📄 বিচারকের করণীয়
পাঁচটি বিষয়ে বাদী ও বিবাদীর প্রতি সমান আচরণ করা বিচারকের কর্তব্য:
১. বিচারকের কাছে যেতে দেয়া।
২. বিচারকের সামনে আসন গ্রহণ করা।
৩. উভয়ের প্রতি বিচারকের মনোযোগ দেয়া।
৪. উভয়ের বক্তব্য শোনা।
৫. উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার করা।
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, উভয়ের প্রতি সমান আচরণ করা বাহ্যিক কাজের বেলায়ই জরুরি। মনের টানের বেলায় নয়। দু'জনের একজনের প্রতি যদি তার মন ঝুকে পড়ে এবং যুক্তির মাধ্যমে সে প্রতিপক্ষের উপর জয়ী হোক এটা পছন্দ করে তাহলে তার কোনো গুনাহ হবে না। কেননা এটি থেকে নিবৃত্ত থাকা সম্ভব নয়। তবে দু'জনের কোনো একজনকে তার যুক্তিতর্ক শিখিয়ে দেয়া ও কোনো সাক্ষীকে সাক্ষ্য শিখিয়ে দেয়া তার জন্য অনুচিত। কেননা এতে বাদী বিবাদীর একজন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিচারক বাদীকে দাবি পেশ করা ও শপথ করাও শেখাবেনা, বিবাদীকে স্বীকার বা অস্বীকার করাও শেখাবেনা, সাক্ষীদেরকে সাক্ষ্য দিতে বা সাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকতেও বলবেনা এবং বাদী বিবাদীর একজনকে বাদ দিয়ে অপর জনের মেহমানদারী করবেনা। কেননা এতে অপর জন মনে কষ্ট পাবে। বিচারক নিজেও বাদী ও বিবাদী বা তাদের কোন একজনের মেহমানদারী গ্রহণ করবেনা যতক্ষণ তারা পরস্পরের প্রতিপক্ষ থাকবে।
বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সা) বাদী ও বিবাদীর কোনো একজনকে তার প্রতিপক্ষ ব্যতিরেকে মেহমানদারী করতেন না এবং কোনো একজনের উপহার গ্রহণ করতেন না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি বিচারককে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে উপহার দিতে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে তার উপহার নেয়া যাবে। যার এ ধরনের অভ্যাস নেই তার উপহার ঘুষ বিবেচিত হবে। বারিদা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যাকে আমরা কোনো চাকরিতে নিয়োগ করি এবং তাকে তার বিনিময়ে কোনো জীবিকা দেই, সে এরপর যা গ্রহণ করবে, তা খিয়ানত।' (আবুদাউদ)
রসূল (সা) আরো বলেন: 'বিচার ও শাসন কার্যে যে ঘুষ খায় এবং দেয়, উভয়ের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ।' খাত্তাবি বলেন: উভয়ের ক্ষেত্রে অভিশাপ সমভাবে প্রযোজ্য কেবল তখনই, যখন উভয়ে একইভাবে স্বেচ্ছায় ঘুষের লেনদেন করবে। ঘুষদাতা যখন অবৈধ উদ্দেশ্যে ও কারো উপর যুলুম করার মানসে ঘুষ দেবে, তখন সেও ঘুষগ্রহীতার মত অভিশপ্ত হবে। কিন্তু সে যদি ন্যায্য পাওনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বা নিজের উপর থেকে যুলুম প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঘুষ দেয়, তাহলে সে এই হুমকির আওতাভুক্ত হবে না। বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদ (রা) আবিসিনিয়ায় থাকাকালে অন্যায়ভাবে যুদ্ধবন্দী হিসাবে গ্রেফতার হন। তখন তিনি দুই দিনার দিয়ে গ্রেফতারি থেকে অব্যাহতি পান। হাসান, শা'বি, জাবির ও আতা র. বলেন: কেউ যদি যুলুমের ভয়ে নিজের জান ও মাল রক্ষার্থে আপোস করে তবে তাতে কোনো গুনাহ্ নেই। অনুরূপ, ঘুষ গ্রহীতার উপর এই অভিশাপের হুমকি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করবে এবং ঘুষ না দেয়া পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করবেনা অথবা কোনো অবৈধ কাজ, যা তার বর্জন করা উচিত, কিন্তু তাকে ঘুষ নাদেয়া পর্যন্ত সে তা বর্জন করেনা। 