📄 বৈধ শিরকাতের কয়েকটি পন্থা
ইমাম ইবনে কুদামা বৈধ শিরকাতের কয়েকটি পন্থা উল্লেখ করেছেন। তিনি তার 'আলমুগনি' গ্রন্থে বলেন: 'একজন ধোপার যদি একটি যন্ত্র থাকে এবং অন্য জনের একটি ঘর থাকে, আর উভয়ে যদি এই মর্মে শিরকাতের চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, ঐ যন্ত্রটি দিয়ে ঐ ঘরে উভয়ে কাজ করবে, অত:পর যা আয় হবে তা উভয়ে ভাগ করে নেবে, তাহলে এটা জায়েয হবে এবং মজুরি তাদের স্থিরিকৃত শর্ত অনুসারে ধার্য হবে। কারণ শিরকাতের সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের কাজের উপর। আর শিরকাতে কাজের ভিত্তিতে লভ্যাংশ প্রাপ্য হয়। যন্ত্র ও ঘর দ্বারা কিছু প্রাপ্য হয়না। কেননা যন্ত্র ও ঘর যৌথ কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই দুই ব্যক্তি যখন দুটো জন্তু তাদের পছন্দের জিনিস বহনের জন্য ভাড়া করে, তখন যে অবস্থা হবে, যন্ত্র ও ঘর ব্যবহারকারী ধোপা ও তার শরিকের অবস্থাও তদ্রূপ। আর যদি কোনো কারণে শিরকাত বাতিল হয়ে যায়, তাহলে তাদের যা আয় হয়েছে, তা তাদের উভয়ের কাজের মজুরি এবং ঘর ও যন্ত্রের ভাড়া অনুপাতে বণ্টন করা হবে। আর যদি তাদের দু'জনের একজনের যন্ত্র থাকে এবং অপরজনের কিছুই থাকেনা, অথবা একজনের ঘর থাকে এবং অপরজনের কিছুই থাকেনা, অত:পর উভয়ে উক্ত যন্ত্র দ্বারা বা ঘরে কোনো কাজ করতে একমত হয় এবং মজুরি ভাগ করে নিতে সম্মত হয় তবে তাও জায়েয হবে।
ইবনে কুদামা আরো বলেন: কেউ যদি তার জন্তুকে অপর একজনের নিকট এই শর্তে সোপর্দ করে যে, সে ঐ জন্তুটি কাজে খাটাবে এবং তাতে যা আয় হবে তা তাদের উভয়ের মধ্যে সমান দু'ভাগে, অথবা অন্য কোনো ভাবে ভাগ হবে, তবে তা শুদ্ধ হবে। এটা আসরাম, মুহাম্মদ ইবনে আবি হারব, আহমদ ইবনে সাঈদ ও আওযায়ির মত। কিন্তু নাখয়ি ও হাসান এটা মাকরূহ এবং ইমাম শাফেয়ি, আবু সাওর, ইবনুল মুনযির ও যুক্তিবাদী ফকিহগণ অবৈধ মনে করেন। তাদের মতে, মুনাফা পুরোটা পাবে জন্তুর মালিক। কেননা এখানে একমাত্র পরিবহনই মুনাফা পাওয়ার যোগ্য কাজ। তবে জন্তুকে কাজে খাটানোর জন্যে ঐ ব্যক্তি প্রচলিত হারে মজুরি পাবে। কেননা এটা শিরকাতের আওতায় পড়ে না। অবশ্য মুদারাবা হলে সে মুনাফার অংশ পেত। আবুদাউদ আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন: কেউ যদি তার ঘোড়া অন্য কাউকে যুদ্ধে ব্যবহার করার জন্যে এই শর্তে দেয় যে, অর্ধেক গনিমত তাকে (ঘোড়ার মালিককে) দিতে হবে, তবে তা দূষণীয় হবে না। কিন্তু আবু আব্দুল্লাহ্ বলেন: তিন চতুর্থাংশ মালিককে দিতে রাযী হলে জায়েয হবে। ইমাম আওযায়ির মতও তদ্রূপ। কিছু সংখ্যক ফকিহ্ বলেন: কেউ যদি জেলেকে এই শর্তে জাল দেয় যে, সে যত মাছ ধরবে তার অর্ধেক তার (জালদাতার) তবে শিরকাত শুদ্ধ ও কার্যকর হবে, কিন্তু সমস্ত মাছই জেলের প্রাপ্য, জালওয়ালা শুধু প্রচলিত হারে জালের ভাড়া পাবে। ইমাম আহমদের মতও তদ্রূপ বলে জানা গেছে।