📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 না জেনে সাক্ষ্য দেয়া অবৈধ

📄 না জেনে সাক্ষ্য দেয়া অবৈধ


কোনো ব্যক্তির পক্ষে কোনো ব্যাপারে না জেনে সাক্ষ্য দেয়া জায়েয নেই। চাক্ষুষ দর্শন, শ্রবণ বা এমন ব্যাপক খ্যাতি, যা দ্বারা জ্ঞান বা প্রবল ধারণা জন্মে, এ গুলোর মাধ্যমে সাক্ষী তার সাক্ষ্য দেয়ার বিষয় জেনে নিতে পারে।
ব্যাপক খ্যাতির ভিত্তিতে সাক্ষ্য দেয়া শাফেয়ি মযহাবে যে কয়টি ক্ষেত্রে জায়েয তা হচ্ছে, বংশ পরিচয়, জন্ম, মৃত্যু, স্বাধীন হওয়া, উত্তরাধিকার, অভিভাবকত্ব, ওয়াকফ, আফ্ল, বিয়ে, বিয়ে সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়, কাউকে সৎ বা অসৎ গণ্য করা, ওসিয়ত, বুদ্ধিমত্তা, নির্বুদ্ধিতা ও মালিকানা। ইমাম আবু হানিফার মতে, শুধু বিয়ে, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর নির্জন সাক্ষাৎ, বংশ পরিচয়, মৃত্যু, বিচারিক ক্ষমতা লাভ এ পাঁচটি ব্যাপারেই ব্যাপক খ্যাতির ভিত্তিতে সাক্ষ্য দেয়া জায়েয। ইমাম আহমদ ও কিছু শাফেয়ি ফকিহের মতে সাতটি ক্ষেত্রে ব্যাপক খ্যাতির ভিত্তিতেই সাক্ষ্য দেয়া জায়েয। বিয়ে, বংশপরিচয়, মৃত্যু, স্বাধীন হওয়া, উত্তরাধিকার, ওয়াক্ফ ও মালিকানা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সাক্ষ্য সম্পর্কে শরিয়তের বিধান

📄 সাক্ষ্য সম্পর্কে শরিয়তের বিধান


যার কাছে সাক্ষ্য দেয়ার মত তথ্য রয়েছে, তাকে যখন সাক্ষ্য দিতে ডাকা হবে এবং সাক্ষ্য না দিলে কারো হক নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকবে, তখন সাক্ষ্য দেয়া ফরযে আইন। এমনকি হক নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকলে না ডাকা হলেও সাক্ষ্য দেয়া ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ্ সূরা বাকারার ২৮৩ নং আয়াতে বলেন: 'তোমরা সাক্ষ্য গোপন করোনা। যে গোপন করবে তার অন্তর পাপী।' সূরা তালাকের ২নং আয়াতে বলেন: 'আল্লাহ্র জন্য সাক্ষ্য দাও।' সহিহ হাদিসে রয়েছে: 'তোমার ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত হোক।' সাক্ষ্য দিলে তার সাহায্য হয়।
যায়েদ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'সর্বোত্তম সাক্ষী কে তা কি তোমাদেরকে বলবো? যে ব্যক্তি চাওয়ার আগেই সাক্ষ্য দেয়।'
তবে সাক্ষ্য দেয়া তখনই ওয়াজিব, যখন সে নিজের শরীর, সম্মান, সম্পদ ও পরিবার পরিজনের ক্ষতি ছাড়াই সাক্ষ্য দিতে সমর্থ হয়। কেননা আল্লাহ্ সূরা বাকারার ২৮২ নং আয়াতে বলেন: 'কোনো লেখক ও সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।'
যখন বহু সংখ্যক সাক্ষী থাকে এবং কারো হক নষ্ট হওয়ার আশংকা না থাকে তখন সাক্ষ্য দান মুস্তাহাব। এমতাবস্থায় সাক্ষ্য না দিলে গুনাহ হবেনা। যখন কারো সাক্ষ্যের উপর গোটা বিচারকার্য নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন সাক্ষ্যের জন্য মজুরি নেয়া হারাম। তবে হেঁটে চলা কষ্টকর হলে যানবাহনের ভাড়া নেয়া যাবে। আর যখন কারো সাক্ষ্যের উপর বিচারকার্য নির্ভরশীল না হয় তখন মজুরী নেয়া জায়েয হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সাক্ষ্য গ্রহণের শর্তাবলী

