📄 দায়বদ্ধ বা খাতক
এই ব্যক্তির প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, সুস্থমস্তিষ্ক হওয়া, উপস্থিত থাকা বা কেফালার ব্যাপারে সম্মতি দেয়া শর্ত নয়। বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল ও অনুপস্থিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কফিল বা তত্ত্বাবধায়ক হওয়া বৈধ। তবে কফিল যখন খাতকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেবে, তখন তার কাছে তা দাবি করতে পারবে না। বরং ওটা তার স্বেচ্ছা প্রণোদিত দান হিসাবে গ্রহীত হবে। তবে কেফালা যদি এমন অপ্রাপ্তবয়স্কের পক্ষে করা হয়, যাকে ব্যবসায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং কফিল তার আদেশক্রমেই কফিল যার জামিন হয়েছে।
যার জন্যে অন্য ব্যক্তি জামিন হয়েছে অর্থাৎ ঋণদাতা: এই ব্যক্তির জন্যে শর্ত হলো, কফিল বা জামিন যেন অবশ্যই তাকে চেনে। কেননা দাবি জানানোর ব্যাপারে মানুষের কঠোরতা ও নমনীয়তার মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। আর সেই অনুপাতে কেফালার উদ্দেশ্যও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং অচেনা ব্যক্তির জামিন হওয়া ধোঁকায় পর্যবসিত হতে পারে। তবে ঋণদাতা কর্তৃক তার জামিনকে চেনা শর্ত নয়।
যে বস্তু, ঋণ, কাজ বা প্রাণীর জন্যে জামিন হয়েছে: যে জিনিস দিতে বা পরিশোধ করতে খাতক দায়বদ্ধ। এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যা যথাস্থানে আলোচিত হবে।
📄 কেফালা বা জামানতের বৈধতা
কুরআন, সুন্নাহ্ ও ইজমার আলোকে কেফালা বা জামানত বৈধ। কুরআনে আল্লাহ সূরা ইউসুফের যথাক্রমে ৬৬ নং ও ৭২ নং আয়াতে বলেন: قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُ مَعَكُمْ حَتَّى تُؤْتُونِ مَوْثِقًا مِّنَ اللَّهِ لَتَأْتَنْنِي بِهِ ۖ وَلِمَنْ جَاءَ بِهِ حِمْلُ بَعِيرٍ وَأَنَا بِهِ زعيره
'(ইয়াকুব) বললো, আমি তাকে কখনই তোমাদের সাথে পাঠাবো না যতোক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার কর যে, তোমরা তাকে আমার নিকট নিয়ে আসবেই।'
এবং 'যে ওটা এনে দেবে সে এক উট বোঝাই মাল পাবে এবং আমি তার জামিন।' ইমাম আবুদাউদ ও তিরমিযি আবু উমামা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'জামিন অর্থ দায়বদ্ধ।'
কেফালাহ্ বা জামানতের বৈধতার ব্যাপারে আলেমগণ একমত। নবুয়তের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলমানরা একে অপরের জামিন হয়ে আসছে এবং আলেমদের মধ্য থেকে কেউ এটা অপছন্দ করেননি।
📄 তাহকিকে, পর্যায় ও সময় নির্ভর জামানত
কেফালা বা জামানত তাৎক্ষণিক, শর্তযুক্ত ও সময়নির্ভর এই তিন ধরনের হতে পারে। তাৎক্ষণিক কেফালার উদাহরণ হলো, কফিল বা জামিন বলবে: 'আমি এই মুহূর্ত থেকেই অমুকের জামিন হচ্ছি ও তার তত্ত্বাবধানের ভার নিচ্ছি।' এ ছাড়া কেউ যদি বলে: 'আমি দায়িত্ব বহন করলাম, কফিল হলাম, জামিন হলাম, তত্ত্বাবধায়ক হলাম, অভিবাবক হলাম, কিংবা সে আমার দায়িত্বে রইল, সে আমার উপর ন্যস্ত রইল, তবে এ সবই কেফালা বা জামানত হবে।
এভাবে যখন কেফালা সম্পন্ন হবে, তখন তা সংশ্লিষ্ট ঋণ তাৎক্ষণিক, বা মেয়াদী বা কিস্তিভিত্তিক যে ভাবেই পরিশোধ করার চুক্তি থাকুক, কফিল বা জামিন তা সেই ভাবে পরিশোধ করতে বাধ্য হবে। তবে ঋণ যদি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করার কথা থেকে থাকে, কিন্তু কফিল সেটিকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বিলম্বিত করার শর্ত আরোপ করে, তবে এই শর্ত বৈধ হবে। কেননা ইবনে মাজা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ (সা) এমন এক ব্যক্তির দশ দিনারের ঋণের দায় গ্রহণ করেছিলেন, যা তার খাতকের উপর পরিশোধ করার অঙ্গীকার ছিলো এবং তিনি এক মাস পর পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, ঋণ যদি তাৎক্ষণিকও হয় কিন্তু কফিল নির্দিষ্ট মেয়াদের পর দেয়ার শর্তে তার দায় গ্রহণ করে, তবে এই শর্তযুক্ত দায় গ্রহণ শুদ্ধ এবং কাফিলের নিকট ঐ মেয়াদ অতিবাহিত হবার আগে পরিশোধের দাবি করা যাবে না।
আর শর্ত যুক্ত কেফালার উদাহরণ হলো, যেমন: 'তুমি যদি অমুককে ঋণ দাও তবে আমি তার জন্যে দায়ী।' সূরা ইউসুফের ৭২ নং আয়াতে যে বলা হয়েছে, 'যে ব্যক্তি ওটা এনে দেবে, সে এক উট বোঝাই মাল পাবে এবং আমিই তার জন্যে জামিন। এটাও শর্তযুক্ত জামানতের উদাহরণ।
আর সময় নির্ভর জামানতের উদাহরণ হলো, 'রমযান মাস যখন আসবে তখন আমি তোমার জামিন হব'।
এটা ইমাম আবু হানিফা ও কিছু সংখ্যক হাম্বলি ফকিহের মত। ইমাম শাফেয়ির মতে কেফালায় শর্ত প্রযোজ্য নয়।
📄 কফিল ও খাতক উভয়ের নিকট একই সাথে ঋণ ফেরত চাওয়া
কেফালার চুক্তি যখন সম্পন্ন হবে, তখন কফিল তথা জামিন ও খাতক উভয়ের নিকট পাওনা পরিশোধের দাবি করা বৈধ। অনুরূপ দুজনের যে কোনো একজনের নিকট চাওয়াও বৈধ। এটাই অধিকাংশ আলেমের মত।