📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসের দ্বারা কুরবানি বৈধ হয়

📄 কিসের দ্বারা কুরবানি বৈধ হয়


উট, গরু ও ছাগল, ভেড়া এবং মেষ, দুম্বা ব্যতীত অন্য কোনো জন্তু দ্বারা কুরবানি বৈধ হয় না। আল্লাহ্ সূরা হজ্জের ৩৪ নং আয়াতে বলেন: لِيَذْكُرُو اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ . 'আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে আমি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলির উপর তারা আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করে।'
ছয় মাসের মেষ ও এক বছরের ছাগল এবং দুই বছরের গরু ও পাঁচ বছরের উট কুরবানি দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে, চাই নর হোক বা মাদি হোক।
১. ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযি আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: মেষ থেকে জাযা চমৎকার কুরবানির জন্তু। (জাযা হানাফি মযহাব অনুসারে ছয় মাস বয়সী মেষ এবং শাফেয়ি মযহাব অনুসারে এক বছর বয়সী মেষকে বলা হয়।)
২. উব্বা ইবনে আমের (রা) বলেন: আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্, আমি একটা জাযা যোগাড় করেছি। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ওটাই কুরবানি কর।' (বুখারি ও মুসলিম)
৩. ইমাম মুসলিম জাবির (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'মুসিন্না ব্যতীত কুরবানি করোনা। এটা যদি তোমার পক্ষে কষ্টকর হয় তবে মেষ থেকে একটা জাযা কুরবানি কর।'
মুসিন্না হচ্ছে পাঁচ বছর বয়সী উট, দুই বছর বয়সী গরু, এক বছর বয়সী ছাগল এবং এক বছর বা ছয় মাস বয়সী মেষ। শেষোক্তটির ব্যাপারে ইমামদের মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, তা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খাসি দ্বারা কুরবানি

📄 খাসি দ্বারা কুরবানি


খাসি দ্বারা কুরবানি করা জায়েয। ইমাম আহমদ আবু রাফে (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ (সা) দুটো সাদা কালো খাসি মেষ শাবক দিয়ে কুরবানি করেছেন, কেননা তার গোশত অধিকতর মজাদার ও ভালো।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে জন্তু দিয়ে কুরবানি জায়েয নেই

📄 যে জন্তু দিয়ে কুরবানি জায়েয নেই


পশুর ত্রুটি মুক্ত হওয়া কুরবানির অন্যতম শর্ত। সুতরাং ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানি জায়েয নেই। (ত্রুটিযুক্ত দ্বারা এমন সুস্পষ্ট ত্রুটিযুক্ত পশু বুঝানো হয়েছে, যার কারণে তার গোশত কম হয়। ছোট খাট দোষত্রুটিতে ক্ষতি নেই।) যেমন:
১. দর্শনীয়ভাবে রোগগ্রস্ত
২. এক চোখ কানা
৩. দর্শনীয়ভাবে খোড়া,
৪. এত বেশি ক্ষীণকায় যে, তার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেছে।
রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: চার ধরনের জন্তু জবাই করলে কুরবানি বৈধ হবেনা: দর্শনীয়ভাবে এক চোখ কানা, দর্শনীয়ভাবে রুগ্ন, দর্শনীয়ভাবে খোঁড়া এবং এতো বেশি ক্ষীণকায় যে, অস্থিতে মজ্জা নেই।' -তিরমিযি।
৫. অধিকাংশ কান বা শিং নেই এমন কানকাটা বা শিং ভাঙ্গা। সামনের চারটি দাঁত গোড়া থেকে উপড়ে গেছে, শিং এর ঢাকনা ভেঙ্গে গেছে, সম্পূর্ণ অন্ধ, এবং মাঠে ঘোরে কিন্তু ঘাস খায়না এমন জন্তুর কুরবানিও জায়েয নেই। অতিমাত্রায় চর্ম রোগে আক্রান্ত পশুরও কুরবানি শুদ্ধ হবে না।
কিন্তু জিভকাটা, লেজকাটা, গর্ভবতী, জন্ম থেকে কান নেই, অর্ধেক কান নেই, অর্ধেক নিতম্ব নেই, এমন জন্তুর কুরবানি চলবে। ইমাম শাফেয়ির বিশুদ্ধতম মত হলো, নিতম্ব ও ওলানকাটা জন্তুর কুরবানি জায়েয হবে না। কেননা খাওয়ার যোগ্য অংশ হারিয়েছে। অনুরূপ লেজকাটা জন্তুর জবাইও জায়েয নেই। ইমাম শাফেয়ি বলেন: দাঁত সম্পর্কে আমরা রসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে কিছু পাইনি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবাইর সময়

📄 জবাইর সময়


কুরবানির জন্য শর্ত, হলো, ঈদের দিন সূর্য ওঠার পরে ঈদের নামায পড়ার উপযুক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে জবাই করা চাই, তার আগে নয়। এরপর তিন দিনে, দিনে বা রাতে, যে কোনো সময় জবাই করা যাবে। এই তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর কুরবানির সময় শেষ হয়ে যাবে। বারা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূল (সা) বলেন: ঈদের দিন আমাদের প্রথম কাজ হলো, নামায পড়া, তারপর বাড়িতে ফিরে যাওয়া এবং কুরবানি করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আমাদের সুন্নাত মেনে চলবে। আর যে ব্যক্তি এর আগে জবাই করবে, সে তার পরিবারের জন্য কিছু গোস্তের ব্যবস্থা করতে পারবে বটে, তবে তার কুরবানি হবে না।'
আবু বুরদা (রা) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) দশই জিলহজ্জ আমাদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বললেন: 'যে ব্যক্তি আমাদের নামায পড়ে, আমাদের কেবলার মুখোমুখি হয় এবং আমাদের কুরবানি করে, সে যেন ঈদের নামায পড়ার আগে জবাই না করে।' বুখারি ও মুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) সূত্রে বর্ণনা করেন: 'যে ব্যক্তি নামাযের পূর্বে যবাই করে, সে কেবল নিজের জন্য জবাই করে। আর যে ব্যক্তি নামাযের পর ও দুই খুতবার পর জবাই করে সে তার কুরবানি পূর্ণ করে এবং মুসলমানদের সুন্নাত পালন করে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00