📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শর্তাবলী

📄 শর্তাবলী


মুসাকাতের শর্তাবলী নিম্নরূপ:
১. যে গাছ সম্পর্কে মুসাকাতের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বা হবে, তা যেন দেখে বা বিবরণের মাধ্যমে জানা যায়। কেননা কোনো অজানা জিনিসের উপর চুক্তি জায়েয নেই।
২. এর মেয়াদ জানা থাকা চাই, যাতে কোনো অস্বচ্ছতা, অস্পষ্টতা ও ধোঁকার সম্ভাবনা না থাকে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন: মেয়াদ স্পষ্ট করে জানানো মুসাকাতের জন্য শর্ত নয়। কেননা ফল বা ফসল কখন পাকে তা প্রায় সবাই জানে এবং সামান্যই হেরফের হয়। যাহেরি মযহাবের মতে এটা আদৌ শর্ত নয়। তাদের প্রমাণ হচ্ছে ইমাম মালেক বর্ণিত হাদিস, রসূলুল্লাহ্ (সা) ইহুদিদেরকে বলেছিলেন: 'আল্লাহ্ তোমাদের জন্য যে বিধি নির্ধারণ করেছেন, আমিও তাই নির্ধারণ করছি।' হানাফিদের মত হলো: ফল পাকার আগে মুসাকাতের মেয়াদ শেষ হলে গাছগুলোকে মুসাকির তদারকিতে রাখা হবে এবং সে ফল পাকা পর্যন্ত বিনা মজুরিতে তার কাজ করে যাবে।
৩. মুসাকাতের চুক্তি ফলের পরিপক্কতার স্তরে পৌঁছার আগে সম্পাদন করতে হবে। কেননা ঐ স্তরে থাকতে তার কাজ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। পরিপক্কতা লাভের পর কোনো কোনো ফকিহের মতে মুসাকাত জায়েয নেই। কেননা তখন তার আর প্রয়োজন থাকে না, আর এরপর এ কাজ করা হলে তা হবে ইজারা, মুসাকাত নয়। কোনো কোনো ফকিহের মতে, পরিপক্কতা লাভের পরও মুসাকাত জায়েয। কেননা আল্লাহ্ ফল সৃষ্টি করার আগে যখন মুসাকাত জায়েয করেছেন, তখন ফল সৃষ্টির পরে তো আরো ভালোভাবে জায়েয হবে।
৪. অর্ধেক হোক বা এক তৃতীয়াংশ হোক, ফলের একটা অংশ মুসাকির জন্য আগে ভাগেই নির্ধারণ করে দিতে হবে। মুসাকি বা মালিকের জন্য গাছ নির্ধারণ বা পরিমাণ নির্ধারণ অবৈধ। 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'যারা মুসাকাতের বৈধতার পক্ষপাতী, তারা একমত যে, সেচের সমস্ত খরচ মালিকের, আর শ্রম দেয়া ছাড়া মুসাকির আর কোনো দায়িত্ব নেই এ নীতির ভিত্তিতে মুসাকাত জায়েয নেই। কেননা এমন একটা জিনিসের বিনিময়ে এ ধরনের চুক্তি করা হয়, যা এখনো সৃষ্টিই হয়নি।'
উল্লেখিত শর্তাবলীর একটিও বাদ পড়লে মুসাকাত বাতিল হবে। তথাপি এ ধরনের চুক্তির ভিত্তিতে মুসাকি যদি কাজ করে এবং তার কাজের কারণে গাছে ফল ধরে, তবে সে প্রচলিত নিয়মে মজুরি পাবে এবং গাছের ফল মালিকের থাকবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসে কিসে মুসাকাত জায়েয

📄 কিসে কিসে মুসাকাত জায়েয


মুসাকাত কিসে কিসে জায়েয তা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম দাউদের মতে শুধু খেজুর গাছে, শাফেয়ির মতে খেজুর ও আঙ্গুরে, এবং হানাফিদের মতে মাটিতে যে সব উদ্ভিদের শিকড় বদ্ধমূল থাকে, এবং যা পেটে নিলেও তার শেকড় থেকে আবার উদ্ভিদ জন্মে যেমন ইক্ষু, এ ধরনের সকল গাছেই মুসাকাত জায়েয। যখন মুসাকাতের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়না, তখন চুক্তি সম্পাদনের পর ফসল কাটার প্রথম যে সময় আসবে, সেই সময় পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ নির্ধারিত হবে।
ইমাম মালেকের মতে মুসাকাত সকল স্থায়ী শিকড়ধারী উদ্ভিদ যথা ডালিম, আঙ্গুর যয়তুন প্রভৃতিতে বিনা প্রয়োজনেও বৈধ। আর যে সকল উদ্ভিদের শিকড় থেকে গাছ জন্মে না, যেমন বাংগি ইত্যাদি, সেগুলোর মালিক চাষাবাদে অক্ষম হলে মুসাকাত জায়েয। অনুরূপ, শস্য ফলানোর ক্ষেত্রেও মুsাকাত জায়েয। আর হাম্বলি মযহাবে এমন প্রত্যেক ফলে মুসাকাত জায়েয, যা মানুষে খায়। 'আল মুগনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যে গাছে সেচ লাগে এবং যে গাছে সেচ লাগেনা উভয়টাতে মুসাকাত জায়েয। ইমাম মালিকের মতও তাই এবং এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুসাকির দায়িত্ব

📄 মুসাকির দায়িত্ব


ইমাম নববি বলেন: ফসল ও ফলের উৎপাদন বাড়াতে ও সংস্কার করতে যা যা করা দরকার, তা করা মুসাকির কর্তব্য, চাই তা বছরে একাধিকবার করার প্রয়োজন হোক, যেমন সেচ দেয়া, খাল সংস্কার করা, গাছের গোড়া পরিষ্কার করা, গাছের পরাগায়ন, আগাছা পরিস্কার করা, ডালপালা ছাঁটা, ফল ও তার চারার সুরক্ষা ইত্যাদি। তবে যে সব কাজ দ্বারা গাছের মূল ও শেকড়ের সুরক্ষা হয় এবং বছরে একাধিকবার করতে হয়না, যেমন প্রাচীর নির্মাণ, খাল খনন, সে সব কাজ করা মালিকের দায়িত্ব।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যখন মুসাকি কাজে অক্ষম হয়ে পড়ে

📄 যখন মুসাকি কাজে অক্ষম হয়ে পড়ে


কোনো দুর্যোগের কারণে বা অনিবার্য সফরের কারণে যখন মুসাকি তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয় তখন মুসাকাতের চুক্তি বাতিল গণ্য হবে। অবশ্য মালিক যদি মুসাকি স্বয়ং কাজ করতে হবে এরূপ শর্ত আরোপ না করে থাকে, তাহলে বাতিল হবে না, বরং সে অন্য কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারবে। এটা হানাফি মযহাবের মত। তবে ইমাম মালেক বলেন: মুসাকি যদি ফল বিক্রয়ের সময় সমাগত হওয়ার কাজে অক্ষম হয় তাহলে অন্য কাউকে মুসাকি নিয়োগ করা তার পক্ষে বৈধ হবে না। বরং তাকে অন্য শ্রমিক নিযুক্ত করতে হবে এবং তার মজুরি দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে তার প্রাপ্য ফসলের অংশ থেকে মজুরি দেবে। শাফেয়ির মতে মুসাকির অক্ষমতায় মুসাকাতের চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00