📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে জন্তু দিয়ে কুরবানি জায়েয নেই

📄 যে জন্তু দিয়ে কুরবানি জায়েয নেই


পশুর ত্রুটি মুক্ত হওয়া কুরবানির অন্যতম শর্ত। সুতরাং ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানি জায়েয নেই। (ত্রুটিযুক্ত দ্বারা এমন সুস্পষ্ট ত্রুটিযুক্ত পশু বুঝানো হয়েছে, যার কারণে তার গোশত কম হয়। ছোট খাট দোষত্রুটিতে ক্ষতি নেই।) যেমন:
১. দর্শনীয়ভাবে রোগগ্রস্ত
২. এক চোখ কানা
৩. দর্শনীয়ভাবে খোড়া,
৪. এত বেশি ক্ষীণকায় যে, তার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেছে।
রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: চার ধরনের জন্তু জবাই করলে কুরবানি বৈধ হবেনা: দর্শনীয়ভাবে এক চোখ কানা, দর্শনীয়ভাবে রুগ্ন, দর্শনীয়ভাবে খোঁড়া এবং এতো বেশি ক্ষীণকায় যে, অস্থিতে মজ্জা নেই।' -তিরমিযি।
৫. অধিকাংশ কান বা শিং নেই এমন কানকাটা বা শিং ভাঙ্গা। সামনের চারটি দাঁত গোড়া থেকে উপড়ে গেছে, শিং এর ঢাকনা ভেঙ্গে গেছে, সম্পূর্ণ অন্ধ, এবং মাঠে ঘোরে কিন্তু ঘাস খায়না এমন জন্তুর কুরবানিও জায়েয নেই। অতিমাত্রায় চর্ম রোগে আক্রান্ত পশুরও কুরবানি শুদ্ধ হবে না।
কিন্তু জিভকাটা, লেজকাটা, গর্ভবতী, জন্ম থেকে কান নেই, অর্ধেক কান নেই, অর্ধেক নিতম্ব নেই, এমন জন্তুর কুরবানি চলবে। ইমাম শাফেয়ির বিশুদ্ধতম মত হলো, নিতম্ব ও ওলানকাটা জন্তুর কুরবানি জায়েয হবে না। কেননা খাওয়ার যোগ্য অংশ হারিয়েছে। অনুরূপ লেজকাটা জন্তুর জবাইও জায়েয নেই। ইমাম শাফেয়ি বলেন: দাঁত সম্পর্কে আমরা রসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে কিছু পাইনি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবাইর সময়

📄 জবাইর সময়


কুরবানির জন্য শর্ত, হলো, ঈদের দিন সূর্য ওঠার পরে ঈদের নামায পড়ার উপযুক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে জবাই করা চাই, তার আগে নয়। এরপর তিন দিনে, দিনে বা রাতে, যে কোনো সময় জবাই করা যাবে। এই তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর কুরবানির সময় শেষ হয়ে যাবে। বারা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূল (সা) বলেন: ঈদের দিন আমাদের প্রথম কাজ হলো, নামায পড়া, তারপর বাড়িতে ফিরে যাওয়া এবং কুরবানি করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আমাদের সুন্নাত মেনে চলবে। আর যে ব্যক্তি এর আগে জবাই করবে, সে তার পরিবারের জন্য কিছু গোস্তের ব্যবস্থা করতে পারবে বটে, তবে তার কুরবানি হবে না।'
আবু বুরদা (রা) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) দশই জিলহজ্জ আমাদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বললেন: 'যে ব্যক্তি আমাদের নামায পড়ে, আমাদের কেবলার মুখোমুখি হয় এবং আমাদের কুরবানি করে, সে যেন ঈদের নামায পড়ার আগে জবাই না করে।' বুখারি ও মুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) সূত্রে বর্ণনা করেন: 'যে ব্যক্তি নামাযের পূর্বে যবাই করে, সে কেবল নিজের জন্য জবাই করে। আর যে ব্যক্তি নামাযের পর ও দুই খুতবার পর জবাই করে সে তার কুরবানি পূর্ণ করে এবং মুসলমানদের সুন্নাত পালন করে।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 এক পরিবার থেকে এক কুরবানি যথেষ্ট

📄 এক পরিবার থেকে এক কুরবানি যথেষ্ট


একটা ছাগল বা ভেড়া দিয়ে কেউ যদি কুরবানি করে, তবে সেটি তার জন্য ও তার বাড়ির লোকদের জন্য যথেষ্ট। একজন সাহাবিও একটা ছাগল দিয়ে নিজের ও পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন। কেননা এটা সুন্নাতে ফেকায়া। ইবনে মাজা ও তিরমিযি বর্ণনা করেন, আবু আইয়ূব (রা) বলেছেন: 'রসূলুল্লাহ (সা) এর আমলে এক ব্যক্তি একটা ছাগল জবাই করে নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করতো। তা নিজেরা খেতো, অন্যকেও খাওয়াতো এবং লোকেরা পরস্পরে গর্ব করতো। এই রীতিই চলে আসছে যেমন দেখতে পাচ্ছো।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরবানিতে একাধিক লোকের শরিক হওয়া জায়েয

📄 কুরবানিতে একাধিক লোকের শরিক হওয়া জায়েয


উট বা গরু দ্বারা কুরবানি করলে তাতে একাধিক ব্যক্তির শরিক হওয়া বৈধ। সবাই যদি কুরবানির নিয়তে ও আল্লাহর নৈকট্য লাভে আন্তরিক হয়, তবে একটা গরুতে বা উটে সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারে। জাবের (রা) বলেন: আমরা হোদাইবিয়াতে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে এক উট সাত জনে ও এক গরু সাত জনে কুরবানি করেছিলাম।' -মুসলিম, আবুদাউদ, ও তিরমিযি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00