📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসে কিসে মুসাকাত জায়েয

📄 কিসে কিসে মুসাকাত জায়েয


মুসাকাত কিসে কিসে জায়েয তা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম দাউদের মতে শুধু খেজুর গাছে, শাফেয়ির মতে খেজুর ও আঙ্গুরে, এবং হানাফিদের মতে মাটিতে যে সব উদ্ভিদের শিকড় বদ্ধমূল থাকে, এবং যা পেটে নিলেও তার শেকড় থেকে আবার উদ্ভিদ জন্মে যেমন ইক্ষু, এ ধরনের সকল গাছেই মুসাকাত জায়েয। যখন মুসাকাতের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়না, তখন চুক্তি সম্পাদনের পর ফসল কাটার প্রথম যে সময় আসবে, সেই সময় পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ নির্ধারিত হবে।
ইমাম মালেকের মতে মুসাকাত সকল স্থায়ী শিকড়ধারী উদ্ভিদ যথা ডালিম, আঙ্গুর যয়তুন প্রভৃতিতে বিনা প্রয়োজনেও বৈধ। আর যে সকল উদ্ভিদের শিকড় থেকে গাছ জন্মে না, যেমন বাংগি ইত্যাদি, সেগুলোর মালিক চাষাবাদে অক্ষম হলে মুসাকাত জায়েয। অনুরূপ, শস্য ফলানোর ক্ষেত্রেও মুsাকাত জায়েয। আর হাম্বলি মযহাবে এমন প্রত্যেক ফলে মুসাকাত জায়েয, যা মানুষে খায়। 'আল মুগনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যে গাছে সেচ লাগে এবং যে গাছে সেচ লাগেনা উভয়টাতে মুসাকাত জায়েয। ইমাম মালিকের মতও তাই এবং এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুসাকির দায়িত্ব

📄 মুসাকির দায়িত্ব


ইমাম নববি বলেন: ফসল ও ফলের উৎপাদন বাড়াতে ও সংস্কার করতে যা যা করা দরকার, তা করা মুসাকির কর্তব্য, চাই তা বছরে একাধিকবার করার প্রয়োজন হোক, যেমন সেচ দেয়া, খাল সংস্কার করা, গাছের গোড়া পরিষ্কার করা, গাছের পরাগায়ন, আগাছা পরিস্কার করা, ডালপালা ছাঁটা, ফল ও তার চারার সুরক্ষা ইত্যাদি। তবে যে সব কাজ দ্বারা গাছের মূল ও শেকড়ের সুরক্ষা হয় এবং বছরে একাধিকবার করতে হয়না, যেমন প্রাচীর নির্মাণ, খাল খনন, সে সব কাজ করা মালিকের দায়িত্ব।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যখন মুসাকি কাজে অক্ষম হয়ে পড়ে

📄 যখন মুসাকি কাজে অক্ষম হয়ে পড়ে


কোনো দুর্যোগের কারণে বা অনিবার্য সফরের কারণে যখন মুসাকি তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয় তখন মুসাকাতের চুক্তি বাতিল গণ্য হবে। অবশ্য মালিক যদি মুসাকি স্বয়ং কাজ করতে হবে এরূপ শর্ত আরোপ না করে থাকে, তাহলে বাতিল হবে না, বরং সে অন্য কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারবে। এটা হানাফি মযহাবের মত। তবে ইমাম মালেক বলেন: মুসাকি যদি ফল বিক্রয়ের সময় সমাগত হওয়ার কাজে অক্ষম হয় তাহলে অন্য কাউকে মুসাকি নিয়োগ করা তার পক্ষে বৈধ হবে না। বরং তাকে অন্য শ্রমিক নিযুক্ত করতে হবে এবং তার মজুরি দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে তার প্রাপ্য ফসলের অংশ থেকে মজুরি দেবে। শাফেয়ির মতে মুসাকির অক্ষমতায় মুসাকাতের চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যখন মুসাকি চুক্তির পক্ষদ্বয়ের যে কোনো পক্ষ মারা গেলে

📄 যখন মুসাকি চুক্তির পক্ষদ্বয়ের যে কোনো পক্ষ মারা গেলে


দুই পক্ষের এক পক্ষ যখন মারা যায় তখন গাছের ফল না পেকে থাকলে উভয় পক্ষের স্বার্থে মুসাকি অথবা তার উত্তরাধিকারী কাজ চালিয়ে যাবে, যতোক্ষণ না ফল পাকে। এ জন্য প্রয়োজনে মালিক বা তার উত্তরাধিকারীদের উপর বলপ্রয়োগ করতে হবে। কেননা এতে দুপক্ষের কারো ক্ষতি নেই। চুক্তি বাতিল হওয়া থেকে নিয়ে ফল পাকা পর্যন্ত সময়ের জন্য মুসাকি কোনো মজুরি পাবেনা। আর যদি মুসাকি বা তার উত্তরাধিকারীরা মেয়াদ শেষ অথবা চুক্তি বাতিল হওয়ার পর কাজ করা থেকে বিরত হয় তবে তাদের উপর জবরদস্তি করা যাবে না। অবশ্য তারা যদি ফল পাকার আগে তা কাটতে চায় তবে তাদেরকে সেটা করতে দেয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে মালিক বা তার উত্তরাধিকারীরা নিম্নের তিনটে পন্থার যে কোনো একটি অবলম্বন করতে পারবেন:
১. উভয় পক্ষের মতৈক্যের ভিত্তিতে ফল কাটা ও তা ভাগ করে নেয়া।
২. মুসাকি বা তার উত্তরাধিকারীদেরকে তাদের প্রাপ্য যা কাটার যোগ্য অংশের মূল্য মুদ্রার মাধ্যমে দেয়া।
৩. ফল পাকা পর্যন্ত গাছের উপর খরচ করতে থাকা, অত:পর মুসাকি বা তার উত্তরাধিকারীদের নিকট সেই খরচ চাওয়া অথবা তার বিনিময়ে ফল নেয়া। শেষোক্ত পন্থাটি হানাফি মযহাবের মত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00