📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শিকারি জন্তু দ্বারা শিকার করার শর্তাবলী

📄 শিকারি জন্তু দ্বারা শিকার করার শর্তাবলী


বাজপাখি, চিতাবাঘ, কুকুর ইত্যাদি, যার শিক্ষা গ্রহণের যোগ্যতা আছে, তা দ্বারা শিকার করার উপর নিম্নোক্ত শর্তাবলী প্রযোজ্য:
১. প্রাণীটিকে শিকার শিক্ষা দেয়া। শিক্ষা কার্যকরী হচ্ছে বুঝা যাবে যদি তাকে যা আদেশ করা হয় তা করে এবং যা নিষেধ করা হয় তা থেকে বিরত থাকে।
২. ধৃত শিকার থেকে নিজে কিছু না খেয়ে মালিকের জন্য রেখে দেয়। যদি খায় তবে বুঝতে হবে সে নিজের জন্য ধরেছে এবং তার শিকার হালাল হবেনা। আদি ইবনে হাতিম বর্ণিত হাদিসে রসূল (সা) তাকে বললেন: 'তোমার শেখানো কুকুরদেরকে যখন শিকার ধরতে পাঠাও এবং তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর, তখন তারা যা তোমার জন্য ধরে আনে তা খাও। আর কুকুর নিজে যদি খায় তবে খাবেনা। কেননা আমার আশংকা হয়, তার শিকার তার নিজের জন্য ধৃত।'
৩. শিকারী প্রাণীকে তার মালিক কর্তৃক আল্লাহর নাম উচ্চারণ পূর্বক পাঠানো চাই। আল্লাহ্র নাম উচ্চারণের বিধান ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর প্রাণীটি ইচ্ছাকৃভাবে পাঠানো শিকারের বৈধতার অন্যতম শর্ত। শিকারী প্রাণী যদি স্বতস্ফূর্তভাবে মালিক কর্তৃক তাকে না পাঠানো সত্ত্বেও বা কোনো প্রকার উৎসাহ না দেয়া সত্ত্বেও শিকার ধরতে চলে যায়, তবে তার শিকার খাওয়া ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আবু সাওর প্রমুখের মতে হালাল হবেনা। কেননা তাকে না পাঠানো সত্ত্বেও সে কেবল নিজের জন্য শিকার করেছে এবং এতে শিকারী প্রাণীর মালিকের কোনো ভূমিকা নেই। কাজেই এ শিকার যে তার, তা বলা যাবেনা। কেননা এর উপর আদি ইবনে হাতেমের হাদিস প্রযোজ্য নয়। শর্তের মর্মার্থ দাঁড়ায়, যাকে পাঠানো হয়নি, সে বৈধ শিকারকারী নয়। কিন্তু আতা ও আওযায়ি বলেন: শিকারী প্রাণীকে যখন শিকার শেখানো হয়েছে এবং তাকে শিকারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তখন তার শিকার খাওয়া যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 একটি শিকার করায় দুটো শিকারী প্রাণী শরীক হওয়া

📄 একটি শিকার করায় দুটো শিকারী প্রাণী শরীক হওয়া


যখন দুটো শিকারী প্রাণীকে তাদের মালিক শিকার ধরতে পাঠায়, এবং তারা উভয়ে একই শিকার ধরে, তখন তা হালাল। কিন্তু যখন দুটোর একটাকে পাঠানো হয় এবং অপরটাকে পাঠানো হয়না, তখন তা খাওয়া যাবেনা। রসূল (সা) বলেছেন: 'তুমি তো তোমার কুকুর পাঠানোর সময় আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করেছ, অন্যটা পাঠানোর সময় করনি।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইহুদি ও খ্রিষ্টানের শিকারী কুকুর দ্বারা শিকার করা

📄 ইহুদি ও খ্রিষ্টানের শিকারী কুকুর দ্বারা শিকার করা


ইহুদি ও খ্রিষ্টানের প্রশিক্ষিত কুকুর ও বাজপাখি দ্বারা শিকার করা জায়েয যদি শিকারকারী মুসলমান হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শিকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া

📄 শিকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া


শিকারী যখন শিকারকে জীবিত অবস্থায় পায় অথচ তার কণ্ঠনালি ও শ্বাসনালি কাটা হয়ে গেছে, নাড়িভুড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং পেট থেকে যকৃত, পাকস্থলি ইত্যাদি বের হয়ে গেছে, তখন ঐ জন্তু আর কোনো জবাই ছাড়াই হালাল হয়ে যাবে। তবে যখন এমন অবস্থায় শিকারকে পাওয়া যাবে যে, তার মধ্যে জীবন স্থীতিশীল আছে, তখন তাকে জবাই করতেই হবে এবং জবাই ছাড়া হালাল হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00