📄 খাপের স্বীকারোক্তি
কোনো ব্যক্তি যখন তার কোনো উত্তরাধিকারীর ঋণের স্বীকারোক্তি করে, তাহলে সে স্বীকারোক্তি যদি সে তার মৃত্যু পূর্ব রোগ শয্যায় থাকা অবস্থায় করে থাকে তবে তা অন্যান্য উত্তরাধিকারী সত্যায়ন না করা পর্যন্ত শুদ্ধ হবেনা। কারণ তার রোগাবস্থায় থাকা দ্বারা বুঝা যায়, সে এই স্বীকারোক্তি দ্বারা তার উত্তরাধিকারীদেরকে বঞ্চিত করতে চেয়ে থাকতে পারে। তবে সুস্থাবস্থায় স্বীকারোক্তি করে থাকলে তা বৈধ। সে ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদেরকে বঞ্চিত করার ইচ্ছার সম্ভাবনা নিরেট সম্ভাবনা মাত্র এবং নিছক কল্পনা, যা স্বীকারোক্তির কার্যকারিতা রোধ করেনা।
শাফেয়ি মযহাব মতে সুস্থ মানুষের স্বীকারোক্তি শুদ্ধ। কেননা শুদ্ধতার শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান থাকায় কোনো বাধা নেই। মৃত্যু-পূর্ব রুগ্নাবস্থায় যদি কোনো অনাত্মীয়ের জন্য স্বীকারোক্তি করে তাহলে তার স্বীকারোক্তি শুদ্ধ। কেউ কেউ বলেন: এটা এক তৃতীয়াংশ থেকে দেয়া হবে। আর যদি কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য স্বীকারোক্তি করে থাকে, তবে স্বীকারোক্তি শুদ্ধ হবে, এটাই শাফেয়ি মযহাবের অগ্রগণ্য মত। কেননা স্বীকারোক্তি তার আয়ুষ্কালের এমন স্তরে পৌঁছেছে, যখন মিথ্যুকও সত্য বলে থাকে এবং পাপীও তাওবা করে। এ চরম অবস্থায় বাহ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, স্বীকারোক্তিকারী সঠিকভাবেই স্বীকারোক্তি করেছে এবং কাউকে বঞ্চিত করা তার ইচ্ছা নয়। শাফেয়ি মযহাবের কেউ কেউ এটাকে অশুদ্ধ মনে করেন। কারণ কিছু উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করা তার ইচ্ছা থাকতেও পারে। তারা আরো বলেন যে, সে যদি সুস্থাবস্থায় একজনের পক্ষে এবং রুগ্নাবস্থায় আরেকজনের পক্ষে স্বীকারোক্তি দেয়, তবে উভয়ে নিজেদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রাপ্য বণ্টন করে নেবে, প্রথম জনকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে না। ইমাম আহমদ বলেন: রোগী কর্তৃক উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো স্বীকারোক্তি জায়েয নেই। ইমাম আওযায়ি ও একদল আলেম সম্পত্তির কিছু অংশ উত্তরাধিকারীর জন্য স্বীকারোক্তি করা রোগীর জন্য জায়েয মনে করেন। কেননা যার মৃত্যু আসন্ন, তার বিরুদ্ধে খারাপ ধারণা পোষণ করা সুদূর পরাহত ব্যাপার। শরিয়তের বিধান বাহ্যিক অবস্থার উপরই নির্ভরশীল। কাজেই তার স্বীকারোক্তি সম্ভাব্য ধারণার অজুহাতে পরিত্যক্ত হওয়া সমীচীন নয়। তার ব্যাপার আল্লাহ্র হাতে সোপর্দ থাকবে।