📄 স্ববিরোধিতা দূরীকরণ
স্ববিরোধিতা দু'প্রকার:
১. সাক্ষীদের স্ববিরোধিতা
২. বাদীর স্ববিরোধিতা।
📄 স্ববিরোধিতা বা সাক্ষ্য প্রত্যাহার
সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেয়ার পর যদি বিচারকের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণার আগে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করে, তবে তাদের দেয়া সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে এবং তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। এটা অধিকাংশ ফকিরে মত। কিন্তু রায় ঘোষণার পর বিচারকের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে রায় বাতিল হবে না, কিন্তু রায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে সাক্ষী বাধ্য থাকবে। দু' ব্যক্তি আলি (রা) এর নিকট অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির সাক্ষ্য দেন। এর ফলে তার হাত কেটে ফেলা হয়। এরপর তারা উভয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এসে বললো: আসলে এ লোকটি চোর। আলি (রা) বললেন: দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করি না। তবে প্রথম জনের হাত কাটার জন্য তাকে দিয়াত দিতে তোমাদেরকে বাধ্য করবো। আমি যদি জানতে পারি যে, তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করেছ, তবে তোমাদের উভয়ের হাত কেটে দেব।
অধিকাংশ ফকিরে প্রদত্ত এ মতের কারণ বিশ্লেষণ করে শিহাবুদ্দীন কারাফি বলেন: ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও আইন সংগতকারণে রায় দেয়া হয়েছে। এরপর সাক্ষীরা নিজেদের মিথ্যাচারের স্বীকারোক্তি দিয়ে যে জবানবন্দি দিয়েছে, তা দ্বারা তারা নিজেদেরকে ফাসেক বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। যেহেতু ফাসেকের উক্তিতে রায় বাতিল হতে পারে না, তাই রায় যেমন ছিল তেমনই থাকবে।' কিন্তু ইবনুল মুসাইয়াব, আওযায়ি ও যাহেরি মযহাবের ফকিহগণ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে সর্বাবস্থায় রায় বাতিল হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন। কেননা রায় সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে। সাক্ষীরা যখন সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলো, তখন রায়ের আর কোনো ভিত্তি রইলোনা। কোনো কোনো ফকিত্রে মতে, হুদুদ ও কিসাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সাক্ষীরা রায় কার্যকর হওয়ার আগে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে রায় কার্যকর হবে না। কেননা যে কোনো সন্দেহের কারণে হুদুদ রহিত হয়ে থাকে।
📄 বাদীর স্ববিরোধিতা
বাদী যদি এমন কোনো কথা বলে যা তার দাবির বিরোধী, তাহলে তার দাবি বাতিল হয়ে যাবে। সে যদি কোনো সম্পত্তি অন্য কারো প্রাপ্য বলে স্বীকারোক্তি করে, তারপর দাবি করে যে, ওটা তার, তবে তার স্বীকারোক্তির পরিপন্থী এই দাবি তার দাবিকে বাতিল করবে এবং তা গ্রহণে অন্তরায় হবে। আর যখন কেউ অন্য কাউকে সকল দাবি থেকে অব্যাহতি দেয়, তখন এই অব্যাহতি দেয়ার পর তার নিকট তার নিজের জন্য আর কোনো দাবি উত্থাপন বৈধ হবে না।
📄 বাদীর প্রমাণ বাতিল করণ
বিবাদীর কাছে যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে, যা দ্বারা সে বাদীর দাবি ভুল ও অন্যায় বলে প্রমাণ করত নিজেকে দায়মুক্ত করতে পারে, তবে সে সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করা তার জন্য বৈধ। এ ধরনের সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকলে সে ইচ্ছা করলে এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারবে, যা বাদীর সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা খণ্ডন করে।