📄 সাক্ষ্য গ্রহণের শর্তাবলী


সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য যে শর্তাবলী জরুরি তা হলো:
১. সাক্ষীর মুসলমান হওয়া: কাজেই কোনো মুসলমানের উপর কাফেরের সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা, একমাত্র সফরকালে ওসিয়ত ব্যতীত। এ ক্ষেত্রে মুসলমানের উপর অমুসলিমের সাক্ষ্য ইমাম আবু হানিফা, বিচারপতি শুরাইহ, ইব্রাহীম নায়ী ও আওযায়ির মতে জায়েয। কেননা আল্লাহ্ সূরা মায়িদার ১০৬ ও ১০৭ নং আয়াতে বলেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةً بَيْنَكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِيْنَ الْوَسِيَّةِ اثْنِي ذَوَا عَدْلٍ مِّنْكُمْ أَوْ أَخَرْنِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْسِ ، تَحْبِسُونَهُمَا مِنْ بَعْدِ الصَّلوة
فَيُقْسِي بِاللَّهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لَا تَشْتَرِى بِهِ ثَمَنًا وَ لَوْ كَانَ ذَاقُرْبَى لَا وَلَا تَكْتُمُ شَهَادَةَ اللَّهِ إِنَّا إِذًا لَمِنَ الألْمِينَ فَإِنْ عُثِرَ عَلَى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِنَّمَا فَأَخَونِ يَقُوْمِنِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقُّ عَلَيْهِمُ الْأَوْلَيْنِ فَيُقْسِي بِاللَّهِ لَشَهَادَتْنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذًا لَمِنَ الظَّلِمِينَ
'হে মুমিনগণ, যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের মধ্য থেকে দু'জন ন্যায়পরায়ণ লোককে অসিয়ত করার সাক্ষী রাখবে। যদি তোমরা সফরে থাক এবং তোমাদের মৃত্যুর মুসিবত উপস্থিত হয় তবে তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য থেকে দু'জন সাক্ষী রাখবে। তোমাদের সন্দেহ হলে তাদের উভয়কে নামাযের পর অপেক্ষমান রাখবে এবং তারা আল্লাহ্র নামে কসম করে বলবে: আমরা এর বিনিময়ে কোনো মূল্য গ্রহণ করতে চাইনা যদিও সে আত্মীয় হয়, আর আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করবনা। করলে আমরা গুনাহগারদের মধ্যে শামিল হব। তবে যদি জানা যায় যে, তারা দু'জন কোনো পাপে জড়িত হয়েছে তাহলে যাদের স্বার্থহানি ঘটেছে তাদের মধ্য থেকে নিকটতম দু'জন তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং আল্লাহ্ নামে কসম করে বলবে: 'অবশ্যই আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্য থেকে অধিক সত্য এবং আমরা সীমা লংঘন করিনি। করলে তো আমরা অবশ্যই যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হব।'
অনুরূপ হানাফিগণ কাফেরদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাক্ষ্য অনুমোদন করেন। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) দু'জন ইহুদি কর্তৃক ব্যভিচারের সাক্ষ্য দেয়ায় দু'জন ইহুদিকে রজম করেছিলেন।
ইমাম শাবি বলেন: দাকুকায় জনৈক মুসলমানের মৃত্যু উপস্থিত হয়। তখন তার অসিয়তের উপর সাক্ষী হয় এমন কোনো মুসলমান পাওয়া গেলনা। অগত্যা সে দু'জন কিতাবীকে সাক্ষী রাখলো। পরে ঐ সাক্ষীদ্বয় কুফায় পৌঁছে আবু মূসা আশ্য়ারির নিকট গেল, তাকে তার অসিয়তের খবর জানালো ও তার পরিত্যক্ত জিনিসপত্র তার নিকট জমা দিলো। আশয়ারি বললেন: এটা এমন একটা ঘটনা, যা রসূলুল্লাহ্ (সা) এর আমলে সংঘটিত ঘটনার পর আর ঘটেনি। অত:পর আসরের নামাযের পর তাদের শপথ নিলেন যে, তারা কোনো খেয়ানত করেনি, কোনো মিথ্যাও বলেনি, কোনো পরিবর্তনও করেনি এবং কোনো কিছু গোপনও করেনি। এটা সে মৃত ব্যক্তিরই অসিয়ত ও পরিত্যক্ত সম্পদ। অত:পর তিনি তাদের দু'জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন।
