📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ববিরোধিতা বা সাক্ষ্য প্রত্যাহার

📄 স্ববিরোধিতা বা সাক্ষ্য প্রত্যাহার


সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেয়ার পর যদি বিচারকের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণার আগে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করে, তবে তাদের দেয়া সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে এবং তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। এটা অধিকাংশ ফকিরে মত। কিন্তু রায় ঘোষণার পর বিচারকের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে রায় বাতিল হবে না, কিন্তু রায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে সাক্ষী বাধ্য থাকবে। দু' ব্যক্তি আলি (রা) এর নিকট অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির সাক্ষ্য দেন। এর ফলে তার হাত কেটে ফেলা হয়। এরপর তারা উভয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এসে বললো: আসলে এ লোকটি চোর। আলি (রা) বললেন: দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করি না। তবে প্রথম জনের হাত কাটার জন্য তাকে দিয়াত দিতে তোমাদেরকে বাধ্য করবো। আমি যদি জানতে পারি যে, তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করেছ, তবে তোমাদের উভয়ের হাত কেটে দেব।
অধিকাংশ ফকিরে প্রদত্ত এ মতের কারণ বিশ্লেষণ করে শিহাবুদ্দীন কারাফি বলেন: ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও আইন সংগতকারণে রায় দেয়া হয়েছে। এরপর সাক্ষীরা নিজেদের মিথ্যাচারের স্বীকারোক্তি দিয়ে যে জবানবন্দি দিয়েছে, তা দ্বারা তারা নিজেদেরকে ফাসেক বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। যেহেতু ফাসেকের উক্তিতে রায় বাতিল হতে পারে না, তাই রায় যেমন ছিল তেমনই থাকবে।' কিন্তু ইবনুল মুসাইয়াব, আওযায়ি ও যাহেরি মযহাবের ফকিহগণ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে সর্বাবস্থায় রায় বাতিল হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন। কেননা রায় সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে। সাক্ষীরা যখন সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলো, তখন রায়ের আর কোনো ভিত্তি রইলোনা। কোনো কোনো ফকিত্রে মতে, হুদুদ ও কিসাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সাক্ষীরা রায় কার্যকর হওয়ার আগে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে রায় কার্যকর হবে না। কেননা যে কোনো সন্দেহের কারণে হুদুদ রহিত হয়ে থাকে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বাদীর স্ববিরোধিতা

📄 বাদীর স্ববিরোধিতা


বাদী যদি এমন কোনো কথা বলে যা তার দাবির বিরোধী, তাহলে তার দাবি বাতিল হয়ে যাবে। সে যদি কোনো সম্পত্তি অন্য কারো প্রাপ্য বলে স্বীকারোক্তি করে, তারপর দাবি করে যে, ওটা তার, তবে তার স্বীকারোক্তির পরিপন্থী এই দাবি তার দাবিকে বাতিল করবে এবং তা গ্রহণে অন্তরায় হবে। আর যখন কেউ অন্য কাউকে সকল দাবি থেকে অব্যাহতি দেয়, তখন এই অব্যাহতি দেয়ার পর তার নিকট তার নিজের জন্য আর কোনো দাবি উত্থাপন বৈধ হবে না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বাদীর প্রমাণ বাতিল করণ

📄 বাদীর প্রমাণ বাতিল করণ


বিবাদীর কাছে যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে, যা দ্বারা সে বাদীর দাবি ভুল ও অন্যায় বলে প্রমাণ করত নিজেকে দায়মুক্ত করতে পারে, তবে সে সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করা তার জন্য বৈধ। এ ধরনের সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকলে সে ইচ্ছা করলে এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারবে, যা বাদীর সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা খণ্ডন করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দু’সাক্ষীর পরস্পর বিরোধী সাক্ষ্য

📄 দু’সাক্ষীর পরস্পর বিরোধী সাক্ষ্য


যখন দু'জন সাক্ষী পরস্পর বিরোধী হয় এবং একজনকে অপরজনের উপর অগ্রাধিকার দেয়ার মত কিছুই পাওয়া যায় না, তখন দাবিকৃত জিনিসটি বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ্ (সা) এর আমলে দু' ব্যক্তি একটা উট দাবি করলো। উভয়ে তাদের দাবির স্বপক্ষে দু'জন করে সাক্ষী পাঠিয়ে দিলো। অগত্যা রসূলুল্লাহ্ (সা) উটটাকে উভয়ের মধ্যে আধা আধি বণ্টন করে দিলেন। (আবু দাউদ, বায়হাকি, হাকেম)
আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজা ও নাসায়ি আবু মূসা থেকে বর্ণনা করেন: 'দুই ব্যক্তি একটি জন্তুর দাবি নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট গেল। তাদের কারো কাছেই কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিলনা। রসূল (সা) জন্তুটিকে উভয়ের মধ্যে আধাআধি বণ্টন করে দিলেন।' এটাই ইমাম আবু হানিফার মত। দাবিকৃত জিনিসটি যদি দু'জনের একজনের দখলে থাকে তবে প্রতিপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা। যদি হাজির করতে না পারে তবে যার দখলে আছে সে শপথ করে যা বলবে, সেটাই গৃহীত হবে। অনুরূপ, উভয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করলে দখল দ্বারা সাক্ষ্য-প্রমাণ অগ্রগণ্যতা পাবে। জাবির (রা) বর্ণনা করেন, একটি উট নিয়ে দু' ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ দেখা দিলো। উভয়ে বললো, ওটা আমার কাজেই জন্মেছে এবং সাক্ষী উপস্থিত করলো। রসূল (সা) উটটি যার দখলে রয়েছে, তার পক্ষে ফায়সালা করলেন। -(বায়হাকি, ইমাম শাফেয়িও অনুরূপ বর্ণনা করেন)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00