্যে অভিজাত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পার। (মনে রেখ) আল্লাহ্ অশালীন ও অশালঅনতাকে পছন্দ করেন না।' (আবু দাউদ)।
আবুল আহওয়াসের পিতা বলেন: আমি নিম্নমানের পোশাক পরে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে উপস্থিত হলাম। তা দেখে তিনি বললেন: তোমার কি কিছু ধন-সম্পদ আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন: কী ধরনের সম্পদ। আমি বললাম: আল্লাহ্ আমাকে উট, ভেড়া, ঘোড়া ও দাসদাসী দিয়েছেন। তিনি বললেন: তাহলে আল্লাহ যখন তোমাকে ধনসম্পদ দিয়েছেন, তখন তোমার বেশ-ভূষায় আল্লাহ্র নিয়ামতের নিদর্শন ও মর্যাদা প্রকাশ পাওয়া উচিত।' (আবুদাউদ)। বিভিন্ন ইবাদাতের সময়, জুমুআ, দু ঈদ ও জনসমাবেশের স্থানগুলোতে এর গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন; 'তোমাদের কেউ সমর্থ হলে সে যেন তার পেশাগত কাজে ব্যবহৃত পোশাক ব্যতীত জুমুয়ার দিনের জন্য এক জোড়া পোশাক তৈরি করে।' (আবু দাউদ)।
📄 হারাম পোশাক
হারাম পোশাক হলো পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক, স্বর্ণ এবং মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পুরুষরা পরা, আর মহিলাদের পুরুষদের জন্য নির্ধাররিত পোশাক পরা এবং খ্যাতি, বড়াই ও অপব্যয়মূলক পোশাক পরা।