📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শপথ করতে অস্বীকৃতি

📄 শপথ করতে অস্বীকৃতি


বাদী সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করায় বিবাদিকে যখন শপথ করতে বলা হয়, তখন সে শপথ করতে সম্মত না হলে তার এ অসম্মতিকে বিবাদীর দাবির স্বীকৃতি বলে গণ্য করা হবে। কেননা সে অস্বীকৃতি জানানোর ব্যাপারে আন্তরিক হলে শপথ করতে অসম্মত হতো না। শপথ করার এ অসম্মতি সরাসরিও প্রকাশ করা হতে পারে, কিংবা মৌনতা দ্বারাও প্রমাণিত হতে পারে।
এরূপ অবস্থায় বাদীর উপর নিজের দাবির সত্যতার পক্ষে শপথ করার দায়িত্ব আরোপিত হবেনা। কেননা শপথ সব সময় অস্বীকৃতির পক্ষেই হয়ে থাকে। কারণ রসূল (সা) বলেন: যে দাবি করে তার দায়িত্ব প্রমাণ পেশ করা, আর যে অস্বীকার করে তার দায়িত্ব শপথ করা। এটা হানাফি মযহাবের মত এবং ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও ইমাম আহমদের দ্বিতীয় মত হলো শুধুমাত্র শপথে অসম্মতি বিবাদীর বিরুদ্ধে রায় দেয়ার জন্য যথেষ্ট হয়। কেননা এটা একটা দুর্বল প্রমাণ। এটিকে সবল করার জন্য বাদীর দাবির সত্যতা সম্পর্কে শপথ করা জরুরি, চাই বিবাদী সেটি চাক বা না চাক। বাদী শপথ করলে তার দাবির স্বপক্ষে রায় দেয়া হবে, নচেৎ তা প্রত্যাখান করা হবে। এর প্রমাণ হিসাবে বলা হয়, রসূল (সা) একজন দাবিদারকে শপথ করতে বলেছিলেন। কিন্তু এই হাদিসটির সনদ বিভিন্ন কারণে দুর্বল। ইমাম মালেকের মতে এই বিধি কেবল অর্থসংক্রান্ত দাবির মধ্যে সীমিত। কিন্তু ইমাম শাফেয়ি বলেন: এটা সকল ধরনের দাবির বেলায় প্রযোজ্য।
যাহেরি মযহাব ও ইবনে আবি লায়লা বিবাদীর শপথে অসম্মতিকে ধর্তব্য মনে করেননা এবং তা দ্বারা কোনো ব্যাপারেই কোনো নিষ্পত্তি করা যায়না বলে মত প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বাদীকে শপথ করতে বলা হবেনা। তবে বিবাদী হয় বাদীর দাবি মেনে নেবে, নতুবা অস্বীকার করবে এবং নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করে শপথ করবে।
ইমাম শওকানির মতে, শেষোক্ত মতই অগ্রগণ্য। তিনি বলেন: শপথে অসম্মতির ভিত্তিতে বিচার নিষ্পত্তি করা বৈধ নয়। কেননা এতে বড়জোর এতটুকু বিষয় প্রমাণিত হয় যে, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যার শপথ করার দায়িত্ব ছিলো, সে সেটা করেনি এবং সে দায়িত্ব পালন করেনি। এটা না করার অর্থ এ নয় যে, সে বাদীর দাবি মেনে নিয়েছে। এর অর্থ শুধু এ যে, শরিয়তে তার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিল, তা সে পরিত্যাগ করেছে। সুতরাং বিচারকের করণীয় হলো, শপথ করতে অসম্মত হওয়ার পর বিবাদীকে দুটো কাজের একটা করতে বাধ্য করবে: হয় তার যে শপথ করার কথা, তা সে করবে, নচেৎ বাদী যা দাবি করেছে তা মেনে নেবে। এ দুটো কাজের যেটিই সে করবে, তার ভিত্তিতে বিচার নিষ্পত্তি করা যাবে।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শপথ তলবকারীর নিজের উপর শপথ হবে

📄 শপথ তলবকারীর নিজের উপর শপথ হবে


বাদী বিবাদীর একজন যখন শপথ করবে, তখন বিচারকের নিয়ত ও শপথ তলবকারীর নিয়তের উপর শপথ হবে, যার দাবি পূরণ ঐ শপথের উপর নির্ভরশীল, শপথকারীর নিয়তের উপর নয়। কেননা ইতিপূর্বে রসূলের এ হাদিস বর্ণিত হয়েছে: 'শপথ তলবকারীর নিয়তের উপর শপথ।' সুতরাং শপথকারী যখন শপথে তার ইচ্ছা গোপন করে, অর্থাৎ তার ব্যবহৃত শব্দ দ্বারা বাহ্যত যা বুঝা যায়, তা থেকে ভিন্ন কোনো অর্থ গোপন করে, তখন সেটা বৈধ হবেনা। কারো কারো মতে, কোনো ব্যক্তি অত্যাচারিত হওয়ার কারণে এটা করতে বাধ্য হলে তার জন্য বৈধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে শপথ যুক্ত করে রায় দান