'ফাল্গুল আল্লাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: বিচারকগণ যে অর্থ গ্রহণ করেন তা চার প্রকার: ঘুষ, উপহার, পারিশ্রমিক ও বেতন।
১. ঘুষ: এটা যদি এজন্য দেয়া হয় যে, দাতার জন্য বিচারক অন্যায়ভাবে বিচার করবে, তবে তা দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্য হারাম। আর যদি এজন্য দেয়া হয় যে, দাতার ন্যায্য প্রাপ্য বিচারক আদায় করে দেবে, তবে তা বিচারকের জন্য হারাম, দাতার জন্য নয়। কেননা এটা সে তার ন্যায্য পাওনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দিয়েছে। কারো কারো মতে, এটা দাতার জন্যও হারাম। কেননা এর কারণে বিচারক গুনাহে লিপ্ত হয়।
২. উপহার: যদি বিচারকের বিচারক পদে অভিষিক্ত হবার আগে থেকেই এটা দেয়া হয়ে থাকে তবে পদ পাওয়ার পরও চালু রাখা হারাম হবে না। আর যদি বিচারক পদে অভিষিক্ত হবার পরেই দেয়া শুরু হয়ে থাকে, তাহলে দেখতে হবে দাতার সাথে কারো বিবাদ বিচ্ছেদ আছে কিনা। যদি না থাকে তবে উপহার জায়েয, কিন্তু মাকরূহ। আর যদি বিবাদ থেকে থাকে তবে এই উপহার বিচারক ও উপহারদাতা উভয়ের জন্য হারাম।
৩. পারিশ্রমিক: বিচারককে যদি সরকারের পক্ষ থেকে বেতন বা ভাতা দেয়া হয়, তাহলে এটা সর্বসম্মতভাবে হারাম। কারণ বিচারকের চাকুরির বাবতেই তাকে বেতন-ভাতাদি দেয়া হয়। এমতাবস্থায় পারিশ্রমিক হিসাবে কিছু নেয়ার কোনো যুক্তি নেই। আর যদি তাকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বেতনভাতা না দেয়া হয়, তা হলে বিচারক ব্যতীত অন্য পদে কাজের পরিমাণ অনুপাতে পারিশ্রমিক নেয়া জায়েয। এর চেয়ে বেশি নিলে হারাম হবে। বিচারক হিসাবে কোনো পারিশ্রমিক নেয়া সর্বসম্মতভাবে হারাম। এ জন্য বলা হয়েছে যে, ধনী ব্যক্তির চেয়ে দরিদ্র ব্যক্তিকে বিচারক নিয়োগ করা উত্তম। কেননা সরকারি বেতনভুক্ত না হলে যে জিনিস গ্রহণ করা তার জন্য জায়েয ছিলনা, দারিদ্র্যের কারণে তা জায়েয হবে। কথাগুলো শরিয়া আদালত বা ইসলামি বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রযোজ্য। প্রচলিত আইন এবং বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অন্যায় যুগ্ম ও বাড়াবাড়ি। ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া ইসলামি আদালত এবং শরিয়াতভিত্তিক বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই বিচ্ছিন্নভাবে ব্যভিচার, চুরির দায়ে কাউকে দণ্ডিত করা যাবে না। আগে সমাজ পরিবর্তন করতে হবে। তারপর ইসলামি দণ্ডবিধি প্রয়োগ করতে হবে।
📄 বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে উমর রা.-এর পত্র
আবু মূসা আশ্য়ারি (রা) এর নিকট লিখিত পত্রতে উমর (রা) বিচার কার্যের জন্য স্থায়ী মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পত্রটি নিম্নরূপ: 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম, আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব এরপক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ্ ইবনে কায়িসের নিকট- তোমার উপর সালাম।
