📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে বিতর্কিত হকের মীমাংসা কাম্য, তার শর্ত

📄 যে বিতর্কিত হকের মীমাংসা কাম্য, তার শর্ত


যে বিতর্কিত হকের মীমাংসা কাম্য, তার উপর নিম্নের শর্তাবলী প্রযোজ্য:
১. হয় তা মূল্যায়নযোগ্য সম্পদ হওয়া চাই, নতুবা সেবা জাতীয় বিষয় হওয়া চাই।
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা ঋণগ্রস্ত অবস্থায় ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। অত:পর পাওনাদাররা তাদের পাওনা আদায়ের জন্য চাপ দিতে লাগলো, জাবির (রা) বলেন: এমতাবস্থায় আমি রসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট উপস্থিত হলাম। রসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অনুরোধ করলেন যেন আমার বাগানের ফল নিয়ে আমার পিতাকে দায়মুক্ত করে। কিন্তু তারা অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলো। তখন রসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে আমার বাগানের ফল দিলেন না, আমাকে বললেন: পরদিন সকালে আমি তোমার কাছে আসবো। তিনি পরদিন সকালে আমার কাছে এলেন। আমার বাগানে পায়চারি করলেন এবং বাগানের ফলে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। তারপর আমি ফল পাড়লাম এবং তাদের ঋণ পরিশোধ করলাম। পরিশোধ করার পরও আমার ফল অবশিষ্ট রইল।'
অন্য বর্ণনার ভাষা এ রকম: 'জাবিরের পিতা জাবিরের ঘাড়ে জনৈক ইহুদির ত্রিশ ওয়াসাক ঋণ রেখে মারা গেলেন। জাবির ইহুদির নিকট কিছু সময় চাইলেন। ইহুদি সময় দিতে রাজি হলো না। অত:পর জাবির তার পক্ষে সুপারিশ করার জন্য রসূলুল্লাহ্ (সা) কে অনুরোধ করলেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) ইহুদির নিকট গিয়ে তাকে তাঁর পাওনার বিনিময়ে জাবিরের বাগানের খেজুর নিতে বললেন। কিন্তু সে তাঁর কথা অগ্রাহ্য করলো। এরপর রসূলুল্লাহ (সা) জাবিরের বাগানে প্রবেশ করেন এবং তার ভেতরে কিছুক্ষণ ঘুরাফেরা করলেন। তারপর জাবির (রা) কে বললেন: ইহুদির জন্য ফল পাড় এবং তার যা পাওনা তাকে দিয়ে দাও। অত:পর রসূলুল্লাহ্ (সা) ফিরে যাওয়ার পর জাবির ইহুদিকে ত্রিশ ওয়াসাক পরিশোধ করে দিলেন এবং তার কাছে আরো সতেরো ওয়াসাক উদ্বৃত্ত রইল।' (বুখারি) ইমাম শওকানি বলেন: এ থেকে প্রমাণিত হয়, অজ্ঞাত জিনিসের বিনিময়ে জ্ঞাত জিনিসের ব্যাপারে আপোস মীমাংসা বৈধ।
২. বান্দার এমন হক হওয়া চাই, যার বিকল্প দেয়া জায়েয আছে। চাই তা কোনো মাল না-ই হোক, যেমন কিসাস, কিন্তু আল্লাহ্ হকের ব্যাপারে কোনো আপোস চলবেনা। চোর, ব্যভিচারী বা মদখোর যদি যে ব্যক্তি তাকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য গ্রেফতার করেছে, তার সাথে কোনো মালের বিনিময়ে আপোস করে, যাতে সে তাকে ছেড়ে দেয়। তবে এই আপোস অবৈধ। কেননা এ ব্যাপারে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। এরূপ ক্ষেত্রে বিনিময় গ্রহণকে ঘুষ খাওয়া হিসাবে বিবেচনা করা হবে। তদ্রূপ অপবাদের শাস্তির ক্ষেত্রেও আপোস বৈধ নয়। কেননা ঐ শাস্তি প্রবর্তিত হয়েছে মানুষকে মানুষের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে সতর্ক করার জন্য। এটা যদিও বান্দার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট, কিন্তু এতে আল্লাহ্ হকই প্রবলতর। আর সাক্ষী যদি আল্লাহর হক বা বান্দার হকের ব্যাপারে সাক্ষ্য গোপন করার উদ্দেশ্যে কোনো মালের বিনিময়ে আপোস করে, তবে তা অবৈধ। কেননা সাক্ষ্য গোপন করা হারাম। আল্লাহ্ বলেন: وَلا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ ، وَمَنْ يَكْتُمُهَا فَالَّهُ أَلَمْ قَلْبُهُ 'তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে গোপন করবে তার অন্তর পাপী।' (২ সূরা বাকারা: আয়াত ২৮৩)।
আল্লাহ আরো বলেন: وَأَقِيمُوا الشَّمَادَةَ لِلَّهِ 'তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দিও।' (৬৫ সূরা তালাক: আয়াত ২)।
শুফয়া বর্জন করার ব্যাপারেও আপোষ মীমাংসা বৈধ নয়। জমির ক্রেতা যদি শুফয়ার দাবিদারের সাথে শুফয়া বর্জনের জন্য আপোস করে তবে সেই আপোস বাতিল। কেননা শুফয়া শরিকের ক্ষতি দূর করার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত। এ দ্বারা আর্থিক সুবিধা ভোগ করা হবে এজন্য নয়। অনুরূপ দাম্পত্য সম্পর্ক দাবির ব্যাপারেও আপোস মীমাংসা বৈধ নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আপোস মীমাংসার প্রকারভেদ

