📄 শিশুর দুধ পান সংক্রান্ত সাক্ষ্য
ইবনে আব্বাস ও আহমদের মতে ধাত্রীর একার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। কেননা ইমাম বুখারি বর্ণনা করেন: উকবা ইবনুল হারিস যখন উম্মে ইয়াহিয়াকে বিয়ে করলেন, তখন জনৈকা মহিলা এসে বললো: আমি তোমাদের দু'জনকেই দুধ খাইয়েছি। তখন উকবা রসূল (সা) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এ কথা যখন বলা হয়েছে, তখন আর বিয়ে কিভাবে বহাল থাকে? সংগে সংগে উকবা উক্ত মহিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং মহিলা অন্য পুরুষকে বিয়ে করে। হানাফি ফকিহগণ বলেন: দুধ পান করানোর ব্যাপারেও দু'জন সাক্ষী লাগবে, ধাত্রীর একার সাক্ষ্য যথেষ্ট হবেনা। ইমাম মালেকের মতে দু'জন মহিলার সাক্ষ্য জরুরি। ইমাম শাফেয়ি বলেন: তিনজন মহিলাসহ ধাত্রীর সাক্ষ্য এ শর্তে গ্রহণযোগ্য যে, সে পারিশ্রমিক চাইতে পারবেনা। উকবার হাদিস সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা ওটা মুস্তাহাব এবং ওতে সন্দেহজনক কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে।
📄 ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় শিশুর কান্না সম্পর্কে সাক্ষ্য
ভূমিষ্ঠ হবার সময় শিশু কেঁদেছে কিনা, সে বিষয়ে ধাত্রীর একক সাক্ষ্য গ্রহণকে ইবনে আব্বাস (রা) অনুমোদন করেছেন, শা'বি ও আলি (রা)ও এটি অনুমোদন করেছেন এবং আলি (রা) ও শুরাইহ্ তদনুযায়ী বিচারও করেছেন। কিন্তু ইমাম মালিকের মতে, এ ব্যাপারেও দুজন মহিলার সাক্ষ্য জরুরি। ইমাম শাফেয়ি এ ব্যাপারে মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করলেও চারজন নারির সাক্ষ্যের শর্তারোপ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা র. বলেন: দু'জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলার সাক্ষ্য প্রয়োজন। কেননা এটা উত্তরাধিকার প্রমাণ করে। তবে এ শিশু কাঁদার পর মারা গেলে তার জানাযা ও গোসলে একজন মহিলার সাক্ষ্য যথেষ্ট। হাম্বলিদের মতে যে বিষয়ে পুরুষরা সাধারণত অজ্ঞ থাকে, সে বিষয়ে একজন ন্যায়পরায়ণ মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) শুধু ধাত্রীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
পক্ষান্তরে মহিলাদের যে সব খুঁত গোপনীয় এবং পুরুষরা প্রায়ই জানেনা, যেমন কুমারিত্ব, মাসিক স্রাব, সন্তান হওয়া, জন্মের সময় শিশুর কাঁদা, দুধ পান, ইত্যাদি, যাতে সাধারণত পুরুষরা উপস্থিত থাকেনা, সেগুলি সম্পর্কে ফকিহগণ বলেন: এ সব ক্ষেত্রে পুরুষের সাক্ষ্য মহিলার সাক্ষ্যের সমান। তবে পুরুষ নারীর চেয়ে বুদ্ধিতে অধিকতর পরিপক্ক হওয়ায় তার সাক্ষ্য অগ্রগণ্য।