📄 সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে শপথ যুক্ত করে রায় দান


বাদীর সাথে যখন একমাত্র সাক্ষী ব্যতীত আর কোনো প্রমাণ থাকেনা, তখন ঐ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও সে সাথে বাদীর শপথ যুক্ত করে বিচারের রায় দেয়া হবে। কেননা দারু কুতনি আমর ইবনে শুয়াইব সূত্রে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) দু'জন সাক্ষী দ্বারা বিচার করতেন। দু'জন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারলে বাদী তার পাওনা বুঝে নিত। আর যদি সে একজন সাক্ষী নিয়ে আসতো তখন সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে সাথে বাদী শপথও করতো। হুদুদ ও কিসাস ব্যতীত যাবতীয় মামলায় একক সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে বাদীর শপথ যুক্ত করে রায় দেয়া যাবে। তবে কোনো কোনো আলেম সাক্ষ্য ও শপথের ভিত্তিতে নিষ্পত্তিকে কেবল আর্থিক ও তৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন। একজন সাক্ষী ও শপথ দ্বারা বিচার নিষ্পত্তি বিষয়ক হাদিসগুলো বিশজনের বেশি বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
শাফেয়ি বলেন: একজন সাক্ষী ও শপথ দ্বারা বিচার নিষ্পন্ন করা কুরআনের প্রকাশ্য উক্তির বিরোধী নয়। কুরআন সুস্পষ্ট ভাষায় যে সংখ্যক সাক্ষী প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে, এ ব্যবস্থা তা ব্যাহত করেনা।
এ পদ্ধতির পক্ষে রায় দিয়েছেন আবু বকর, আলি, উমর ইবনে আব্দুল আযীয ও অধিকাংশ প্রাচীন ও পরবর্তী কালীন ফকিহ্, যাদের মধ্যে ইমাম মালেক ও তাঁর শিষ্যগণ, ইমাম শাফেয়ি ও তাঁর অনুসারীগণ, ইমাম আহমদ, ইসহাক, আবু উবায়দ, আবু সাওর, ও দাউদ অন্যতম। আর হানাফি ফকিহগণ, আওযায়ি, যায়দ ইবনে আলি, যুহরি, নাসায়ি, ও ইবনে শারুমা এর বিরোধিতা করে বলেছেন: একজন সাক্ষী ও শপথ দ্বারা কখনো বিচার সম্পন্ন করা যাবেনা। কিন্তু এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলি তাদের বিপক্ষে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 একটি পারিবারিক প্রমাণ

📄 একটি পারিবারিক প্রমাণ


পারিপার্শ্বিক প্রমাণ হলো সে আলামত, যা নিশ্চিত বিশ্বাস সৃষ্টি করে। এর উদাহরণ হলো: এক ব্যক্তি একটি নির্জন ঘর থেকে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলো, তার হাতে রক্তাক্ত ছোরা, এবং তৎক্ষণাৎ ঐ ঘরে প্রবেশ করে দেখা গেল একজন মানুষ গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিই যে নিহত লোকটির খুনী, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকেনা। এ ক্ষেত্রে এরূপ কল্পনাসর্বস্ব সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই যে, লোকটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। বিচারক যখন নিশ্চিত হবে যে, প্রকৃত ঘটনা এটাই, তখন তাকে ঐ অভিযোগে গ্রেফতার করা হবে।
হানাফি ফকিহগণ এর আরো উদাহরণ দিয়েছেন। যেমন: একটি আটা বোঝাই নৌকায় দু'জন লোক রয়েছে। একজন ব্যবসায়ী ও অপরজন নৌকার মাঝি। দু'জনের মধ্যে আটা ও নৌকার মালিকানা নিয়ে বিবাদ বাধলো। অথচ দু'জনের কারো কাছেই কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী কে আটার মালিক ও নৌকার মাঝিকে নৌকার মালিক গণ্য করা হবে। অনুরূপ, একটা দম্পতির সদ্যজাত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্বামীকেই তার পিতা গণ্য করা হবে। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'বিছানা যার সন্তান তার।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00