📄 একটি শিকার করায় দুটো শিকারী প্রাণী শরীক হওয়া
যখন দুটো শিকারী প্রাণীকে তাদের মালিক শিকার ধরতে পাঠায়, এবং তারা উভয়ে একই শিকার ধরে, তখন তা হালাল। কিন্তু যখন দুটোর একটাকে পাঠানো হয় এবং অপরটাকে পাঠানো হয়না, তখন তা খাওয়া যাবেনা। রসূল (সা) বলেছেন: 'তুমি তো তোমার কুকুর পাঠানোর সময় আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করেছ, অন্যটা পাঠানোর সময় করনি।'
📄 ইহুদি ও খ্রিষ্টানের শিকারী কুকুর দ্বারা শিকার করা
ইহুদি ও খ্রিষ্টানের প্রশিক্ষিত কুকুর ও বাজপাখি দ্বারা শিকার করা জায়েয যদি শিকারকারী মুসলমান হয়।
📄 শিকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া
শিকারী যখন শিকারকে জীবিত অবস্থায় পায় অথচ তার কণ্ঠনালি ও শ্বাসনালি কাটা হয়ে গেছে, নাড়িভুড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং পেট থেকে যকৃত, পাকস্থলি ইত্যাদি বের হয়ে গেছে, তখন ঐ জন্তু আর কোনো জবাই ছাড়াই হালাল হয়ে যাবে। তবে যখন এমন অবস্থায় শিকারকে পাওয়া যাবে যে, তার মধ্যে জীবন স্থীতিশীল আছে, তখন তাকে জবাই করতেই হবে এবং জবাই ছাড়া হালাল হবে না।
📄 শিকার আহত হওয়ার পর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে
শিকারী যখন শিকারকে আঘাত করে আহত করে, তারপর তার কাছ থেকে দূরে চলে যায়, অত:পর তাকে মৃত অবস্থায় পায়, তখন উক্ত শিকার তিন শর্তে হালাল হবে:
১. এমন না হওয়া চাই যে, তা পাহাড় থেকে পড়েছে, বা তাকে পানিতে পাওয়া গেছে। কেননা এরূপ হলে শিকার উপর থেকে পতিত হয়ে বা নিমজ্জিত হয়ে মারা গেছে এমন হয়ে থাকতে পারে। বুখারি ও মুসলিম আদি ইবনে হাতিম (রা) থেকে বর্ণনা করেন: আমি (আদি) রসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি তীর নিক্ষেপ কালে আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ কর, এরপর যদি দেখ সে নিহত হয়েছে, তবে তা খাও। তাকে যদি পানিতে পতিত দেখতে পাও তবে খাবেনা। কেননা তুমি জান না তাকে তোমার তীর হত্যা করেছে না পানি।'
২. শিকারীর নিশ্চিত হওয়া চাই যে, তার নিক্ষেপেই শিকার নিহত হয়েছে, আর তার মধ্যে এমন কোনো আলামত না থাকা চাই যা অন্যের নিক্ষেপ বা অন্য কোনো প্রাণীর আঘাত প্রমাণ করে। আদি (রা) থেকে বর্ণিত, আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, আমি শিকারকে তীর নিক্ষেপ করি এবং পরের দিন তার দেহে আমার তীর পাই। রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: 'তুমি যখন নিশ্চিত হও যে, তোমার তীরই তাকে হত্যা করেছে, এবং তার দেহে কোনো হিংস্র জন্তুর আক্রমণের চিহ্ন না পাও তখন খাও।' বুখারির এক বর্ণনায় রয়েছে: 'আমরা শিকারের দিকে তীর ছুড়ে মারি, অত:পর তার পিছু পিছু দু'তিন দিন যাই, অত:পর তাকে মৃত পাই এবং তার দেহে তীর বিদ্ধ থাকে।' রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ইচ্ছা করলে সে খেতে পারে।
৩. শিকারের দেহে যেন এতটা বিকৃতি না আসে, যে দুর্গন্ধ হয়ে যায়। তেমন অবস্থা হলে তা হয়ে যাবে ক্ষতিকর বর্জ্য, যা খেতে মানুষের ঘৃণা হয়। আবু সা'লাবা খাশানি (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যখন তুমি শিকারকে তীর নিক্ষেপ করলে, অত:পর শিকার তিনদিন অদৃশ্য রইল, তারপর তাকে খুঁজে পেলে, তখন দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তা খেতে পার।' (মুসলিম)।