খাত্তাবি বলেন: এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মুসলমানের বিশেষভাবে সফরকালীন অসিয়তের উপর জিম্মীদের সাক্ষ্য গৃহীত হবে। ইমাম আহমদ বলেন: শুধুমাত্র এরূপ ক্ষেত্রে অনিবার্য প্রয়োজন বশত জিম্মীদের সাক্ষ্য গৃহীত হবে, অন্য কোথাও নয়। ইমাম শাফেয়ি ও মালিক বলেন: সফরকালীন অসিয়ত হোক বা অন্য কিছু হোক, মুসলমানের উপর কাফেরের সাক্ষ্য কোনো অবস্থায়ই গৃহীত হবেনা। তাদের মতে এ আয়াত দুটি (অর্থাৎ আয়াতের বিধান) রহিত।
জিম্মীর জন্য জিম্মীর সাক্ষ্য: জিম্মীর জন্য জিম্মীর (অমুসলমানের জন্য অমুসলমানের) সাক্ষ্য নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম মালিক বলেন: অমুসলিমের সাক্ষ্য মুসলমান বা কাফির কারো ব্যাপারেই গৃহীত হবে না। ইমাম আহমদ বলেন: কিতাবীদের পরস্পরের ব্যাপারে পরস্পরের সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা। হানা'িগণ বলেন: তাদের পরস্পরের ব্যাপারে পরস্পরের সাক্ষ্য বৈধ এবং সকল কাফেরই একই জাতিভুক্ত।
ইমাম শা'বি, ইবনে আবি লায়লা ও ইসহাক বলেন: ইহুদির ব্যাপারে ইহুদির সাক্ষ্য বৈধ। কিন্তু খ্রিষ্টান ও অগ্নি উপাসকের ব্যাপারে বৈধ নয়। কেননা এগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম। এক ধর্মের অনুসারীর ব্যাপারে অন্য ধর্মের অনুসারীর সাক্ষ্য বৈধ নয়।
২. সততা: এটা ইসলামের অতিরিক্ত এক বৈশিষ্ট্য, যা সাক্ষীদের মধ্যে থাকা জরুরি যাতে সৎ সাক্ষীরা অসৎ সাক্ষীদের উপর প্রাধান্য লাভ করে এবং মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত লোকেরা সাক্ষী হতে না পারে। কারণ আল্লাহ্ বলেন: وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ.
‘তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহ্ জন্য সঠিক সাক্ষ্য হবে।’ (সূরা তালাক আয়াত ২)
سَاكِدين مِّمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ ‘সাক্ষীদের মধ্যে যাদের উপর তোমরা রাজি’ ...... (সূরা বাকারা, ২৮২)।
يَأْيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإِ فَتَبَيَّنُوا ‘হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের নিকট কোনো বার্তা আনয়ন করে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে .....’ (সূরা হুজুরাত, ৬)
আবু দাউদের বর্ণনা, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: ‘কোনো খিয়ানতকারী ও খিয়ানতকারিণী এবং কোনো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর সাক্ষ্য বৈধ নয়।’ তাই মিথ্যাচারী, চরিত্রহীন ও খারাপ স্বভাবের লোক হিসাবে খ্যাত লোক ও পাপাচারীর সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা। বস্তুত সততার এ অর্থই ব্যাপকভাবে গৃহীত। ইমাম আবু হানিফা বলেন: সততার জন্য সাক্ষীর বাহ্যত মুসলমান হওয়া এবং তার ভদ্রতা ও সুখ্যাতির পরিপন্থি কোনো বিষয় প্রকাশ না পাওয়াই যথেষ্ট। তবে এটা আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, হুদুদ তথা ফৌজদারি মামলায় যথেষ্ট নয়। বিয়ের জন্য তিনি ফাসেকের সাক্ষ্য অনুমোদন করে বলেন: দু’জন ফাসিকের সাক্ষ্য দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবে। মালেকি মযহাব অনুসারে অনন্যোপায় অবস্থায় অসৎ লোকের সাক্ষ্য দ্বারাও বিচার করা যাবে এবং ছোটখাট বিষয়ে সৎ কি অসৎ জানা যায় না, এমন লোকের সাক্ষ্য গৃহীত হবে।