ন্যায়বিচার করা একটা অকাট্য ফরয ও আবহমান কাল থেকে অনুসৃত একটা সুন্নাত। বুঝে নাও, যখন কোনো বিচারকার্য তোমার উপর সোপর্দ করা হবে, তখন যে সত্য কার্যকর হবেনা, তা নিয়ে বাগাড়ম্বর করে কোনো লাভ নেই। তোমার সামনে অবস্থানে, তোমরা ন্যায়বিচারে ও তোমার মজলিসে সবার সাথে সমান আচরণ কর, যাতে কোনো অভিজাত ব্যক্তি তার প্রতি তোমার বিশেষ ঝোঁকের জন্য লালায়িত না হয় এবং কোনো দুর্বল তোমার সুবিচার থেকে হতাশ না হয়। বাদীর কর্তব্য হলো তার দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা আর যে অস্বীকার করে তার কর্তব্য কসম খাওয়া। কেবল হারামকে হালাল ও হালালকে হারামে পরিণত করে এমন আপোস ছাড়া মুসলমানদের মধ্যে আপোস মীমাংসা জায়েয। আজ তুমি যে রায় ঘোষণা করেছ, তা তুমি পুনর্বিবেচনা করে যেটি সত্য ও সঠিক মনে কর তার দিকে ফিরে যেতে পার। কেননা সত্য চিরন্তন এবং সত্যের দিকে ফিরে যাওয়া বাতিলকে আঁকড়ে ধরে থাকার চেয়ে ভাল। যে বিষয় কুরআন ও সুন্নাহতে নেই, তা নিয়ে যদি দ্বিধা দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাক, তাহলে বিষয়টি পুন:পুন: উপলদ্ধি করতে চেষ্টা কর। নজিরসমূহ জেনে নাও অত:পর তার সাথে নতুন বিষয়ের তুলনা কর। যেটি আল্লাহর নিকটতম ও সত্যের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা অন্বেষণ কর। যে ব্যক্তি কোনো প্রাপ্য দাবি করে ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ করতে চায়, তার জন্য একটা সর্বশেষ মেয়াদ বেঁধে দাও। সে মেয়াদের মধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আনতে পারলে তার প্রাপ্য দিয়ে দাও। নচেৎ তার দাবি রহিত কর। কেননা সন্দেহ মোচনে এটাই অধিকতর কার্যকর পন্থা। মুসলমানরা পরস্পরের জন্য সাক্ষী হওয়ার যোগ্য কেবল ব্যভিচারী হিসাবে, বেত্রদন্ড ভোগ করেছে, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে কিংবা বংশগত বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত হয়েছে এমন ব্যক্তি ব্যতীত। আল্লাহ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শপথ দ্বারা তোমাদের গোপনীয়তা সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। বিবাদ-বিচ্ছেদের সময় প্রতিপক্ষের দ্বারা কষ্ট পেয়ে ধৈর্যহারা, দিশেহারা হবে না। কেননা সত্য সত্যের স্থানেই থাকে এবং দুঃখ কষ্ট দ্বারা আল্লাহ্ সওয়াব ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। যার নিয়ত সৎ এবং যে আত্মসংযমে অভ্যস্ত, আল্লাহ্ ও মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি কৃত্রিমভাবে মানুষের সাথে এমন আচরণ করবে যা তার নিয়তের পরিপন্থী এবং যা সম্পর্কে আল্লাহ্ জানেন যে, ওটা তার স্বত:স্ফূর্ত আচরণ নয়, আল্লাহ তাকে অপদস্থ করবেন। সুতরাং আল্লাহ্ ত্বরিত জীবিকা ও তাঁর রহমতের ভান্ডার সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? এটা কি আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ তোমাকে দিতে পারে?
