📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবাইর সময়

📄 জবাইর সময়


কুরবানির জন্য শর্ত, হলো, ঈদের দিন সূর্য ওঠার পরে ঈদের নামায পড়ার উপযুক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে জবাই করা চাই, তার আগে নয়। এরপর তিন দিনে, দিনে বা রাতে, যে কোনো সময় জবাই করা যাবে। এই তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর কুরবানির সময় শেষ হয়ে যাবে। বারা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূল (সা) বলেন: ঈদের দিন আমাদের প্রথম কাজ হলো, নামায পড়া, তারপর বাড়িতে ফিরে যাওয়া এবং কুরবানি করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আমাদের সুন্নাত মেনে চলবে। আর যে ব্যক্তি এর আগে জবাই করবে, সে তার পরিবারের জন্য কিছু গোস্তের ব্যবস্থা করতে পারবে বটে, তবে তার কুরবানি হবে না।'
আবু বুরদা (রা) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) দশই জিলহজ্জ আমাদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বললেন: 'যে ব্যক্তি আমাদের নামায পড়ে, আমাদের কেবলার মুখোমুখি হয় এবং আমাদের কুরবানি করে, সে যেন ঈদের নামায পড়ার আগে জবাই না করে।' বুখারি ও মুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) সূত্রে বর্ণনা করেন: 'যে ব্যক্তি নামাযের পূর্বে যবাই করে, সে কেবল নিজের জন্য জবাই করে। আর যে ব্যক্তি নামাযের পর ও দুই খুতবার পর জবাই করে সে তার কুরবানি পূর্ণ করে এবং মুসলমানদের সুন্নাত পালন করে।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 এক পরিবার থেকে এক কুরবানি যথেষ্ট

📄 এক পরিবার থেকে এক কুরবানি যথেষ্ট


একটা ছাগল বা ভেড়া দিয়ে কেউ যদি কুরবানি করে, তবে সেটি তার জন্য ও তার বাড়ির লোকদের জন্য যথেষ্ট। একজন সাহাবিও একটা ছাগল দিয়ে নিজের ও পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন। কেননা এটা সুন্নাতে ফেকায়া। ইবনে মাজা ও তিরমিযি বর্ণনা করেন, আবু আইয়ূব (রা) বলেছেন: 'রসূলুল্লাহ (সা) এর আমলে এক ব্যক্তি একটা ছাগল জবাই করে নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করতো। তা নিজেরা খেতো, অন্যকেও খাওয়াতো এবং লোকেরা পরস্পরে গর্ব করতো। এই রীতিই চলে আসছে যেমন দেখতে পাচ্ছো।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরবানিতে একাধিক লোকের শরিক হওয়া জায়েয

📄 কুরবানিতে একাধিক লোকের শরিক হওয়া জায়েয


উট বা গরু দ্বারা কুরবানি করলে তাতে একাধিক ব্যক্তির শরিক হওয়া বৈধ। সবাই যদি কুরবানির নিয়তে ও আল্লাহর নৈকট্য লাভে আন্তরিক হয়, তবে একটা গরুতে বা উটে সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারে। জাবের (রা) বলেন: আমরা হোদাইবিয়াতে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে এক উট সাত জনে ও এক গরু সাত জনে কুরবানি করেছিলাম।' -মুসলিম, আবুদাউদ, ও তিরমিযি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরবানির গোশত বন্টন

📄 কুরবানির গোশত বন্টন


কুরবানিদাতার জন্য কুরবানির গোস্ত নিজে খাওয়া, আত্মীয় স্বজনকে উপঢৌকন দেয়া ও দরিদ্রদেরকে সদকা দেয়া সুন্নাত। রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: তোমরা কুরবানির গোস্ত খাও, খাওয়াও ও সঞ্চয় করে রাখ।' আলেমগণ বলেন: এক তৃতীয়াংশ খাওয়া, এক তৃতীয়াংশ বণ্টন করা ও এক তৃতীয়াংশ সঞ্চিত রাখা সর্বোত্তম। এ গোশত অন্যত্র পাঠানো জায়েয, এমনকি দেশের বাহিরেও। তবে গোশত ও চামড়া বিক্রয় করা জায়েয নেই। (কসাইকে মজুরি হিসাবে পশুর কোনো অংশ দেয়া জায়েয নেই। তবে তার কাজের জন্য আলাদা মজুরি দেয়া জায়েয আছে।) কুরবানিদাতা কুরবানির পশুর চামড়া সদকা করতে পারে এবং তা দ্বারা নিজে উপকৃত হতে পারে। ইমাম আবু হানিফার মতে পশুর চামড়া বিক্রয় করে তার মূল্য সদকা করা এবং নিজে তা কিনে বাড়িতে ব্যবহার করা জায়েয।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00