📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তির বৈধতা

📄 স্বীকারোক্তির বৈধতা


স্বীকারোক্তি যে কুরআন ও সুন্নাহ্ দ্বারা শরিয়ত সম্মত বলে প্রমাণিত, সে ব্যাপারে আলেমগণ একমত। আল্লাহ্ তায়ালা সূরা নিসার ১৩৫ নং আয়াতে বলেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُولُوا قَوْمِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُرُه
'হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষী স্বরূপ, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা এবং আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে হয়।' রসূলুল্লাহ্ (সা) সাহাবি উনাইস (রা) কে বললেন: 'হে উনাইস, এই ব্যক্তির স্ত্রীর অনুসরণ কর। সে যদি স্বীকারোক্তি দেয় তবে তাকে রজম কর।' তিনি আরো বলেন: 'যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যে ব্যক্তি তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে তার সাথে তুমি সদ্ব্যবহার কর এবং ন্যায্য কথা বল, যদিও তা তোমার বিরুদ্ধে যায়।' (আল জামেউস সগীর, ৫০০৪)।
আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে উপদেশ দিয়েছেন যেন আমি আমার চেয়ে যে নীচে আছে তার দিকে তাকাই এবং আমার চেয়ে যে উপরে আছে তার দিকে না তাকাই, দরিদ্র লোকদেরকে যেন ভালবাসি এবং তাদের কাছাকাছি থাকি, রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে যেন সম্পর্ক মজবুত রাখি যদিও তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং আমাকে কষ্ট দেয়, আমি যেন হক কথা বলি যদিও তা তিক্ত হয়, আল্লাহ্র পথে আমি যেন কারো নিন্দার ভয় না করি, কারো কাছে যেন কিছু না চাই এবং বেশি করে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِ )লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) বলি, কেননা এটা বেহেস্তের রত্নভান্ডার।
স্বীকারোক্তি দ্বারা রসূলুল্লাহ্ (সা) হত্যা, হুদুদ ও আর্থিক বিরোধের মীমাংসা করতেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তির বিশুদ্ধতার শর্তাবলী

📄 স্বীকারোক্তির বিশুদ্ধতার শর্তাবলী


স্বীকারোক্তির বিশুদ্ধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী জরুরি: স্বীকারোক্তিকারীর সুস্থমস্তিষ্ক হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, স্বেচ্ছা প্রণোদিতভাবে স্বীকারোক্তি করা। নিজের সম্পত্তি স্বাধীনভাবে ব্যবহার বৈধ হওয়া, স্বীকারোক্তিকারীর তামাশাচ্ছলে স্বীকারোক্তি না করা, কোনো অসম্ভব জিনিসের স্বীকারোক্তি না করা। সুতরাং পাগল, অপ্রাপ্তবয়স্ক, যাকে বলপ্রয়োগে স্বীকারোক্তি করতে বাধ্য করা হয়েছে, প্রতিবন্ধী, তামাশাকারী, প্রকৃতিগতভাবে বা যুক্তির বিচারে যা অসম্ভব তার স্বীকারোক্তিকারী এ সব ব্যক্তির স্বীকারোক্তি শুদ্ধ নয়। কেননা এ সব অবস্থায় তার স্বীকারোক্তি যে মিথ্যা, তা সবাই বুঝতে পারে। অথচ মিথ্যা জবানবন্দীর আলোকে বিচারকের রায় দেয়া ও বিচার করা বৈধ নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার

📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার


স্বীকারোক্তি যখন সকল শর্ত পূরণ করার মাধ্যমে শুদ্ধ হয়, তখন তা স্বীকারোক্তিকারীর জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যায় এবং তা যখন মানুষের কোনো স্বার্থ বা অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন তা প্রত্যাহার করা তার জন্য বৈধ হয়না। তবে স্বীকারোক্তি যখন আল্লাহর কোনো অধিকারের সাথে সম্পৃক্ত হয়, যেমন ব্যভিচার ও মদপানের শান্তি, তখন তা প্রত্যাহার করা বৈধ। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'তোমরা সন্দেহের ভিত্তিতে হুদুদ রহিত কর।' ইতিপূর্বে হুদুদ অধ্যায়ে মায়েযের হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাহেরি মযহাব এ মতের বিরোধী। তাদের মতে, স্বীকারোক্তি কোনো অবস্থায়ই প্রত্যাহার বৈধ নয়, চাই আল্লাহ্র হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা বান্দার হকের সাথে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তি একটি সীমিত প্রমাণ

📄 স্বীকারোক্তি একটি সীমিত প্রমাণ


স্বীকারোক্তি একটি সীমিত প্রমাণ। এ দ্বারা স্বীকারোক্তিকারীর নিজের সংশ্লিষ্টতা ব্যতীত অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়না। অন্য কাউকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি করলে তার বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি গৃহীত হবেনা। কিন্তু সাক্ষ্য এর বিপরীত। সাক্ষ্য দ্বারা অন্যের অপরাধও প্রমাণিত হয়। কোনো বাদী যদি একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাবি করে যে, তাদের কাছে তার কোনো ঋণের অর্থ পাওনা আছে এবং ঐ লোকদের কয়েকজন এই দাবি স্বীকার করে এবং অপর কয়েকজন অস্বীকার করে, তাহলে একমাত্র স্বীকারোক্তিকারী ব্যতীত আর কারো বিরুদ্ধে দাবি প্রমাণিত হয়না। কিন্তু বাদী যদি তার দাবি সাক্ষী দ্বারা প্রমাণিত করে তাহলে সবার বিরুদ্ধেই দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00