📄 চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন যেখানে
ব্যভিচারের শাস্তির জন্য নূন্যতম চারজন পুরুষ সাক্ষী প্রয়োজন। যাহেরি মযহাব অনুসারে প্রত্যেক পুরুষের স্থলে দু'জন মহিলার সাক্ষ্য চলবে। তাদের মতানুসারে শুধুমাত্র আটজন মহিলার সাক্ষ্যও গৃহীত হবে। আল্লাহ বলেন:
وَالَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نَسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةٌ مِّنكُمْ
'তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী তলব করবে।' (সূরা নিসা, ১৫)।
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُو هُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً
'যারা সতী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনা, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে।' (সূরা নূর, ৪)
لَوْلَا جَاءُ عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ'তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি?' (সূরা নূর, ১৩)।
📄 তিনজন সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা
হাম্বলি ফকিহগণ বলেন: যে ব্যক্তি স্বচ্ছল বলে খ্যাতি আছে, সে যদি যাকাত গ্রহণের জন্য নিজেকে অস্বচ্ছল বলে দাবি করে, তাহলে তার দাবি তিনজন সাক্ষী ব্যতীত গৃহীত হবে না। তাদের এ মতের পক্ষে তারা কুবাইসা ইবনে মুখারিকের এ হাদিস তুলে ধরেন: কুবাইসা ইবনে মুখারিক হিলালী (রা) বলেন: আমি একটা রক্তপণের দায় বহন করছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ জন্য সাহায্য চাইলাম। তিনি বললেন: কিছুক্ষণ অবস্থান কর। আমাদের নিকট যাকাত আসুক, তা থেকে তোমাকে কিছু দিতে বলবো।' তারপর বললেন: হে কুবাইসা, তিন ব্যক্তির মধ্য হতে যে কোনো একজনের পক্ষেই সাহায্য চাওয়া হালাল: একজন হলো সে ব্যক্তি, কোনো রক্তপণ বা জরিমানার দায় যার ঘাড়ে চেপেছে। তার জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল, যাতে ঐ দায় থেকে মুক্ত হতে পারে, অত:পর আত্মসংযম করে। আর একজন হচ্ছে সে ব্যক্তি, যার উপর কোনো মুসিবত আপতিত হওয়ায় তার সহায়-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। সে যাতে জীবন ধারণের অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, সে কারণে সাহায্য চাওয়া তার জন্য বৈধ। অপরজন হলো সে ব্যক্তি, যে এমন খাদ্যাভাবে জর্জরিত যে, তার গোত্রের তিনজন বুদ্ধিমান লোক সাক্ষ্য দেয় যে, অমুক খাদ্যাভাবে জর্জরিত। এ ব্যক্তিও যাতে জীবন ধারণ অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে সে জন্য সাহায্য চাওয়া তার পক্ষে বৈধ। হে কুবাইসা, এ ছাড়া আর যত রকম সাহায্য প্রার্থনা করা হয় ও ভোগ করা হয় তা অবৈধ।' (মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ি)।
📄 শুধু দুজন পুরুষের সাক্ষ্য
সকল অধিকার ও হুদুদ সংক্রান্ত মামলায় শুধু দু'জন পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। কোনো মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়না। কেবল ব্যভিচারে চারজন সাক্ষী প্রয়োজন। হুদুদে মহিলাদের সাক্ষ্য যাহেরি মযহাব ব্যতীত অন্য সকল মযহাবের ফকিহদের মতে অবৈধ। আল্লাহ্ তালাক সম্পর্কে বলেন: 'তোমাদের মধ্য হতে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখ।' (সূরা তালাক ২)।
বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাগ (সা) আশয়াস্ক বলেন: 'হয় তোমার দু'জন সাক্ষী নতুবা তার শপথ.....'
📄 দুজন পুরুষের অথবা পুরুষ ও দুজন মহিলার সাক্ষ্য
মহান আল্লাহ্ সূরা বাকারার ২৮২ নং আয়াতে বলেন:
وَاسْتَشْهِدُوا عَمِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ ج فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتِي مِنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشَّمَدَاءِ أَنْ تَضِلُّ إِحْدَهُمَا فَتُذَكَرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى
'সাক্ষীদের মধ্যে যাদের উপর তোমরা রাজি, তাদের মধ্য হতে দু'জন পুরুষ সাক্ষী রাখবে। যদি দু'জন পুরুষ না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দু'জন স্ত্রীলোক। স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করলে তাকে অপরজন স্মরণ করিয়ে দেবে।'
এ ব্যবস্থা সকল আর্থিক লেনদেনের বেলায় প্রযোজ্য, যথা ব্যবসা, ঋণ, ইজারা, বন্ধক, স্বীকারোক্তি ও জবরদখল। হানাফি মযহাব মতে হুদুদ ও কিসাস ব্যতীত সকল আর্থিক লেনদেনে, বিয়ে, তালাক ও অন্য সর্ব ব্যাপারে পুরুষের সাথে মহিলার সাক্ষ্য চলবে। ইমাম ইবনুল কাইয়েম এই মতটিকে অগ্রাধিকার দয়ে বলেন: 'শরিয়ত যখন পুরুষদের দ্বারা লেখা ঋণের দলীলে, যা কিনা প্রধানত পুরুষদের সমাবেশে লেখা হয়ে থাকে, মহিলাদের সাক্ষ্য গ্রহণকে বৈধ করেছে, তখন যে সব সমাবেশে প্রচুর মহিলার সমাগম ঘটে থাকে যেমন অছিয়ত ও রাজয় তালাকের অনুষ্ঠনে, সে সব সমাবেশে মহিলাদের সাক্ষ্য গ্রহণ তো আরো ভালভাবেই অনুমোদনযোগ্য ও বৈধ হবে।'
ইমাম মালেক ও শাফেয়ি ফকিহগণ এবং অন্য বহু ফকিরে মতে আর্থিক ও লেনদেনে বিশেষভাবে মহিলাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু হুদুদ, কিসাস, বিয়ে, তালাক ইত্যাকার ঘটনাবলীতে, যা শরীর সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। পক্ষান্তরে শরীর সংক্রান্ত যে সব বিষয় নিছক আর্থিক বিষয় হিসাবে গণ্য, যথা প্রতিনিধিত্ব ও অছিয়ত, সেগুলি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন: এ ক্ষেত্রে একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আবার কেউ কেউ বলেন: কোনো মহিলার নয়, বরং শুধু দু'জন পুরুষের সাক্ষ্য গৃহীত হবে। একমাত্র আর্থিক বিষয়ে মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়া ও অন্য বিষয়ে গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইমাম কুরতুবি বলেন: 'যেহেতু অর্থ উপার্জনের উপায় ও উৎসের সংখ্যা অনেক এবং এগুলোতে প্রায়ই অনিয়ম ও অসততার প্রাদুর্ভাব ঘটে, তাই আল্লাহ্ অর্থ সংক্রান্ত বিষয়কে মজবুত করার উপায়-উপকরণকে ব্যাপকতর করেছেন। কখনো লেনদেনকে লিখে রাখা, কখনো তার উপর সাক্ষী রাখা, কখনো বন্ধক ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা দ্বারা এর ভিত্তি মজবুত ও সংহত করেছেন এবং এর সব কটাতে পুরুষের সাথে সাথে মহিলাদেরও প্রবেশাধিকার রেখেছেন।'