ফকিহগণ বলেন: সাক্ষীর জন্য ইসলামের বাস্তব অনুসারী ও ভদ্র হওয়া জরুরি। ইসলামের বাস্তব অনুসারী হওয়ার জন্য ফরয ও নফল আদায়, হারাম ও মাকরুহ বর্জন এবং কবীরা (বড়) গুনাহ না করা ও সগীরা (ছোট) গুনাহ বারবার না করা যথেষ্ট। আর ভদ্রতা বলতে বুঝায়, কথা ও কাজে যা শোভনীয় তা করবে এবং যা অশোভন তা বর্জন করবে। পাপাচারী লোক তাওবা করলে তার সাক্ষ্য গৃহীত হবে। এ ব্যাপারে সকল ফকিহ একমত। তবে ইমাম আবু হানিফা বলেন: তার পাপাচারী হিসাবে পরিচিত হওয়ার কারণ যদি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয় তা হলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবেনা। কেননা আল্লাহ্ ব ২৫২
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَسِقُونَ ‘যারা সতী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনা, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেনা। তারাই তো সত্যত্যাগী।’ (সূরা নূর, ৪)।
৩, ৪. প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া: সততা ও ন্যায়পরায়ণতা যেমন সাক্ষ্য গৃহীত হওয়ার শর্ত, তেমনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ও সুস্থমস্তিষ্ক হওয়াও সততার শর্ত। কাজেই একজন শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবেনা যদিও সে তারই মতো একজন শিশুর ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়। অনুরূপ পাগল ও মানসিক প্রতিবন্ধীর সাক্ষ্যও গৃহীত হবেনা। কেননা তাদের সাক্ষ্য এমন বিশ্বাস জন্মাতে সাহায্য করেনা যার ভিত্তিতে বিচার করা যায়। ইমাম মালিক জখমের মামলায় শিশুদের সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন, যতোক্ষণ তারা বিচ্ছিন্ন না হয় ও পরস্পর বিরোধী বক্তব্য না দেয়। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরও অনুরূপ শর্তে শিশুদের সাক্ষ্যের অনুমতি দিয়েছেন। একইভাবে সাহাবায়ে কিরাম ও মদিনার ফকিহগণ শিশুদের একে অপরকে আহত করার ঘটনায় তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন এবং এটাই অগ্রগণ্য মত। কেননা তাদের খেলাধুলায় বয়স্ক লোকেরা সচারাচর উপস্থিত থাকেনা। এমতাবস্থায় তাদের সাক্ষ্য যদি গ্রহণ না করা হতো এবং মহিলাদের এককভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ না করা হতো, তাহলে অনেকের অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য নষ্ট হয়ে যেতো ও অবহেলিত হতো। অথচ সাধারণ মানুষ তাদের সত্যবাদিতায় প্রবল ধারণা অথবা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে থাকে। বিশেষত তারা বিক্ষিপ্ত হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আগে যখন দলবদ্ধভাবে আসে এবং কোনো ঘটনা সম্পর্কে সবাই একই বক্তব্য দেয়, সে সময় তাদের সাক্ষ্য থেকে যে ধারণা জন্মে, তা দু’জন পুরুষের সাক্ষ্য থেকে সৃষ্ট ধারণার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইসলামি শরিয়ত হচ্ছে একটা পূর্ণাংগ, মর্যাদাপূর্ণ এবং মানুষের ইহ-পরকালের স্বার্থ ও কল্যাণের নিশ্চয়তা বিধানকারী বিধান। তাই তার ব্যাপারে এ কথা কল্পনা করা যায়না যে, তা এমন অকাট্য অধিকারকে সুস্পষ্ট ও অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অবজ্ঞা ও বিনষ্ট করবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জিহ্বার জন্য জিহ্বার সাক্ষ্য

📄 জিহ্বার জন্য জিহ্বার সাক্ষ্য


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00