📄 শপথ তলবকারীর নিজের উপর শপথ হবে
বাদী বিবাদীর একজন যখন শপথ করবে, তখন বিচারকের নিয়ত ও শপথ তলবকারীর নিয়তের উপর শপথ হবে, যার দাবি পূরণ ঐ শপথের উপর নির্ভরশীল, শপথকারীর নিয়তের উপর নয়। কেননা ইতিপূর্বে রসূলের এ হাদিস বর্ণিত হয়েছে: 'শপথ তলবকারীর নিয়তের উপর শপথ।' সুতরাং শপথকারী যখন শপথে তার ইচ্ছা গোপন করে, অর্থাৎ তার ব্যবহৃত শব্দ দ্বারা বাহ্যত যা বুঝা যায়, তা থেকে ভিন্ন কোনো অর্থ গোপন করে, তখন সেটা বৈধ হবেনা। কারো কারো মতে, কোনো ব্যক্তি অত্যাচারিত হওয়ার কারণে এটা করতে বাধ্য হলে তার জন্য বৈধ।
📄 সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে শপথ যুক্ত করে রায় দান
বাদীর সাথে যখন একমাত্র সাক্ষী ব্যতীত আর কোনো প্রমাণ থাকেনা, তখন ঐ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও সে সাথে বাদীর শপথ যুক্ত করে বিচারের রায় দেয়া হবে। কেননা দারু কুতনি আমর ইবনে শুয়াইব সূত্রে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) দু'জন সাক্ষী দ্বারা বিচার করতেন। দু'জন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারলে বাদী তার পাওনা বুঝে নিত। আর যদি সে একজন সাক্ষী নিয়ে আসতো তখন সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে সাথে বাদী শপথও করতো। হুদুদ ও কিসাস ব্যতীত যাবতীয় মামলায় একক সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে বাদীর শপথ যুক্ত করে রায় দেয়া যাবে। তবে কোনো কোনো আলেম সাক্ষ্য ও শপথের ভিত্তিতে নিষ্পত্তিকে কেবল আর্থিক ও তৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন। একজন সাক্ষী ও শপথ দ্বারা বিচার নিষ্পত্তি বিষয়ক হাদিসগুলো বিশজনের বেশি বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
শাফেয়ি বলেন: একজন সাক্ষী ও শপথ দ্বারা বিচার নিষ্পন্ন করা কুরআনের প্রকাশ্য উক্তির বিরোধী নয়। কুরআন সুস্পষ্ট ভাষায় যে সংখ্যক সাক্ষী প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে, এ ব্যবস্থা তা ব্যাহত করেনা।
এ পদ্ধতির পক্ষে রায় দিয়েছেন আবু বকর, আলি, উমর ইবনে আব্দুল আযীয ও অধিকাংশ প্রাচীন ও পরবর্তী কালীন ফকিহ্, যাদের মধ্যে ইমাম মালেক ও তাঁর শিষ্যগণ, ইমাম শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীগণ, ইমাম আহমদ, ইসহাক, আবু উবায়দ, আবু সাওর, ও দাউদ অন্যতম। আর হানাফি ফকিহগণ, আওযায়ি, যায়দ ইবনে আলি, যুহরি, নাসায়ি, ও ইবনে শারুমা এর বিরোধিতা করে বলেছেন: একজন সাক্ষী ও শপথ দ্বারা কখনো বিচার সম্পন্ন করা যাবেনা। কিন্তু এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলি তাদের বিপক্ষে।
📄 একটি পারিবারিক প্রমাণ
পারিপার্শ্বিক প্রমাণ হলো সে আলামত, যা নিশ্চিত বিশ্বাস সৃষ্টি করে। এর উদাহরণ হলো: এক ব্যক্তি একটি নির্জন ঘর থেকে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলো, তার হাতে রক্তাক্ত ছোরা, এবং তৎক্ষণাৎ ঐ ঘরে প্রবেশ করে দেখা গেল একজন মানুষ গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিই যে নিহত লোকটির খুনী, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকেনা। এ ক্ষেত্রে এরূপ কল্পনাসর্বস্ব সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই যে, লোকটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। বিচারক যখন নিশ্চিত হবে যে, প্রকৃত ঘটনা এটাই, তখন তাকে ঐ অভিযোগে গ্রেফতার করা হবে।
হানাফি ফকিহগণ এর আরো উদাহরণ দিয়েছেন। যেমন: একটি আটা বোঝাই নৌকায় দু'জন লোক রয়েছে। একজন ব্যবসায়ী ও অপরজন নৌকার মাঝি। দু'জনের মধ্যে আটা ও নৌকার মালিকানা নিয়ে বিবাদ বাধলো। অথচ দু'জনের কারো কাছেই কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী কে আটার মালিক ও নৌকার মাঝিকে নৌকার মালিক গণ্য করা হবে। অনুরূপ, একটা দম্পতির সদ্যজাত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্বামীকেই তার পিতা গণ্য করা হবে। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'বিছানা যার সন্তান তার।'
📄 বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে বিরোধ
যখন দু' ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হয়, কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাদের একজনের পক্ষে, তখন সেটাই আমলে নিতে হবে। এটা হাম্বলি ফকিহদের অভিমত। যেমন স্বামী ও স্ত্রী বাড়ির আসবাব পত্র নিয়ে বিবাদে লিপ্ত, তখন ঐ আসবাবপত্রের মধ্যে যেগুলো পুরুষের উপযোগী তা স্বামীকে এবং যেগুলো মহিলাদের উপযোগী তা স্ত্রীকে দেয়া হবে। আর যেগুলো উভয়ের উপযোগী, তা উভয়ের মধ্যে আধাআধি বণ্টন করে দেয়া হবে। আর যদি উভয়ের মধ্যে মৈত্রী ও সমতা থাকে কিন্তু একজনের প্রাধান্য বেশি থাকে, তাহলে রায় তার পক্ষে যাবে। যেমন একটি জন্তুকে একজন লাগাম ধরে টেনে নিচ্ছে, এবং অপরজন আরোহী, এমতাবস্থায় জন্তুটি আরোহীর বলে গণ্য হবে। কারণ সে অপরজনের চেয়ে অধিক প্রাধান্য ও আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে।