📄 কুরবানির বিধান
কুরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এটা ত্যাগ করা মাকরূহ। বুখারি ও মুসলিম আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) দুটো দুই থেকে চার বছরের শিং ওয়ালা সাদাকালো মেষ শাবক আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ ও আল্লাহু আকবর বলে নিজ হাতে জবাই করে কুরবানি করেছেন।'
মুসলিম উম্মে সালমা থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'তোমরা যখন জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করতে ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।'
সুতরাং 'তোমাদের কেউ কুরবানি করতে ইচ্ছা করে' রসূলুল্লাহ (সা) এর এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হয়, কুরবানি করা ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। আবু বকর (রা) ও উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তারা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন না, যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করা হয়।
ইবনে হাযম বলেন: কোনো সাহাবি থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়নি যে, কুরবানি ওয়াজিব। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার মতে, মুসাফির নয় এমন নিসাবের অধিকারী স্বচ্ছল ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব। কেননা ইমাম আহমদ ও ইবনে মাজা বর্ণনা করেন ও হাকেম সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: যার সামর্থ্য আছে, তথাপি কুরবানি করলো না সে যেন আমাদের ঈদগাহ্ না আসে।' কিন্তু ইমামগণ এ হাদিস মওকুফ, এই মতকেই অগ্রগণ্য মনে করেন।
📄 কুরবানি কখন ওয়াজিব
দুই অবস্থায় ব্যতীত কুরবানি ওয়াজিব হয় না:
১. যখন কেউ কুরবানি মান্নত করে। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মান্নত করে, তার আল্লাহ্ আনুগত্য করা উচিত।' এমনকি মান্নতকারী যদি মারাও যায়, তবুও মৃত্যুর পূর্বে সে যা মান্নত করেছে, তা তার পক্ষ থেকে অন্য কারো দেয়া জায়েয।
২. যদি কেউ বলে: এই জন্তু আল্লাহ্ জন্য বা এটা কুরবানির জন্তু। ইমাম মালেকের মতে, কুরবানির নিয়তে কেউ জন্তু কিনলে কুরবানি করা ওয়াজিব।
📄 কুরবানির যৌক্তিকতা
আল্লাহ্ কুরবানিকে শরিয়তের বিধান হিসাবে চালু করেছেন ইবরাহিম (আ) এর স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা ও মানুষের জন্য ঈদের উৎসবকে দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে। যেমন রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'এ দিনগুলো তো পানাহার ও আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।'
📄 কিসের দ্বারা কুরবানি বৈধ হয়
উট, গরু ও ছাগল, ভেড়া এবং মেষ, দুম্বা ব্যতীত অন্য কোনো জন্তু দ্বারা কুরবানি বৈধ হয় না। আল্লাহ্ সূরা হজ্জের ৩৪ নং আয়াতে বলেন: لِيَذْكُرُو اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ . 'আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে আমি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলির উপর তারা আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করে।'
ছয় মাসের মেষ ও এক বছরের ছাগল এবং দুই বছরের গরু ও পাঁচ বছরের উট কুরবানি দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে, চাই নর হোক বা মাদি হোক।
১. ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযি আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: মেষ থেকে জাযা চমৎকার কুরবানির জন্তু। (জাযা হানাফি মযহাব অনুসারে ছয় মাস বয়সী মেষ এবং শাফেয়ি মযহাব অনুসারে এক বছর বয়সী মেষকে বলা হয়।)
২. উব্বা ইবনে আমের (রা) বলেন: আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ্, আমি একটা জাযা যোগাড় করেছি। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ওটাই কুরবানি কর।' (বুখারি ও মুসলিম)
৩. ইমাম মুসলিম জাবির (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'মুসিন্না ব্যতীত কুরবানি করোনা। এটা যদি তোমার পক্ষে কষ্টকর হয় তবে মেষ থেকে একটা জাযা কুরবানি কর।'
মুসিন্না হচ্ছে পাঁচ বছর বয়সী উট, দুই বছর বয়সী গরু, এক বছর বয়সী ছাগল এবং এক বছর বা ছয় মাস বয়সী মেষ। শেষোক্তটির ব্যাপারে ইমামদের মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, তা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।