📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


কুরবানির দিন অর্থাৎ জিলহজ্জ মাস ও আইয়ামে তাশরিকে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যে উট, গরু ও ছাগল-ভেড়া এবং মেষ-দুম্বা জবাই করা হয়, তাকে কুরবানি বলা হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরবানি সম্পর্কে শরিয়তের বিধান

📄 কুরবানি সম্পর্কে শরিয়তের বিধান


আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে কুরবানিকে শরিয়তের বিধান রূপে নির্ধারণ করেছেন: إِنَّا أَعْطَيْنَكَ الْكَوْثَرَهُ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْه إِنْ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُه
'আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন ও কুরবানি করুন। আপনার দুশমনই নাম-চিহ্নহীন নির্বংশ।' (সূরা কাওসার)
আল্লাহ্ বলেন: 'উটকে করেছি আল্লাহ্র নিদর্শনগুলির অন্যতম, তোমাদের জন্য তাতে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে ওগুলির উপর তোমরা আল্লাহর নাম লও।'
এ ছাড়া রসূলুল্লাহ (সা) কুরবানি করেছেন, মুসলমানরাও কুরবানি করেছে এবং এ ব্যাপারে মুসলমানদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত চালু রয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরবানির ফযিলত

📄 কুরবানির ফযিলত


ইমাম তিরমিযি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: আদম সন্তান কুরবানির দিনে কুরবানি জন্তু যবাই করার চাইতে আল্লাহ্র কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো কাজ করেনা। কুরবানির জন্তু কিয়ামতের দিন তার শিং, পশম ও নখরসহ আসবে, আর কুরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহ্র নিকটবর্তী স্থানে পতিত হয়। (অর্থাৎ জবাই করার সাথে সাথেই কবুল হয়।) সুতরাং তোমরা কুরবানি নিয়ে আনন্দ কর।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরবানির বিধান

📄 কুরবানির বিধান


কুরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এটা ত্যাগ করা মাকরূহ। বুখারি ও মুসলিম আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) দুটো দুই থেকে চার বছরের শিং ওয়ালা সাদাকালো মেষ শাবক আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ ও আল্লাহু আকবর বলে নিজ হাতে জবাই করে কুরবানি করেছেন।'
মুসলিম উম্মে সালমা থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'তোমরা যখন জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করতে ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।'
সুতরাং 'তোমাদের কেউ কুরবানি করতে ইচ্ছা করে' রসূলুল্লাহ (সা) এর এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হয়, কুরবানি করা ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। আবু বকর (রা) ও উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তারা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন না, যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করা হয়।
ইবনে হাযম বলেন: কোনো সাহাবি থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়নি যে, কুরবানি ওয়াজিব। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার মতে, মুসাফির নয় এমন নিসাবের অধিকারী স্বচ্ছল ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব। কেননা ইমাম আহমদ ও ইবনে মাজা বর্ণনা করেন ও হাকেম সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: যার সামর্থ্য আছে, তথাপি কুরবানি করলো না সে যেন আমাদের ঈদগাহ্ না আসে।' কিন্তু ইমামগণ এ হাদিস মওকুফ, এই মতকেই অগ্রগণ্য মনে করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00