📄 মীমাংসার বৈধতা
মানুষের পারস্পরিক বিরোধ ও দ্বন্দ্ব-কলহকে মৈত্রী ও সহেতুক রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে এবং বাদী-বিবাদীর বিদ্বেষ ও আক্রোশের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে কুরআন সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা আপোস ও মীমাংসা শরীয়ত সম্মত কাজ বলে প্রমাণিত হয়। সূরা হুজরাতের ৯ নং আয়াতে রয়েছে:
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَىٰ فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّىٰ تَفِيءَ إِلَىٰ أَمْرِ اللَّـهِ ۚ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا ۖ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ মুমিনদের দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও, অতঃপর তাদের একদল অপর দলকে আক্রমণ করলে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবে ও সুবিচার করবে। আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালোবাসেন’। আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে মাজা, হাকেম ও ইবনে হাব্বান আকার ইবনে আৰুফ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ (সা) বলেন :
‘একমাত্র আপোস যে হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করে, তা ছাড়া মুসলমানদের মধ্যে সম্পাদিত সকল আপোস ও মীমাংসা বৈধ। তিরমিযি এই সাথে যোগ করেছেন : মুসলমানরা তাদের আরোপিত সমস্ত শর্ত মেনে চলবে’।
উমর (রা) বলেন : ‘তোমরা বাদী-বিবাদীকে ফিরিয়ে দাও, যাতে তারা নিজেরাই আপোস মীমাংসা করে। কারণ বিচারকের মীমাংসা তাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষের জন্ম দেয়।’
ওদিকে বাদী বিবাদীর আপোস মীমাংসার বৈধতার পক্ষে মুসলমানদের ইজমা রয়েছে।
📄 মীমাংসার মূল উপাদান
আপোস মীমাংসার মূল উপাদান দুটো: মীমাংসা বুঝা যায় এমন শব্দ দ্বারা ইজাব ও কবুল করা। যেমন বিবাদী বলবে: ‘আমার কাছে তোমার যে একশো মুদ্রা পাওনা রয়েছে, সে বিষয়ে তোমার সাথে পঞ্চাশ মুদ্রায় আপোস মীমাংসা করলাম।’ অপরজন বলবে: ‘আমি মেনে নিলাম।’
এভাবে যখন আপোস মীমাংসা সম্পন্ন হয়ে যায়, তখন তা বাদী বিবাদী উভয়ের জন্য অপরিহার্য হয়ে যায়। তখন আর কোনো এক পক্ষ এককভাবে অপর পক্ষের সম্মতি ব্যতিরেকে তা বাতিল করতে পারে না। চুক্তি অনুযায়ী মীমাংসার বিনিময়ে বাদীর যা প্রাপ্য, সে তার মালিক হয়ে যাবে এবং বিবাদী তা তার কাছ থেকে ফেরত চাইতে পারবে না। আর এর মাধ্যমে বিবাদের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, অতঃপর বাদীর নতুন কোনো দাবি দাওয়া শোনা হবে না।
📄 মীমাংসার শর্তাবলী
মীমাংসার শর্ত তিন প্রকার:
মীমাংসাকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট শর্ত, যে জিনিসের মাধ্যমে মীমাংসা কাম্য তার শর্ত, যে জিনিস বা অধিকার নিয়ে মীমাংসা কাম্য, তার শর্ত।
📄 মীমাংসা গ্রহণকারী
এমন ব্যক্তি হওয়া শর্ত, যার কাউকে স্বেচ্ছায় কিছু দান করার যোগ্যতা রয়েছে। সে যদি এমন ব্যক্তি হয়, যার স্বেচ্ছায় দান করার যোগ্যতা (অর্থাৎ আইনানুগ যোগ্যতা) নেই, যথা : পাগল, অপ্রাপ্তবয়স্ক, এতিমের অভিভাবক ও ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক, তবে এ ধরণের লোকের মীমাংসা গ্রহণ বৈধ নয়। কেননা এটা একটা স্বেচ্ছাকৃত দান, যার যোগ্যতা এসব ব্যক্তির নেই। তবে ভালোমন্দ ও ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে সচেতন অপ্রাপ্তবয়স্কের, এতিমের অভিভাবকের ও ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়কের মীমাংসা গ্রহণকারী হওয়া সেই ক্ষেত্রে বৈধ যেখানে মীমাংসা উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্কের, এতিমের বা ওয়াক্ত সম্পত্তির জন্য কল্যাণজনক ও লাভজনক হয়। কারো কাছে কিছু ধারের অর্থ পাওনা রয়েছে, কিন্তু তার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই, এরূপ ক্ষেত্রে ঋণের একাংশ নিয়ে অপর অংশ থেকে খাতককে অব্যাহতি দেয়ার জন্য মীমাংসায় উপনীত হওয়া জায়েয, যদিও মীমাংসা গ্রহণকারী অপ্রাপ্তবয়ষ্ক হয়।