📄 বিচারকের সুপারিশ
বিচারক ভাল মনে করলে সুপারিশ করতে পারেন। যেমন বাদী বিবাদীকে আপোস করতে বা তাদের পাওনার একাংশ ছেড়ে দিতে বলতে পারেন। ইতিপূর্বে উল্লেখিত এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ্ (সা) কাব ইবনে মালিককে তার ঋণের অর্ধেক ছেড়ে দেয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন এবং কাব তা মেনে নিয়ে আপোস করেছিলেন।
📄 বিচারকের রায়ের বাহ্যিক কার্যকারিতা
বিচারকের রায় কোনো হালাল জিনিসকে হারাম করেনা এবং কোনো হারাম জিনিসকে হালাল করেনা। এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে উম্মে সালমা বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'আমি তো মানুষ মাত্র। তোমরা আমার নিকট বিবাদ নিয়ে এসে থাক। হয়তো তোমাদের কেউ অপরের চেয়ে বেশি বাকপটু হতে পারে এবং নিজের যুক্তিপ্রমাণ তুলে ধরতে পারে। ফলে আমি যা শুনি তার ভিত্তিতে মীমাংসা করি। কাজেই আমি যদি কাউকে তার ভাইয়ের অধিকার দিয়ে থাকি তবে সে যেন তা না নেয়। কেননা আমি তো তার জন্য আগুনের টুকরো তৈরি করি।' (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজা)। ইমাম শাফেয়ি বলেন, বিচারকের রায় হারামকে হালাল করতে পারেনা, এটা একটা সর্বসম্মত অভিমত। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দাবি উপস্থাপন করে, সে দাবির উপর সাক্ষীদেরকেও হাজির করে এবং বিচারক দাবিকারীর পক্ষে রায় দেয়, তখন সাক্ষ্য-প্রমাণ সত্য হলে বিচারকের রায়ে পাওয়া হক গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ। কিন্তু সাক্ষ্য-প্রমাণ মিথ্যা হয়ে থাকলে এবং সে মিথ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক রায় দিয়ে থাকলে সে রায় বাদীর জন্য দাবিকৃত হক গ্রহণ করাকে বৈধ করেনা, বরং সেটি তার মালিকের মালিকানার অধীনেই থাকবে। একমাত্র ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত আর কোনো ফকিহ্ এই মতের বিরোধিতা করেনি। ইমাম আবু হানিফা বলেন: বিচারকের রায় চুক্তিসমূহের বহাল থাকা ও বাতিল হওয়ার ব্যাপারে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সর্বতোভাবেই কার্যকর।
সুতরাং কোনো মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা যখন বিচারকের নিকট কোনো মহিলার তালাকের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, অত:পর তদনুসারে বিচারক তালাকের পক্ষে রায় দেয়, তখন স্বামীর সাথে তার বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সে অন্য স্বামীর সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এমনকি যে ব্যক্তি তার তালাকের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে তার সাথেও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। অনুরূপ, কেউ যদি কোনো মহিলা সম্পর্কে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় যে, সে অমুকের স্ত্রী, অথচ সে তার স্ত্রী নয়, অত:পর বিচারক এ সাক্ষ্য অনুযায়ী রায় দেয়, তাহলে এ রায় অনুযায়ী মহিলাটি তার জন্য বৈধ হবে। ইমাম আবু হানিফা অবশ্য চুক্তি বহাল থাকা বা বাতিল হওয়া সংক্রান্ত মামলায় এবং খুন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় পার্থক্য করেছেন। কিন্তু সে পার্থক্য সঠিক নয়। কেননা এ দুধরনের মামলায় কোনো পার্থক্য নেই। এ ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফার শিষ্যগণ তাঁর মতের বিরোধিতা করেছেন।