📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নগরবাসীর ব্যাপারে যাযাবরের সাক্ষ্য

📄 নগরবাসীর ব্যাপারে যাযাবরের সাক্ষ্য


ইমাম আহমদ, তার শিষ্যদের একটি গোষ্ঠী, আবু উবায়েদ ও এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মালেকের মত এই যে, নগরবাসীর ব্যাপারে যাযাবরের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: কোনো নগরবাসী সম্পর্কে যাযাবরের সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা।' (আবুদাউদ, ইবনে মাজা)।
যাযাবরের সাক্ষ্য অগ্রাহ্য হওয়ার কারণ হলো, সে অত্যন্ত কষ্টে জীবন ধারণ করে, মূর্খ এবং জনপদে যা কিছু ঘটে, তা সে কমই প্রত্যক্ষ করে। তাই তার সাক্ষ্য নির্ভরযোগ্য নয়।
কিন্তু বিশুদ্ধ মত হলো, সে যদি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হয় এবং মুসলমান হয়, তবে তার সাক্ষ্য গৃহীত হবে। কুরআনে ন্যায়পরায়ণ লোকের সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে নগরবাসী বা যাযাবরে পার্থক্য করা হয়নি। তার যাযাবর হওয়া অন্য শহরের অধিবাসী হওয়ার মতই। এটাই ইমাম শাফেয়ি ও অধিকাংশ ফকিরে মত।
আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস মূর্খ লোকের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সকল যাযাবর তার আওতাভুক্ত নয়। কেননা রসূল (সা) চাঁদ দেখার ব্যাপারে যাযাবরের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অন্ধের সাক্ষ্য

📄 অন্ধের সাক্ষ্য


অন্ধ যদি আওয়াজ শুনে মানুষ চিনতে পারে তাহলে ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদের মতে বিয়ে, তালাক, বিক্রয়, ইজারা, বংশ নির্ণয়, ওয়াকফ, মালিকানা ও স্বীকারোক্তি ইত্যাদিতে অন্ধের সাক্ষ্য বৈধ, চাই ঘটনা অন্ধ অবস্থায় তার গোচরে আসুক বা অন্ধ হওয়ার আগে।
ইবনুল কাসিম বলেন: আমি ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোনো ব্যক্তি যদি তার প্রতিবেশীর কথা প্রাচীরের আড়াল থেকে শুনতে পায় এবং তাকে দেখতে না পায়, শুনতে পায় সে তার স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছে এবং তার আওয়াজ চিনতে পারে, তার ব্যাপারে তার সাক্ষ্য বৈধ হবে কি? ইমাম মালিক বললেন: বৈধ হবে।
শাফেয়ি মযহাবের মতে পাঁচটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্ধের সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা: বংশ পরিচয়, মৃত্যু, মালিকানা, অনুবাদ ও অন্ধ হওয়ার পূর্বে যা তার গোচরে এসেছে।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: অন্ধের সাক্ষ্য আদৌ গৃহীত হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সাক্ষীর ন্যূনতম সংখ্যা

📄 সাক্ষীর ন্যূনতম সংখ্যা


সাক্ষ্য আর্থিক অধিকার, শারীরিক অধিকার অথবা হুদুদ ও কিসাস সংক্রান্ত হতে পারে। এর প্রত্যেক ক্ষেত্রে দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্ব নিম্ন কত সংখ্যক সাক্ষী না হলেই নয়, তা শরিয়তে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। নিম্নে এর প্রত্যেকটি উল্লেখ করা যাচ্ছে:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন যেখানে

📄 চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন যেখানে


ব্যভিচারের শাস্তির জন্য নূন্যতম চারজন পুরুষ সাক্ষী প্রয়োজন। যাহেরি মযহাব অনুসারে প্রত্যেক পুরুষের স্থলে দু'জন মহিলার সাক্ষ্য চলবে। তাদের মতানুসারে শুধুমাত্র আটজন মহিলার সাক্ষ্যও গৃহীত হবে। আল্লাহ বলেন:
وَالَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نَسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةٌ مِّنكُمْ
'তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী তলব করবে।' (সূরা নিসা, ১৫)।
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُو هُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً
'যারা সতী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনা, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে।' (সূরা নূর, ৪)
لَوْلَا جَاءُ عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ'তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি?' (সূরা নূর, ১৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00