📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবাইতে যা যা মাকরূহ

📄 জবাইতে যা যা মাকরূহ


১. ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে জবাই করা: কেননা শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা) থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: আল্লাহ্ সব কাজ ভালোভাবে করার আদেশ দিয়েছেন। কাজেই তোমরা যখন কোনো জন্তু জবাই করবে তখন ভালোভাবে জবাই কর। ছুরিকে ভালোভাবে ধার দিতে হবে ও জবাই করা জন্তুকে শান্তি দিতে হবে।
২. ইবনে উমর (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) জবাই এর অস্ত্র ধার দিতে ও জন্তুর দৃষ্টির আড়ালে ধার দিতে আদেশ দিয়েছেন। (আহমদ)।
৩. জবাই করা জন্তুর প্রাণ নির্গত হওয়ার আগে তার ঘাড় ভাঙ্গা বা চামড়া ছাড়ানো মাকরূহ, দারু কুতনি আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: প্রাণবায়ু নির্গত হওয়ার আগে তাড়াহুড়া করো না। তবে জবাই এর পূর্বে কেবলামুখী হওয়া মুস্তাহাব এমন কোনো কথা কুরআন বা হাদিসে নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মৃত্যুর মুখোমুখি বা ক্ষুধাক্সয়ায় জবাই করা

📄 মৃত্যুর মুখোমুখি বা ক্ষুধাক্সয়ায় জবাই করা


কোনো প্রাণীকে জবাই করার মুহূর্তে যদি সে জীবিত থাকে তবে তা খাওয়া হালাল হবে, যদিও নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তার ঐ জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী হতো এবং কোনো প্রাণী ঐ অবস্থায় বেঁচে থাকেনা। অনুরূপ যে রুগ্ন প্রাণীর বাঁচার আশা নেই, তাকে জীবিত থাকতে থাকতে জবাই করা হলে তা খাওয়া হালাল। জবাই করাকালে তার প্রাণ ছিলো এটা বুঝা যাবে তার হাত পা ও লেজের নড়াচড়া, শ্বাসপ্রশ্বাস চলা ইত্যাদি দ্বারা। কিন্তু সে যদি প্রাণবায়ু নির্গত হওয়ার অবস্থায় পৌছে যায় এবং হাত পা না নাড়ায়, তবে সে অবস্থায় তাকে মৃত প্রাণী বিবেচনা করা হবে এবং জবাই দ্বারা তাকে হালাল করা যাবে না। কারণ সূরা মায়িদার ৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرَ اللهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمُوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ والنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ . 'তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মরা, রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ্ ব্যতীত অপরের নামে যবাই করা পশু, শ্বাসরোধ মৃত জন্তু, প্রহারের মৃত জন্তু, পতনে মৃত জন্তু, শৃংগাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু, তবে যা তোমরা জবাই করতে পেরেছ তা ব্যতীত।' অর্থাৎ এ সব জন্তু তোমাদের জন্য হারাম, কেবল এগুলোর মধ্য থেকে যা তোমরা জীবিতাবস্থায় পাও ও জবাই কর। এই জবাই এগুলোকে হালাল করে।
ইমাম আব্বাস (রা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো: একটা বাঘ একটা ছাগলের উপর হামলা করে তার পেট ছিঁড়ে ফেলেছে, অত:পর তার নাড়িভুড়ি বেরিয়ে পড়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে যবাই করা হয়েছে, তার কী হবে? তিনি বললেন: খাও। কিন্তু তার নাড়িভুড়ির যেটুকু বেরিয়ে গেছে তা খাবে না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবাইর কাজ সম্পূর্ণ না করে হাত সরানো

📄 জবাইর কাজ সম্পূর্ণ না করে হাত সরানো


জবাইকারী জবাইর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে যদি হাত সরায়, অত:পর তৎক্ষণাৎ আবার হাত ফিরিয়ে আনে ও জবাই সম্পূর্ণ করে, তবে এটা বৈধ। কেননা সে জন্তুটিকে আহত করেছে অত:পর জীবিত থাকতেই তাকে জবাই করেছে। এমতাবস্থায় জন্তুটি আল্লাহ্র এই উক্তির আওতায় পড়ে: 'তবে যা তোমরা জবাই করতে পেরেছ তা ব্যতীত।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবাই করা অঙ্গসব হয়ে পড়লে জন্তুকে আহত করা

📄 জবাই করা অঙ্গসব হয়ে পড়লে জন্তুকে আহত করা


যে জন্তু জবাই করলে হালাল হয়, তাকে জবাই করা সম্ভব হলে জবাইর জায়গাতেই জবাই করতে হবে। আর তা সম্ভব না হলে জন্তুর শরীরের যে কোনো স্থানে আঘাত করলেই তাতে জবাই সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবে শর্ত এই যে, আঘাতটা যেন এমন রক্ত প্রবাহকারী হয়, যা দ্বারা হত্যা সংঘটিত করা সম্ভব হয়।
রাফে' ইবনে খাদীজ (রা) বলেন: আমরা রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে একটা সফরে ছিলাম। আমাদের সফর সংগীদের একটা উট সহসা ছুটে পালালো। অথচ আমাদের সাথে কোনো ঘোড়া ছিলনা। তখন এক ব্যক্তি একটা বর্ণা ছুড়ে মেরে তাকে থামালো। রসূল (সা) বললেন: এই সব জীবজন্তুর মধ্যে কতক আছে জংলী স্বভাবের। কাজেই তাদের মধ্যে যে জন্তু এরকম কাজ করবে, তার সাথে তোমরাও এরকম আচরণ করবে।' বুখারি ও মুসলিম।
আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজা আবুল আশ্রা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বললেন: হে রসূলুল্লাহ্, জবাই তো কেবল গলায় বা বুকের উপরি ভাগে হয়, তাই নয় কি? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তার উরুতে আঘাত করলেও যথেষ্ট হবে।' ইমাম আবুদাউদ বলেন: 'এটা শুধু পতনের কারণে মৃত ও জংলী জানোয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।' ইমাম তিরমিযি বলেন: এটা শুধু অস্বাভাবিক অবস্থায় প্রযোজ্য, যেমন অবাধ্য, উচ্ছৃংখল ও ছুটে যাওয়া জন্তুর ক্ষেত্রে, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়না, অথবা যে জন্তু পানিতে পড়ে গেছে এবং তার ডুবে মরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ধরনের জন্তুর দিকে যদি ছোরা বা বর্শা ছুড়ে মারা হয় এবং তার ফলে তার রক্ত প্রবাহিত হয়ে মারা যায়, তাহলে তা হালাল হবে।
ইমাম বুখারি আলি, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমার ও আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন: 'যে জন্তু তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, সে জন্তু শিকার করার জন্তুর মতো। আর যে জন্তু কোনো কুয়ায় পড়ে যায় তার উপর যখন যেভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যাবে সেভাবেই তাকে জবাই করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00