📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মৌনতা ভিত্তিক আপোস মীমাংসা

📄 মৌনতা ভিত্তিক আপোস মীমাংসা


মৌনতা ভিত্তিক আপোস হলো, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট তার কোনো পাওনা দাবি করলে বিবাদী চুপ থাকবে, স্বীকারও করবেনা, অস্বীকারও করবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অস্বীকৃতি ও মৌনতাজনিত আপোস সম্পর্কে শরিয়তের বিধান

📄 অস্বীকৃতি ও মৌনতাজনিত আপোস সম্পর্কে শরিয়তের বিধান


অধিকাংশ আলেমের মতে অস্বীকৃতি ও মৌনতা জনিত আপোস বৈধ। কিন্তু ইমাম শাফেয়ি বলেন: একমাত্র স্বীকারোক্তি ভিত্তিক আপোস ব্যতীত আর কোনো আপোস জায়েয নেই। কেননা আপোসের দাবি হলো, একটা প্রতিষ্ঠিত হক থাকা চাই। কিন্তু অস্বীকৃতি ও মৌনতার ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। যেখানে বিবাদী দাবি অস্বীকার করে সেখানে হক প্রতিষ্ঠিতই হয় না। কেননা হক প্রতিষ্ঠিত হয় দাবি দ্বারা। অথচ অস্বীকৃতি দাবিকে খন্ডন করে। দাবি খন্ডনের কারণে হক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
পক্ষান্তরে মৌনতাজনিত আপোস বৈধ নয় এজন্য যে, নীরবতা অবলম্বনকারীকে কার্যত: অস্বীকারকারী বিবেচনা করা হয়, যতোক্ষণ না তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বিবাদ দাবির জন্য যে কোনো পক্ষের অর্থ ব্যয় অবৈধ। কেননা দাবি বাতিল। তাই এখানে অর্থব্যয় ঘুষের সমার্থক। কেননা আল্লাহ্ সূরা বাকারার ১৮৮ নং আয়াতে বলেন:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتَدلُّوا بِمَا إِلَى الْحُكامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وانتم تعلمون
'তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিয়দংশ জেনে-শুনে অন্যায়রূপে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না।'
কিছু সংখ্যক আলেম মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছেন। তারা একে পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধও করেননি, পুরোপুরিভাবে বৈধও করেননি। তাদের মতে সর্বোত্তম পন্থা হলো বাদী যদি সুনিশ্চিতভাবে জানে যে, তার প্রতিপক্ষের নিকট তার পাওনা আছে, তাহলে যে জিনিসের উপর আপোস মীমাংসা হয়েছে তা দখল করা তার জন্য বৈধ, যদিও তার প্রতিপক্ষ তা অস্বীকার করে। আর সে যদি অন্যায় দাবি করে তাহলে দাবি পেশ করা এবং যে জিনিসের উপর আপোস মীমাংসা হয়েছে তা হস্তগত করা তার জন্য হারাম।
পক্ষান্তরে বিবাদীর কাছে যদি তার নিশ্চিতভাবে জানা হক থেকে থাকে, অথচ সে কোনো স্বার্থজড়িত উদ্দেশ্যে তা অস্বীকার করে থাকে, তাহলে মীমাংসিত জিনিস হস্তান্তর করা তার কর্তব্য। আর যদি সে জানে, তার কাছে কারো কোনো হক পাওনা নেই, তাহলে তার দাবিদারের সাথে তার দ্বন্দ্ব নিরসন ও তার দুঃখ-কষ্ট দূর করার জন্য তার অর্থ সম্পদের একাংশ তাকে প্রদান করা জায়েয। কিন্তু তার দাবিদারের পক্ষে তা গ্রহণ করা হারাম।
সুতরাং অস্বীকৃতিজনিত আপোস সর্বতোভাবে অবৈধ এ কথা যেমন বলা যাবে না, তেমনি তা সর্বতোভাবে বৈধ, একথাও বলা যাবে না, বরং উভয়টি বিশদ বিবরণসহ বলতে হবে।
আর যারা অস্বীকৃতি বা মৌনতাজনিত আপোসকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন, তাদের যুক্তি হলো, বাদীর পক্ষে এটা তার পাওনা মেটানোর শামিল, আর বিবাদীর পক্ষে তার কসম খাওয়ার বদলা ও তার পক্ষ থেকে বিবাদ মেটানোর পদক্ষেপ। আর আপোসে গৃহীত বিনিময় যদি কোনে বস্তু বা দ্রব্য হয়, তাহলে এটা বিক্রয়ের পর্যায়ভুক্ত হবে এবং বিক্রয়ের যাবতীয় বিধান এতে প্রযোজ্য হবে। আর যদি বিনিময় কোনো সেবা হয় তাহলে সেটা হবে ইজারা এবং সে ক্ষেত্রে ইজারার যাবতীয় বিধি প্রযোজ্য হবে। আর যে বিষয়ে আপোস কাম্য তা এ রকম হবে না। কেননা তা হবে বিবাদ নিরসনের বিনিময়। ওটা কোনো মালের বিকল্প নয়। আর যখন আপোসের বিনিময় কারো প্রাপ্য বলে স্থির হবে, তখন বাদী বিবাদীকে তার দাবি পূরণের আহ্বান জানাবে। কেননা সে বিনিময় সুরক্ষিত থাকবে এই আশায়ই নিজের দাবি পরিত্যাগ করেছিল। আর যে জিনিসের ব্যাপারে আপোস কাম্য, তা যখন প্রাপ্য বলে স্থির হবে, তখন বিবাদী বাদীর কাছে তার বিনিময় ফেরত চাইবে। কেননা সে বিনিময় এজন্যই দিয়েছিল যে, তার দাবীকৃত জিনিসই অক্ষুণ্ণ থাকবে। সেটি যখন প্রাপ্য বলে স্থির হয়েছে, তখন তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি। কাজেই সে বাদীর কাছে তা ফেরত চাইতে পারবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বীমখেয়ালী ঋণের একাংশ তৃপ্তিত পরিশোধ করে আপোস

📄 বীমখেয়ালী ঋণের একাংশ তৃপ্তিত পরিশোধ করে আপোস


দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের অংশ বিশেষ ত্বরিত পরিশোধ করত: আপোস করলে তা হাম্বলি মযহাবে ও ইমাম ইবনে হামের নিকট শুদ্ধ হবে না। ইবনে হাযম 'মুহাল্লা' গ্রন্থে বলেন: 'যে আপোসে অংশ বিশেষ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয়, তাতে বিলম্বিত করার শর্ত আদৌ জায়েয নয়। কেননা এ ধরনের শর্ত আল্লাহ্ কিতাবের পরিপন্থী বলে বাতিল। বরং আপোস মীমাংসা তাৎক্ষণিক হবে এবং বিনা শর্তে যতোটুকু খুশি সময় দেয়া যাবে। কেননা এটা একটা ভালো কাজ।' ইবনুল মুসাইয়াব, মালিক, শাফেয়ি ও ইমাম আবু হানিফার মতে এটা মাকরূহ, ইবনে আব্বাস, ইবনে সিরীন ও নাখয়ির মতে জায়েয।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00