📄 সাক্ষীকে শপথ করানো
এ যুগে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই শপথ দ্বারা সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা দৃঢ়তর করা জরুরি। 'মাজাল্লাতুল আত্কামিল আদলিয়া' তে বলা হয়েছে:
'আসামী যখন বিচারকের নিকট অনুরোধ করবে যে, রায় দেয়ার আগে সাক্ষীদের এ মর্মে শপথ করানো হোক যে, তারা তাদের সাক্ষ্যে মিথ্যাবাদী ছিলনা, তখন বিচারক সাক্ষীদের শপথ গ্রহণ করাতে পারেন এবং বলতে পারেন যে, তোমরা শপথ করলে তোমাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, নচেৎ করা হবে না।
ইবনে আবি লায়লা, ইবনুল কাইয়েম, কর্ডোভার বিচারক মুহাম্মাদ ইবনে বশীর ও ইবনে নুজাইম এ মতের সমর্থক। কিন্তু হানাফি ফকিহদের মত হলো, সাক্ষীর কোনো শপথ করা জরুরি নয়। কেননা শাহাদাত বা সাক্ষ্য শব্দটাতেই শপথের অর্থ প্রচ্ছন্ন রয়েছে। হাম্বলি মযহাব অনুসারে এমন কোনো সাক্ষীকে শপথ করানো হবে না, যে সাক্ষী দায়দায়িত্ব গ্রহণে রাযি নয়, এমন কোনো বিচারককে শপথ করানো হবেনা, যে রায়কে অস্বীকার করে এবং কোনো অছিয়তধারীকে অছিয়তকারীর ঋণ অস্বীকার করতে শপথ করানো হবে না।
বিয়ে, তালাক, তালাক প্রত্যাহার, ঈলা, বংশ পরিচয়, কিসাস ও অপবাদ অস্বীকারকারীকে শপথ করানো হবে না। কেননা এগুলো অর্থ বিষয়ক নয়, অর্থপ্রাপ্তি এগুলোর উদ্দেশ্য নয় এবং শপথ করা থেকে বিরত থাকলে তার ভিত্তিতে রায় দেয়া হবে না।
📄 মিথ্যা সাক্ষ্য দান
মিথ্যা সাক্ষ্য দান সবচেয়ে মারাত্মক কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম। কেননা এটা অত্যাচারীর পৃষ্ঠপোষকতা, অত্যাচারিতের অধিকার হরণ, বিচারককে বিপথে চালিত করা, অধিকার বঞ্চিতদের মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি এবং মানব সমাজে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়ার নামান্তর। আল্লাহ্ তায়ালা সূরা হজ্জের ৩০ নং আয়াতে বলেন: فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّوْرِه 'তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা বর্জন কর এবং মিথ্যা বলা থেকে দূরে থাক।'
ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য আল্লাহ্ দোযখ অবধারিত না করা পর্যন্ত সে পা নাড়াতে পারবে না।' (ইবনে মাজা)।
ইমাম বুখারি ও মুসলিম আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূল (সা) কে কবিরা গুনাহ্ কী জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: আল্লাহ্র সাথে শরিক করা, হত্যা করা, পিতামাতার অবাধ্যতা। তিনি আরো বললেন: সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ কী তোমাদেরকে বলবো: তা হচ্ছে মিথ্যা বলা, বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ কী বলবো নাকি? আমরা বললাম: হে রসূল, বলুন। তিনি বললেন: আল্লাহ্র সাথে শরিক করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন। সহসা সোজা হয়ে বসে বললেন: সাবধান, মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। কথাটা তিনি এতো বেশি পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন যে, আমরা বলতে লাগলাম, 'আহা, উনি এখন চুপ করলে ভাল হতো।' (মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া ব্যভিচার ও চুরির চেয়েও বড় অপরাধ। এ জন্য রসূলুল্লাহ্ (সা) এটা সম্পর্কে সতর্ক করাকে এত গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ মিথ্যা সাক্ষ্য উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত সহজ। লোকেরা একে প্রায়ই হালকা মনে করে থাকে। এর ফলে হিংসা ও বিদ্বেষ ব্যাপক রূপ ধারণ করে, তাই এটিকে এত গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন ছিলো।)
📄 মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার শাস্তি
ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমদের মতে 'মিথ্যা সাক্ষ্যদাতাকে শাস্তি দিতে হবে এবং সে যে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা, তা ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। ইমাম মালেক আরো বলেন: সকল বাজারে, জামে মসজিদে ও জনসমাবেশে তাকে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা বলে চিহ্নিত ও প্রচার করতে হবে, যাতে তার শাস্তি হয় ও অন্যরা সতর্ক হয়।