📄 আপোস মীমাংসার প্রকারভেদ


আপোস মীমাংসা কখনো স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কখনো অস্বীকৃতির ভিত্তিতে আবার কখনো মৌনতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মীমাংসা

📄 স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মীমাংসা


স্বীকারোক্তি ভিত্তিক মীমাংসা হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট তার দেয়া ঋণ বা অন্য কোনো পাওনার দাবি করলো। অত:পর যার কাছে দাবি করলো, সে তা মেনে নিলো। অত:পর উভয়ে পাওনা আংশিক পরিশোধের ভিত্তিতে আপোস করলো। এটা বৈধ। কেননা মানুষকে পুরোপুরি না হোক, আংশিক পাওনা থেকে খাতককে অব্যাহতি দিতে নিষেধ করা যায়না।
ইমাম আহমদ র. বলেন: এ ক্ষেত্রে কেউ যদি সুপারিশ করে তবে তাতে গুনাহ হবে না। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) জাবির (রা) এর পাওনাদারদেরকে সুপারিশ করে অর্ধেক ঋণ মওকুফ করিয়েছিলেন এবং কা'ব ইবনে মালেককে সুপারিশ করে তার খাতকদের অর্ধেক ঋণ মওকুফ করিয়েছিলেন। ইমাম আহমদ ইমাম নাসায়ির এই হাদিসের দিকে ইংগিত করেছেন, যা তিনি কা'ব ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। কা'ব মসজিদে নববীতে ইবনে আবি হাদরাদের নিকট তার পাওনা দাবি করলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি হলো। রসূলুল্লাহ্ (সা) নিজের ঘরে বসে তা শুনলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ঘর থেকে বের হয়ে তাদের দিকে এগিয়ে ডেকে বললেন: 'হে কা'ব। কা'ব বললেন: হে রসূলুল্লাহ (সা) আমি হাজির।' রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমার ঋণের অর্ধেক মওকুফ কর। কা'ব বললেন : হে রসূলুল্লাহ্, (সা) মওকুফ করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সা) ইবনে আবি হাদরাদকে বললেন: ওঠ, পরিশোধ কর।
বিবাদী যদি নগদ ঋণের কথা স্বীকার করে ও নগদ প্রদান করে আপোস করে, তাহলে সেটা হবে নগদ লেনদেন এবং সে ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের শর্ত প্রযোজ্য হবে। আর যদি নগদ ঋণের কথা স্বীকার করে কিন্তু দ্রব্যাদি দিয়ে আপোস করে কিংবা দ্রব্যাদির ঋণের কথা স্বীকার করে এবং নগদ মুদ্রায় পরিশোধ করে, তবে সেটা হবে একটা বিনয়। এ ক্ষেত্রে বিক্রয়ের সমস্ত বিধি কার্যকর হবে। আর যদি নগদ মুদ্রা বা দ্রব্যাদির ঋণ স্বীকার করে এবং সেবা দিয়ে যথা বাড়িতে আবাসিক সুবিধা বা অন্য কোনো সেবা দিয়ে আপোস করে তবে এটা হবে ইজারা এবং এতে ইজারার বিধিমালা প্রযোজ্য হবে। আর যখন মীমাংসায় বিতর্কিত হক বাদীর প্রাপ্য বলে স্থির হয় তখন বিবাদী আপোসের জন্য তার বদলায় যে জিনিস দিয়েছিল তা ফেরত চাইতে পারবে। কেননা সে বদলা দিয়েছিলই ওটিকে রক্ষা করার জন্য। আর যখন বদলা প্রাপ্য হবে, তখন বাদী বিবাদীর কাছে দাবিকৃত জিনিসটি ফেরত চাইতে পারবে। কেননা সে বদলাকে সুরক্ষিত করার জন্যই দাবিকৃত জিনিস ছেড়ে দিয়েছিল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অস্বীকৃতিজনিত আপোস মীমাংসা

📄 অস্বীকৃতিজনিত আপোস মীমাংসা


অস্বীকৃতিজনিত আপোস মীমাংসা হলো, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট কোনো পাওনার দাবি করলে সে দাবিকৃত জিনিস অস্বীকার করবে, অত:পর উভয়ে আপোস মীমাংসা করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00