📄 নাম রাখা ও চুল কামানো
নবজাতকের জন্য একটা ভাল নাম বাছাই করা, তার চুল কামানো ও কামানো চুলের ওজনে, সম্ভব হলে, রৌপ্য সদকা করা সুন্নাত। কেননা ইমাম আহমদ ও তিরমিযি ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) হাসানের পক্ষ থেকে একটা ছাগল দিয়ে আকিকা দিলেন এবং বললেন: 'হে ফাতেমা, ওর মাথা কামাও এবং মাথার চুলের ওজনে দরিদ্রদেরকে রৌপ্য সদকা করে দাও। এরপর আমরা চুল ওজন করলাম। দেখলাম, তা এক দিরহাম বা তার কিছু কম।
📄 সদ্যকৃত নাম
মুসলিম বর্ণিত হাদিস অনুসারে সর্বোত্তম নাম আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান, আর সহিহ হাদিস অনুসারে হাম্মাম ও হারেস সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী নাম। আর ফেরেস্তা ও নবীদের নামে এবং তোয়াহা ও ইয়াসীন নামেও নামকরণ করা জায়েয।
ইমাম ইবনে হাযম বলেন: আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য যে কোনো উপাস্য, দেবদেবী বা উপাসনালয়ের নামে নাম রাখা হারাম যথা আব্দুল উয্যা, আবদ হুবাল, আব্দ উমর ইত্যাদি। তবে আব্দুল মুত্তালিব জায়েয।
কতিপয় নামে নামকরণ করা মার্ক্সহ: রসূলুল্লাহ্ (সা) ইয়াসার (স্বচ্ছলতা) রবাহ (মুনাফা) নাজীহ (সফল) আফলাহ (বেশি সফল) নামে নামকরণ করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এগুলো ক্ষেত্র বিশেষে অশুভ লক্ষণ মনে করার উপলক্ষ হয়ে যেতে পারে। সামুরা বর্ণিত হাদিসে রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'তোমাদের ছেলের নাম ইয়াসার, রবাহ, নাজীহ ও আফলাহ রেখনা। কেননা তুমি হয়তো কখনো বলবে, সে কি ওখানে আছে? অথচ সে তখন ওখানে না থাকায় জবাব দেয়া হবে: 'নেই।' (মুসলিম)
📄 শিশুর কানে আযান দেয়া
নবজাতকের ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেয়া সুন্নাত, যাতে তার কানে আল্লাহ্ নাম সর্বপ্রথম শ্রুত হয়। আহমদ, আবুদাউদ ও তিরমিযি আবু রাফে (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন: হাসান ইবনে আলি (রা) জন্ম গ্রহণের পর রসূলুল্লাহ্ (সা) কে হাসানের কানে নামাযের আযান দিতে দেখেছি। ইবনুস সুন্নি হাসান ইবনে আলি (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: যার কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর তার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেবে, তার সন্তান শিশুবা্যধিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।'
📄 নবজাতকের উপরে কয়েকটি জাহিলি প্রথা
আরবরা উটনীর প্রথম শাবককে তাদের দেবদেবীর নামে জবাই করতো এবং এর নাম ছিলো ফারা। আর রজব মাসের সম্মানার্থে একটা পশু জবাই করতো এবং এর নাম দিত উতায়রা। ইসলাম দেব-দেবীর সম্মানার্থে পশু জবাই করতে নিষেধ করেছে, জাহিলি রীতিনীতি পাল্টে দিয়েছে এবং আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ নামে পশু জবাইকে বৈধ করেছে। আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'ফারা ও উতায়রা বৈধ নয়।' নুবায়শা (রা) বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ (সা) কে বললো: আমরা জাহেলি যুগে রজব মাসে 'উতায়রা' জবাই করতাম। এ সম্পর্কে আপনার আদেশ কী? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্র নামে যে কোনো মাসে জবাই কর এবং আল্লাহ্ নামে দান কর ও খাওয়াও। সেই ব্যক্তি পুনরায় বললো: আমরা জাহেলি যুগে 'ফারা' যবাই করতাম, এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: 'প্রত্যেক চরে খাওয়া পশুরই শাবক হয়, যাকে তোমাদের গবাদি পশু প্রতিপালন করে। যখন সেই শাবক উটে পরিণত হয়, তখন যদি তুমি তাকে জবাই কর, এবং তার গোস্ত পথিকদেরকে দান কর, তবে সেটা উত্তম কাজ।'
(আবু দাউদ, নাসায়ি)।
আবু রযীন বলেন আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্, আমরা রজব মাসে পশু জবাই করে নিজেরা খেতাম ও অতিথিকে খাওয়াতাম। রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: এতে দোষের কিছু নেই।' ইমাম আহমদ ও নাসায়ি উমর ইবনুল হারিস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো: 'হে রসূলুল্লাহ, ফারা ও উতায়রা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: যার ইচ্ছা ফারা জবাই করুক বা না করুক, যার ইচ্ছা উতায়রা জবাই করুক বা না করুক, তবে ছাগল ভেড়ায় কুরবানী আছে।'