📄 অন্ধের সাক্ষ্য
অন্ধ যদি আওয়াজ শুনে মানুষ চিনতে পারে তাহলে ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদের মতে বিয়ে, তালাক, বিক্রয়, ইজারা, বংশ নির্ণয়, ওয়াকফ, মালিকানা ও স্বীকারোক্তি ইত্যাদিতে অন্ধের সাক্ষ্য বৈধ, চাই ঘটনা অন্ধ অবস্থায় তার গোচরে আসুক বা অন্ধ হওয়ার আগে।
ইবনুল কাসিম বলেন: আমি ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোনো ব্যক্তি যদি তার প্রতিবেশীর কথা প্রাচীরের আড়াল থেকে শুনতে পায় এবং তাকে দেখতে না পায়, শুনতে পায় সে তার স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছে এবং তার আওয়াজ চিনতে পারে, তার ব্যাপারে তার সাক্ষ্য বৈধ হবে কি? ইমাম মালিক বললেন: বৈধ হবে।
শাফেয়ি মযহাবের মতে পাঁচটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্ধের সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা: বংশ পরিচয়, মৃত্যু, মালিকানা, অনুবাদ ও অন্ধ হওয়ার পূর্বে যা তার গোচরে এসেছে।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: অন্ধের সাক্ষ্য আদৌ গৃহীত হবেনা।
📄 সাক্ষীর ন্যূনতম সংখ্যা
সাক্ষ্য আর্থিক অধিকার, শারীরিক অধিকার অথবা হুদুদ ও কিসাস সংক্রান্ত হতে পারে। এর প্রত্যেক ক্ষেত্রে দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্ব নিম্ন কত সংখ্যক সাক্ষী না হলেই নয়, তা শরিয়তে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। নিম্নে এর প্রত্যেকটি উল্লেখ করা যাচ্ছে:
📄 চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন যেখানে
ব্যভিচারের শাস্তির জন্য নূন্যতম চারজন পুরুষ সাক্ষী প্রয়োজন। যাহেরি মযহাব অনুসারে প্রত্যেক পুরুষের স্থলে দু'জন মহিলার সাক্ষ্য চলবে। তাদের মতানুসারে শুধুমাত্র আটজন মহিলার সাক্ষ্যও গৃহীত হবে। আল্লাহ বলেন:
وَالَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نَسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةٌ مِّنكُمْ
'তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী তলব করবে।' (সূরা নিসা, ১৫)।
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُو هُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً
'যারা সতী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনা, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে।' (সূরা নূর, ৪)
لَوْلَا جَاءُ عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ'তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি?' (সূরা নূর, ১৩)।
📄 তিনজন সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা
হাম্বলি ফকিহগণ বলেন: যে ব্যক্তি স্বচ্ছল বলে খ্যাতি আছে, সে যদি যাকাত গ্রহণের জন্য নিজেকে অস্বচ্ছল বলে দাবি করে, তাহলে তার দাবি তিনজন সাক্ষী ব্যতীত গৃহীত হবে না। তাদের এ মতের পক্ষে তারা কুবাইসা ইবনে মুখারিকের এ হাদিস তুলে ধরেন: কুবাইসা ইবনে মুখারিক হিলালী (রা) বলেন: আমি একটা রক্তপণের দায় বহন করছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ জন্য সাহায্য চাইলাম। তিনি বললেন: কিছুক্ষণ অবস্থান কর। আমাদের নিকট যাকাত আসুক, তা থেকে তোমাকে কিছু দিতে বলবো।' তারপর বললেন: হে কুবাইসা, তিন ব্যক্তির মধ্য হতে যে কোনো একজনের পক্ষেই সাহায্য চাওয়া হালাল: একজন হলো সে ব্যক্তি, কোনো রক্তপণ বা জরিমানার দায় যার ঘাড়ে চেপেছে। তার জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল, যাতে ঐ দায় থেকে মুক্ত হতে পারে, অত:পর আত্মসংযম করে। আর একজন হচ্ছে সে ব্যক্তি, যার উপর কোনো মুসিবত আপতিত হওয়ায় তার সহায়-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। সে যাতে জীবন ধারণের অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, সে কারণে সাহায্য চাওয়া তার জন্য বৈধ। অপরজন হলো সে ব্যক্তি, যে এমন খাদ্যাভাবে জর্জরিত যে, তার গোত্রের তিনজন বুদ্ধিমান লোক সাক্ষ্য দেয় যে, অমুক খাদ্যাভাবে জর্জরিত। এ ব্যক্তিও যাতে জীবন ধারণ অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে সে জন্য সাহায্য চাওয়া তার পক্ষে বৈধ। হে কুবাইসা, এ ছাড়া আর যত রকম সাহায্য প্রার্থনা করা হয় ও ভোগ করা হয় তা অবৈধ।' (মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ি)।