📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শিরকাতের মূল উপাদান

📄 শিরকাতের মূল উপাদান


শিরকাতের মূল উপাদান হচ্ছে ইজাব বা কবুল। একজনে বলবে: তোমাকে অমুক কাজে শরিক করলাম, আর অপরজন বলবে: আমি গ্রহণ করলাম।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিধান

📄 বিধান


হানাফি মযহাব অনুসারে উল্লিখিত সব কয় প্রকারের শিরকাত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বৈধ। মালেকি মযহাব অনুসারে 'শিরকাতুল উজুহ' অর্থাৎ মূলধন বিহীন যৌথ ব্যবসায় ব্যতীত আর সবগুলো বৈধ। শাফেয়ি মযহাবে 'শিরকাতুল ইনান' অর্থাৎ অসম অংশীদারিত্ব ভিত্তিক শিরকাত ব্যতীত আর সব বাতিল। আর হাম্বলি মযহাবে 'শিরকাতুল মুফাওয়াযা' অর্থাৎ সম অংশীদারিত্ব ভিত্তিক শিরকাত ব্যতীত আর সবগুলো বৈধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শিরকাতুল ইনান বা অসম অংশীদারি ভিত্তিক শিরকাত

📄 শিরকাতুল ইনান বা অসম অংশীদারি ভিত্তিক শিরকাত


শিরকাতুল ইনান বা অসম অংশীদারিত্ব ভিত্তিক শিরকাত হলো, দুই ব্যক্তি কর্তৃক তাদের কোনো সম্পত্তিতে এরূপ শর্তে ব্যবসায় করতে সম্মত হওয়া যে, মুনাফা উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হবে। এতে সম্পত্তি, কর্তৃত্ব ও মুনাফায় সমতার শর্ত থাকে না। এক শরিকের সম্পত্তির পরিমাণ অন্য শরিকের চেয়ে বেশি হতে পারে এবং এক শরিক দায়িত্বশীল ও অপর শরিক দায়িত্বহীন হতে পারে। উভয়ের মুনাফায় সম অধিকারী হওয়া বা অসম অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে একমত হওয়া বৈধ। ব্যবসায়ে লোকসান হলে তা বিনিয়োগকৃত মূলধন অনুপাতে বণ্টিত হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শিরকাতুল মুফাওয়াদা বা সম অংশীদারিত্বভিত্তিক শিরকাত

📄 শিরকাতুল মুফাওয়াদা বা সম অংশীদারিত্বভিত্তিক শিরকাত


এটা হচ্ছে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তির নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে কোনো কাজে অংশীদারি হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া:
১. প্রত্যেক শরিকের বিনিয়োগকৃত সম্পত্তির পরিমাণ সমান হবে। কোনো শরিকের সম্পত্তি বেশি হলে শিরকাত শুদ্ধ হবেনা। (এই শিরকাতে শরিকদের মূলধন, মুনাফা ও ক্ষমতা সমান হয়ে থাকে। এক শরিকের মূলধন যদি একশো টাকা হয়, অপর শরিকের তার চেয়ে কম হয় তবে শিরকাত শুদ্ধ হবে না।)
২. ক্ষমতা প্রয়োগে সমতা। সুতরাং প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন দুই ব্যক্তির মধ্যে শিরকাত বৈধ নয়।
৩. ধর্মে সমতা। তাই একজন মুসলমান ও একজন কাফিরের মধ্যে শিরকাত শুদ্ধ নয়।
৪. ক্রয় ও বিক্রয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রত্যেক শরিক তাতে অপর শরিকের জামিন ও প্রতিনিধি হবে। কাজেই কোনো শরিকের ক্ষমতা অপর শরিকদের চেয়ে বেশি হবেনা।
এই সকল দিক দিয়ে যখন সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন শিরকাত বৈধ ও কার্যকর হবে এবং প্রত্যেক শরিক অপর শরিকের প্রতিনিধি ও জামিন হবে একে অপরকে তার যাবতীয় তৎপরতা ও ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবে। এই শিরকাত হানাফি ও মালিকি মযহাবে বৈধ, কিন্তু শাফেয়ি মযহাবে বৈধ নয়। ইমাম শাফেয়ি বলেন: 'সমতা ভিত্তিক শিরকাত যদি অবৈধ না হয়, তবে পৃথিবীতে আর কিছু অবৈধ আছে বলে আমার জানা নেই। কেননা এটা এমন একটা চুক্তি, যার নজির শরিয়তে নেই। এই শিরকাতে সমতা কার্যকর হওয়া কঠিন। কারণ এতে অজ্ঞতা ও ধোঁকার অবকাশ রয়েছে। আর 'তোমরা মুফাওয়াযা কর, কেননা এতে সর্বাধিক বরকত রয়েছে এবং যখন তোমরা পরস্পর মুফাওয়াযা করবে তখন তা ভালোভাবে করবে' মর্মে যে সব হাদিস বর্ণিত আছে, তার কোনোটাই সহিহ হাদিস নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00